ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

‘যুক্তরাষ্ট্র কাউকে রক্ষা করে না, সবাইকে ইসরায়েলের জন্য কোরবানি দেয়’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের। ফাইল ছবি

উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি ও সেনা উপস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরান।

শনিবার (১৪ মার্চ) দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোহাম্মদ বাকের বলেন, ‌‘চলমান যুদ্ধ একটি বিষয় খুব পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করেছে, আমাদের অঞ্চলে থাকা আমেরিকান ঘাঁটিগুলো কাউকে সুরক্ষা দেয় না; বরং এগুলো হুমকি।’

একইসঙ্গে তিনি বলেন, আমেরিকা ইসরায়েলের জন্য সবাইকে কোরবানি দেয় এবং ইসরায়েল ছাড়া আর কারও ব্যাপারে তাদের কোনও মাথাব্যথা নেই।

ইরানের এই স্পিকার আরও বলেন, আমেরিকার ওপর নির্ভর করে বা তাদের আশ্রয়ে যারা থাকে, তারা আক্ষরিক অর্থেই নগ্ন কিংবা অরক্ষিত!

আরও পড়ুন

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারকে হত্যা করে তারা। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানও। ১৫ দিন ধরে চলমান এই হামলা-পাল্টা হামলায় ইতোমধ্যে ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য।

এরই মধ্যে ইরানের আগ্রাসী পদক্ষেপের মুখে একেবারে দুর্বল হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পূর্ব এশিয়ার বন্ধু দেশ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে নিজেদের টার্মিনাল হাই-অল্টিচ্যুড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ব্যবস্থা সরিয়ে ইসরায়েলে স্থানান্তর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে আকাশপথে সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে একরকম প্রতিরোধ ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ গ্রহণের খবর প্রকাশ হতেই জাপান সাগরে পর পর ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। শুক্রবার (১৩ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটে রাজধানী পিয়ংইয়ং-এর কাছাকাছি এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জাপানের কোস্টগার্ড বাহিনী এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী।

গত দুই দশক ধরেই জাপান সাগর, পূর্ব চীন সাগর ও কোরিয়া প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করছে পিয়ংইয়ং। বেপরোয়াভাবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কারণে ২০০৬ জালে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে জাতিসংঘ, কিন্তু পিয়ংইয়ংকে দমানো যায়নি। উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে নিজেদের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ বছর আগে দেশটিতে থাড মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে, সম্প্রতি ওয়াশিংটন সিউল-কে জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে থাড।

শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার দৈনিক জুনআং এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। আর জুনআং-এ এই প্রতিবেদন প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই জাপান সাগরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার নির্দেশ দিলেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন।

এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও দেশ স্বাভাবিকভাবেই চলছে বলে বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই অন্যায্য যুদ্ধের ১৫ দিন পার হয়েছে। পরিবহন, যোগাযোগসহ নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও সরকারের সকল সহকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে জনগণের দোরগোড়ায় পরিষেবা পৌঁছানোয় বড় ধরনের কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের জনগণের সহায়তায় আমরা এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠব এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যা কিছু ধ্বংস করেছে; তা আগের চেয়েও সুন্দরভাবে পুনর্নির্মাণ করব।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ থেকে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ক্ষমতা হারানোর পথে নেতানিয়াহু, সরকার গঠনে এগিয়ে আইজেনকট!
গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকট—কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি।
ক্ষমতা হারানোর পথে নেতানিয়াহু, সরকার গঠনে এগিয়ে আইজেনকট!
সৌদিজুড়ে সতর্কতা জারি
সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত, বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম)। শনিবার (৭ নভেম্বর) পর্যন্ত এই আবহাওয়া পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। খবর গালফ নিউজের মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত পূর্বাভাসে এনসিএম জানায়, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে ভারী বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ সময় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি বেগে ঝোড়ো হাওয়া, ধূলিঝড় এবং নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, জাজান, আসির, আল বাহা ও মক্কা অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া মদিনা, তাবুক, আল জউফ, নর্দার্ন বর্ডার, হাইল ও নাজরান অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। মক্কা নগরী ছাড়াও তায়েফ, আল জুমুম, বাহরা, মাইসান, আদহাম ও আল আরদিয়াত এলাকায় শনিবার পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, জেদ্দা, রাবিগ ও খুলাইস এলাকায় মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পর্যন্ত হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে। এনসিএম আরও জানিয়েছে, ঝড়ের সময় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। এতে সড়কে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় উত্তাল ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও টর্নেডো ও জলস্তম্ভ তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি আবহাওয়া কেন্দ্রের হালনাগাদ পূর্বাভাস ও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলাচল না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সূত্র: গালফ নিউজ আরটিভি/এসকে
সৌদিজুড়ে সতর্কতা জারি
বৃষ্টির জন্য নামাজ পড়বেন কাতারের আমির
কাতারে বৃষ্টির জন্য বিশেষ নামাজ ‘সালাতুল ইস্তিসকা’ আদায়ের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।
বৃষ্টির জন্য নামাজ পড়বেন কাতারের আমির
স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ, বন্ধুকে হত্যার দায়ে কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে প্রকাশের জেরে বন্ধুকে হত্যার দায়ে এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কুয়েতের একটি ফৌজদারি আদালত।
স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ, বন্ধুকে হত্যার দায়ে কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
আরও পড়ুন
ভুয়া তথ্যে করোনার ১৮ মিলিয়ন ডলারের অনুদান লুট, অভিযুক্ত মার্কিন নারী 
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের এককভাবে বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য: স্পিকার
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
নির্বাচনে ভরাডুবির পর ট্রাম্পকে পথ বদলানোর চাপ রিপাবলিকানদের