যুক্তরাষ্ট্র কাউকে রক্ষা করে না, সবাইকে ইসরায়েলের জন্য কোরবানি দেয়: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ , ১০:৩০ পিএম


যুক্তরাষ্ট্র কাউকে রক্ষা করে না, ইসরায়েলের জন্য সবাইকে কোরবানি দেয়: ইরান
ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের। ফাইল ছবি

উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি ও সেনা উপস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরান।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৪ মার্চ) দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোহাম্মদ বাকের বলেন, ‌‘চলমান যুদ্ধ একটি বিষয় খুব পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করেছে, আমাদের অঞ্চলে থাকা আমেরিকান ঘাঁটিগুলো কাউকে সুরক্ষা দেয় না; বরং এগুলো হুমকি।’

বিজ্ঞাপন

একইসঙ্গে তিনি বলেন, আমেরিকা ইসরায়েলের জন্য সবাইকে কোরবানি দেয় এবং ইসরায়েল ছাড়া আর কারও ব্যাপারে তাদের কোনও মাথাব্যথা নেই।

ইরানের এই স্পিকার আরও বলেন, আমেরিকার ওপর নির্ভর করে বা তাদের আশ্রয়ে যারা থাকে, তারা আক্ষরিক অর্থেই নগ্ন কিংবা অরক্ষিত!

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারকে হত্যা করে তারা। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানও। ১৫ দিন ধরে চলমান এই হামলা-পাল্টা হামলায় ইতোমধ্যে ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য।

এরই মধ্যে ইরানের আগ্রাসী পদক্ষেপের মুখে একেবারে দুর্বল হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পূর্ব এশিয়ার বন্ধু দেশ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে নিজেদের টার্মিনাল হাই-অল্টিচ্যুড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ব্যবস্থা সরিয়ে ইসরায়েলে স্থানান্তর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে আকাশপথে সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে একরকম প্রতিরোধ ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ গ্রহণের খবর প্রকাশ হতেই জাপান সাগরে পর পর ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। শুক্রবার (১৩ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটে রাজধানী পিয়ংইয়ং-এর কাছাকাছি এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জাপানের কোস্টগার্ড বাহিনী এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী।

গত দুই দশক ধরেই জাপান সাগর, পূর্ব চীন সাগর ও কোরিয়া প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করছে পিয়ংইয়ং। বেপরোয়াভাবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কারণে ২০০৬ জালে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে জাতিসংঘ, কিন্তু পিয়ংইয়ংকে দমানো যায়নি। উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে নিজেদের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ বছর আগে দেশটিতে থাড মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে, সম্প্রতি ওয়াশিংটন সিউল-কে জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে থাড।

শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার দৈনিক জুনআং এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। আর জুনআং-এ এই প্রতিবেদন প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই জাপান সাগরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার নির্দেশ দিলেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন।

এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও দেশ স্বাভাবিকভাবেই চলছে বলে বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই অন্যায্য যুদ্ধের ১৫ দিন পার হয়েছে। পরিবহন, যোগাযোগসহ নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও সরকারের সকল সহকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে জনগণের দোরগোড়ায় পরিষেবা পৌঁছানোয় বড় ধরনের কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি। 

ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের জনগণের সহায়তায় আমরা এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠব এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যা কিছু ধ্বংস করেছে; তা আগের চেয়েও সুন্দরভাবে পুনর্নির্মাণ করব।

আরটিভি/এসএইচএম

 

 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission