ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

অনলাইনে স্পার্ম খুঁজতে গিয়ে ভয়ংকর ফাঁদে নারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
প্রতীকী ছবি

অনলাইনে সাশ্রয়ীমূল্যে শুক্রাণু বা স্পার্ম খুঁজতে গিয়ে ভয়ংকর ফাঁদে পড়ছেন নারীরা; অনেককেই হতে হচ্ছে যৌন হয়রানির শিকার।

ইউরোপের দেশ যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে এমনই তথ্য তুলে ধরেছে বিবিসি ওয়েলস-এর এক অনুসন্ধানী দল।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, বৈধ উপায়ে বন্ধ্যাত্ব বা ফার্টিলিটি চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে অনেক ব্রিটিশ নারী বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বিকল্প খুঁজছেন, যা তাদের সামাজিক বাস্তবতা। ফলে বড় ধরনের অনিয়ন্ত্রিত বাজার তৈরি হচ্ছে, যেখানে কেউ কেউ শুক্রাণু খোঁজার জন্য ‘টিন্ডার ফর স্পার্ম’-এর মতো ওয়েবসাইটের দিকেও ঝুঁকছেন।

অনুসন্ধানী দলটি অনলাইনে শুক্রাণুর বিজ্ঞাপন দেওয়া একজন ব্যক্তির কাছ থেকে ডেলিভারির শর্তে ১০০ পাউন্ডের বিনিময়ে নমুনা সংগ্রহ করেছে। ওই ব্যক্তি অনলাইনে তার এ নমুনাকে ‘বেবি ব্যাটার’ হিসেবে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন এবং সেটি টমেটো পাতার হিমায়িত এক কার্টনের সঙ্গে এক বাক্সে ভরে পাঠিয়েছিলেন।

যুক্তরাজ্যের ফার্টিলিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, নারীরা এখানে ‘শিকারী ও সুবিধাবাদী দাতাদের মাধ্যমে নিপীড়নের’ ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিবিসি দেখেছে অনলাইনে শুক্রাণু সংগ্রহ করা অনেক সহজ এবং সেখানে সেবা দিতে আগ্রহী পুরুষের কোনো অভাবও নেই।

অনলাইনের এক বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ডাকযোগে ডেলিভারির জন্য ‘জো ডোনার’ নামের এক ব্যক্তির ওপর ‘ভরসা’ করতে। ‘জো ডোনার’ একজন অতি-সক্রিয় দাতা এবং তার দাবি, সরাসরি শারীরিক সম্পর্ক ও কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তার ১৮০টি সন্তান রয়েছে।

আরও পড়ুন

অনিয়ন্ত্রিত শুক্রাণু দানের বিপদ সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করতে কার্ডিফের এক ফ্যামিলি কোর্টের বিচারক ব্যতিক্রমী একটি পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি জনস্বার্থে এ ব্যক্তির আসল নাম ‘রবার্ট অ্যালবন’ বলে প্রকাশ করেছেন। এক ছদ্মনাম ব্যবহার করে বিবিসি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তার কাছ থেকে পরদিনই ডেলিভারি নিশ্চিত করতে বিবিসির কেবল কয়েকটি ইমেইল ও সংক্ষিপ্ত এক ফোন কলের প্রয়োজন হয়েছে।

এক্ষেত্রে বিবিসির পরিচয় যাচাইয়ের কোনো প্রয়োজন মনে করেননি ওই ব্যক্তি। এমনকি তিনি এমন কোনো হেলথ চেক বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্টও নিজে থেকে বিবিসিকে দেখাননি। তিনি ডাকযোগের মাধ্যমে নগদ ১০০ পাউন্ড চার্জ করেছিলেন এবং এক সিরিঞ্জ করে শুক্রাণু পাঠিয়েছিলেন, যা ঠাণ্ডা রাখার জন্য বরফের টুকরার বদলে টমেটো পাতার বক্স ব্যবহার করেছেন।

নমুনাটি পাওয়ার চার ঘণ্টা পর লাইসেন্সপ্রাপ্ত ক্লিনিকে তা পরীক্ষা করিয়েছে বিবিসি। চিকিৎসকেরা বলেছেন, এর ভেতরের সব শুক্রাণু কোষ মৃত।

শুক্রাণু খুঁজছেন এমন নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অ্যালবন এবং আরও শত শত পুরুষ ফেইসবুক ব্যবহার করছেন, সেখানকার কিছু কিছু দলের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার পর্যন্ত।

এ ধরনের এক ডোনার দলে যোগ দিয়ে বিবিসি দেখেছে, সেখানে কিছু মেসেজ বেশ আন্তরিক হলেও অনেকেই সরাসরি শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব, নমুনার জন্য অর্থ দাবি, অন্তরঙ্গ ছবি ও দেখা করার ব্যবস্থা করতে অনবরত মেসেজ পাঠান।

কিছু পুরুষ ক্রমাগত শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দিতে থাকে এবং বোঝানোর চেষ্টা করে, এটাই গর্ভধারণের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকর উপায় হবে।

ওই দলে একজন নারীকে পোস্টে সতর্ক করতে দেখা গিয়েছে, যেখানে তিনি লিখেছেন, নর্থ ওয়েলসের এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি শুক্রাণু নিয়েছিলেন। তবে পরে জানতে পারেন যে ওই ব্যক্তি একজন দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী।

‘হিউম্যান ফার্টিলাইজেশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজি অথরিটি’ বা এইচএফইএ বলেছে, তাদের লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোম্পানির বাইরে যে কোনো ধরনের শুক্রাণু দানই অনিয়ন্ত্রিত ও যুক্তরাজ্যের আইন অনুসারে তা ফৌজদারি অপরাধ।

সাউথ ওয়েলসের তিয়ানা ও তার স্ত্রী নিকিও এ অনিয়ন্ত্রিত প্রজনন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকেছিলেন। তারা বলেছেন, এনএইচএস থেকে সরকারি অর্থায়নের সুযোগ পাওয়ার যোগ্য তারা ছিলেন না, আর বেসরকারিভাবে এ চিকিৎসা করানো তাদের জন্য ব্যয়বহুল।

তিয়ানা বলেছেন, ‘এখানে আপনি এমন কিছু অদ্ভুত মানুষের মুখোমুখি হবেন যারা সম্পূর্ণ ভুল ও অনৈতিক উদ্দেশ্যে এসব কাজ করছে।’

এ দম্পতি কৃত্রিম প্রজনন খুঁজছিলেন তবে তারা বলেছেন, পুরুষেরা প্রায়শই সবচেয়ে ভালো উপায় হিসেবে সরাসরি শারীরিক সম্পর্কের পরামর্শ দিতেন।

তিয়ানা ও নিকি শেষ পর্যন্ত ‘কো-প্যারেন্টিং’ নামের ওয়েবসাইটে এমন একজন দাতার সন্ধান পান যাকে তাদের নিরাপদ মনে হয়েছে। পরবর্তীতে তারা একটি চুক্তি করেন, যাতে যোগাযোগ ও অভিভাবকের অধিকার সংক্রান্ত পরিকল্পনার বিষয়ে সব পক্ষই স্পষ্ট ধারণা পায়।

তবে, এমনটা কোনো আইনি চুক্তি নয়। তিয়ানা বলেছেন, ভবিষ্যতে এমন একটা সম্ভাবনা থেকেই যায়, দাতা ভবিষ্যতে এসে সন্তানের ওপর নিজের দাবি করে আমাদের আদালতের মুখোমুখি করতে পারেন। তবে আমি মনে করি এমনটা বন্ধের জন্য আমরা সম্ভাব্য সবকিছুই করে রেখেছি এবং আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি তিনি আমাদের সঙ্গে এমন করবেন না।

এ অনিয়ন্ত্রিত দাতারা বিভিন্ন উপায়ে তাদের সেবা দিয়ে থাকে; যার মধ্যে কেউ কেউ সরাসরি শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়, আবার কেউ কেউ কৃত্রিম প্রজননের জন্য বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে উড়ে যাওয়ার যাতায়াত খরচ দাবি করে বসে।

২৫ বছর বয়সী ড্যানিয়েল বায়েন থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। তবে, কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে শুক্রাণু দান করতে ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে তিনি যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন। তার দাবি, এ সফরের ফলে চারটি শিশুর জন্ম হয়েছে।

বিবিসি তিন দিন ধরে ড্যানিয়েলের তথ্যচিত্র ধারণ করেছে। ড্যানিয়েল তার অনলাইন ভিডিওগুলোতে নিজেকে একাধারে ‘সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া দাতা’ ও ‘অলাভজনক’ উদ্দেশ্যে কাজ করা ব্যক্তি হিসেবে দাবি করেছেন।

তবে, তার ভাষ্য, যুক্তরাজ্যের গ্রাহকদের কাছ থেকে তিনি কেবল যাতায়াত খরচই চেয়েছেন। তবে অন্য জায়গায় ডোনেশনের জন্য তাকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত অফার করা হয়েছিল বলে দাবি করেন ড্যানিয়েল।

যাদের খরচ করার মতো অর্থ আছে, তাদের এই দুর্বলতার সুযোগ নেওয়ার বিষয়ে বিবিসির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, অন্য লোকে কী ভাবল তা নিয়ে আমি সত্যিই পরোয়া করি না। আমি যাদের সঙ্গে কাজ করি, সেসব শিশু ও পরিবারের জন্য কোনটা সবচেয়ে ভালো আমি কেবল সেটাই ভাবি।

নিজেকে একজন ‘ওপেন ডোনার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ড্যানিয়েল বলেছেন, অবশ্যই, আপনার স্বাস্থ্য ও এসডিআই বা যৌনবাহিত রোগ পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে মিথ্যা বলা উচিত নয়। তবে আপনি কোথায় কাজ করেন, কী করেন বা গ্রহীতাদের মামলা করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য না দেওয়াটা একদম ঠিক আছে। যেমন ধরুন আপনার পুরো নাম বা ঠিকানা।

ড্যানিয়েলের দাবি, যুক্তরাজ্যে শুক্রাণু দেওয়ার সময় তিনি কোনো আইন ভঙ্গ করেননি।

যুক্তরাজ্যের লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিভিন্ন ক্লিনিক এইচএফইএ-এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে বিশেষ এক পেইজ তৈরি করেছে, যেখানে মানুষ এ সংক্রান্ত আইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন।

এইচএফইএ বলেছে, তারা বেশ কয়েকজন অতি-সক্রিয় অনিয়ন্ত্রিত দাতাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। মানুষের ব্যবহারের জন্য ডিম্বাণু বা শুক্রাণু ‘ব্যবহার, সংরক্ষণ, সংগ্রহ, পরীক্ষা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিতরণ’ করা সম্পূর্ণ অবৈধ, যদি না এসব কাজ এইচএফই-এর লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোনো ক্লিনিকে হয়।

এইচএফইএ-এর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর ক্লেয়ার এটিংহাউসেন বলেছেন, আইন একেবারে স্পষ্ট যে, এইচএফইএ-এর লাইসেন্স ছাড়া আপনি শুক্রাণু প্রক্রিয়াজাত বা বিতরণ করতে পারবেন না। ডাকযোগে পাঠিয়ে সে আসলে এ আইনটিই লঙ্ঘন করছেন ড্যানিয়েল।

এর জবাবে অ্যালবন বলেছেন, এসব নিয়ম তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ তার ধারণা, ব্যক্তিগতভাবে শুক্রাণু দান করা, যার মধ্যে এর জন্য চার্জ করাও অন্তর্ভুক্ত তা সম্পূর্ণ আইনি ও বৈধ। তিনি কোনো অসহায় বা দুর্বল নারীর জন্য ‘সরাসরি কোনো হুমকি’ নন।

এটিংহাউসেন বলেছেন, ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটা ‘আইন ভাঙার এ প্রক্রিয়াটিকে সহজতর করে তুলছে’। মার্চে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের একটি সিলেক্ট কমিটিতেও তিনি এ বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন।

এইচএফইএ বলেছে, তারা এ বিষয়ে সরাসরি মেটার সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে। তবে বাস্তবতার নিরিখে এটিংহাউসেন বলেছেন, এ ধরনের সামাজিক মাধ্যম দলগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলে এ অনৈতিক চর্চাটি হয়ত অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হবে।

তিনি নারীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার ভাষ্য, এসব দাতার মধ্যে কেউ কেউ কেবল ন্যাচারাল ইনসেমিনেশন বা সরাসরি শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে শুক্রাণু দানের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, যা কিছু ক্ষেত্রে নারীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তাদের শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য বা প্ররোচিত করার শামিল।

ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটা বলেছে, তারা ‘তাদের সঙ্গে শেয়ার করা যে কোনো গ্রুপ বা পোস্ট পর্যালোচনা করবে এবং তাদের নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে এমন কনটেন্ট সরিয়ে দেবে’। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর জন্য আমাদের নির্দিষ্ট রিপোর্টিং প্রক্রিয়া রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা এমন কনটেন্ট চিহ্নিত করতে পারে, যা হয়ত আমাদের পলিসি ভাঙছে না তবে স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করছে। এ বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছি।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গাজা নিয়ে ট্রাম্পকে তুলোধুনো ম্যাক্রোঁর 
গাজায় কথিত শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
গাজা নিয়ে ট্রাম্পকে তুলোধুনো ম্যাক্রোঁর 
প্রায় ১০০ শতাংশ ভোট পেয়ে রমজান কাদিরভের বিজয়
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র রমজান কাদিরভ প্রায় ১০০ শতাংশ ভোট পেয়ে পঞ্চমবারের মতো রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মুসলিম-অধ্যুষিত চেচনিয়া প্রজাতন্ত্রের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।  সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার নির্বাচন কমিশন এ তথ্য জানিয়েছে। রয়টার্স বলছে, রোববার রাশিয়ায় জাতীয় সংসদ, আঞ্চলিক আইনসভা ও গভর্নর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় পর দেশটির কঠোর নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য এই নির্বাচনকে একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ফলাফল অনুযায়ী, অধিকাংশ যুদ্ধবিরোধী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ না পাওয়ায় ক্রেমলিন-সমর্থিত দল ও প্রার্থীরা ব্যাপক জয় পেয়েছেন। রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, চেচনিয়ায় কাদিরভ ৯৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন ৯৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভোট। ছোট ও পাহাড়ি এই অঞ্চলের নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে অতীতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা তীব্র সমালোচনা করেছেন। কাদিরভ অবশ্য এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে এগুলোকে তার শাসন দুর্বল করার পশ্চিমা-সমর্থিত প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেন। তিনি নিয়মিতই পুতিনের প্রতি নিজের ব্যক্তিগত আনুগত্যের কথা তুলে ধরেন। ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রেও তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং দাবি করেন, ২০২২ সাল থেকে তার চেচেন বাহিনী সেখানে লড়াই করছে। পুতিনের কাছ থেকে ব্যাপক স্বাধীনতা পেয়ে কাদিরভ চেচনিয়াকে অনেকটাই নিজের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলের মতো পরিচালনা করেন। এর বিনিময়ে ইসলামপন্থি ও রাশিয়াবিরোধী বিদ্রোহে উত্তাল ১৯৯০-এর দশকের পর অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। কাদিরভের ক্ষমতায় উত্থান ঘটে তার বাবা আখমাত কাদিরভের মৃত্যুর পর। ২০০৪ সালে বিদ্রোহীদের চালানো এক বোমা হামলায় আখমাত নিহত হন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে কাদিরভের সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।  এর মধ্যে সাংবাদিক ও সমকামী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন কাদিরভ। আরটিভি/এসআর
প্রায় ১০০ শতাংশ ভোট পেয়ে রমজান কাদিরভের বিজয়
দাদির বাড়ি থেকে শটগান এনে স্কুলের সামনে গুলি ছুড়ল শিক্ষার্থী, আহত ১১
তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলে একটি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এক বন্দুকধারীর চালানো গুলিতে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে মানিসা প্রদেশের তুরগুতলু জেলায় এ ঘটনা ঘটে। সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে আটক করেছে পুলিশ বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানা গেছে। মানিসা প্রদেশের গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, তুরগুতলু জেলার একটি ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল হাইস্কুলের সামনে এ হামলা হয়। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম হাবেরতুর্ক জানিয়েছে, সন্দেহভাজন হামলাকারী ইনচি উজমেজ ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল আনাতোলিয়ান হাইস্কুল নামে ওই স্কুলেরই শিক্ষার্থী। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সে তার দাদির বাড়ি থেকে নেওয়া একটি শটগান নিয়ে স্কুলের সামনে আসে। এরপর আশপাশে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে পায়ে হেঁটে পালানোর চেষ্টা করে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে একজনকে স্কুলের কাছের একটি সড়কে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা গেছে। অন্য কয়েকটি ভিডিওতে তাকে অস্ত্র হাতে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে হামলার কারণ এখনো জানা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক বলেন, আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে অন্তত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিচারমন্ত্রী গুরলেক আরও জানান, ঘটনাটি তদন্তে দুজন প্রধান কৌঁসুলিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্কুলে ওই শিক্ষার্থীকে হয়রানি বা নির্যাতন করা হয়েছিল কি না, সেই অভিযোগও তদন্ত করা হবে। তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন হামলাকারীর মা-বাবা এবং তার দাদাকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অস্ত্রটির মালিক ছিলেন ওই দাদা। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা দ্রুত স্কুলে ছুটে যান। তবে পুলিশ স্কুল ভবনে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দিলে অভিভাবকদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা বাগ্‌বিতণ্ডা হয় বলে তুরস্কের সংবাদপত্র জুমহুরিয়েত জানিয়েছে। ঘটনার পর তুরস্কের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এই ঘটনায় ‘আমাদের জাতি এবং বিশেষ করে শিক্ষাঙ্গনের মানুষ গভীরভাবে মর্মাহত’। ঘটনা তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তিনজন জাতীয় পর্যায়ের তদন্তকারীকে মানিসায় পাঠানো হয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। চলতি বছর তুরস্কে আরও দুটি স্কুলে গুলির ঘটনার কয়েক মাস পর এই হামলা হলো। গত সপ্তাহে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময় দেশটির সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা বাড়িয়েছিল। এপ্রিল মাসে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সানলিউরফা প্রদেশের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে সাবেক এক শিক্ষার্থী গুলি চালায়। এতে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীসহ ১৬ জন আহত হন। পরে ওই হামলাকারী আত্মহত্যা করে। এর পরদিন কাছের কাহরামানমারাশ প্রদেশের একটি স্কুলের দুটি শ্রেণিকক্ষে গুলি চালায় ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। এতে আটজন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক নিহত হন। আহত হন আরও ১৩ জন। পরে পুলিশের গুলিতে ওই হামলাকারী নিহত হয়। আরটিভি/এসআর
দাদির বাড়ি থেকে শটগান এনে স্কুলের সামনে গুলি ছুড়ল শিক্ষার্থী, আহত ১১
জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক আজ
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে বৈঠক করবেন।
জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক আজ
হঠাৎ ভয়ংকর ইউক্রেন, পুড়ছে মস্কো
রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও এর আশপাশের অঞ্চলে নজিরবিহীন ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।
হঠাৎ ভয়ংকর ইউক্রেন, পুড়ছে মস্কো
আরও পড়ুন
নারী রেফারিকে হেনস্তার অভিযোগে বরখাস্ত হিগুয়েইন
এশিয়ান গেমস: মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, বাংলাদেশের বিদায়
দুই গ্রামে শিয়ালের তাণ্ডব, নারী-শিশুসহ আহত ৯
কুমিল্লায় মা-ভাতিজিকে কুপিয়ে হত্যা, ভাবীর অবস্থা আশংকাজনক