ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

অনলাইনে স্পার্ম খুঁজতে গিয়ে ভয়ংকর ফাঁদে নারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
প্রতীকী ছবি

অনলাইনে সাশ্রয়ীমূল্যে শুক্রাণু বা স্পার্ম খুঁজতে গিয়ে ভয়ংকর ফাঁদে পড়ছেন নারীরা; অনেককেই হতে হচ্ছে যৌন হয়রানির শিকার।

ইউরোপের দেশ যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে এমনই তথ্য তুলে ধরেছে বিবিসি ওয়েলস-এর এক অনুসন্ধানী দল।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, বৈধ উপায়ে বন্ধ্যাত্ব বা ফার্টিলিটি চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে অনেক ব্রিটিশ নারী বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বিকল্প খুঁজছেন, যা তাদের সামাজিক বাস্তবতা। ফলে বড় ধরনের অনিয়ন্ত্রিত বাজার তৈরি হচ্ছে, যেখানে কেউ কেউ শুক্রাণু খোঁজার জন্য ‘টিন্ডার ফর স্পার্ম’-এর মতো ওয়েবসাইটের দিকেও ঝুঁকছেন।

অনুসন্ধানী দলটি অনলাইনে শুক্রাণুর বিজ্ঞাপন দেওয়া একজন ব্যক্তির কাছ থেকে ডেলিভারির শর্তে ১০০ পাউন্ডের বিনিময়ে নমুনা সংগ্রহ করেছে। ওই ব্যক্তি অনলাইনে তার এ নমুনাকে ‘বেবি ব্যাটার’ হিসেবে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন এবং সেটি টমেটো পাতার হিমায়িত এক কার্টনের সঙ্গে এক বাক্সে ভরে পাঠিয়েছিলেন।

যুক্তরাজ্যের ফার্টিলিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, নারীরা এখানে ‘শিকারী ও সুবিধাবাদী দাতাদের মাধ্যমে নিপীড়নের’ ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিবিসি দেখেছে অনলাইনে শুক্রাণু সংগ্রহ করা অনেক সহজ এবং সেখানে সেবা দিতে আগ্রহী পুরুষের কোনো অভাবও নেই।

অনলাইনের এক বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ডাকযোগে ডেলিভারির জন্য ‘জো ডোনার’ নামের এক ব্যক্তির ওপর ‘ভরসা’ করতে। ‘জো ডোনার’ একজন অতি-সক্রিয় দাতা এবং তার দাবি, সরাসরি শারীরিক সম্পর্ক ও কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তার ১৮০টি সন্তান রয়েছে।

আরও পড়ুন

অনিয়ন্ত্রিত শুক্রাণু দানের বিপদ সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করতে কার্ডিফের এক ফ্যামিলি কোর্টের বিচারক ব্যতিক্রমী একটি পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি জনস্বার্থে এ ব্যক্তির আসল নাম ‘রবার্ট অ্যালবন’ বলে প্রকাশ করেছেন। এক ছদ্মনাম ব্যবহার করে বিবিসি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তার কাছ থেকে পরদিনই ডেলিভারি নিশ্চিত করতে বিবিসির কেবল কয়েকটি ইমেইল ও সংক্ষিপ্ত এক ফোন কলের প্রয়োজন হয়েছে।

এক্ষেত্রে বিবিসির পরিচয় যাচাইয়ের কোনো প্রয়োজন মনে করেননি ওই ব্যক্তি। এমনকি তিনি এমন কোনো হেলথ চেক বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্টও নিজে থেকে বিবিসিকে দেখাননি। তিনি ডাকযোগের মাধ্যমে নগদ ১০০ পাউন্ড চার্জ করেছিলেন এবং এক সিরিঞ্জ করে শুক্রাণু পাঠিয়েছিলেন, যা ঠাণ্ডা রাখার জন্য বরফের টুকরার বদলে টমেটো পাতার বক্স ব্যবহার করেছেন।

নমুনাটি পাওয়ার চার ঘণ্টা পর লাইসেন্সপ্রাপ্ত ক্লিনিকে তা পরীক্ষা করিয়েছে বিবিসি। চিকিৎসকেরা বলেছেন, এর ভেতরের সব শুক্রাণু কোষ মৃত।

শুক্রাণু খুঁজছেন এমন নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অ্যালবন এবং আরও শত শত পুরুষ ফেইসবুক ব্যবহার করছেন, সেখানকার কিছু কিছু দলের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার পর্যন্ত।

এ ধরনের এক ডোনার দলে যোগ দিয়ে বিবিসি দেখেছে, সেখানে কিছু মেসেজ বেশ আন্তরিক হলেও অনেকেই সরাসরি শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব, নমুনার জন্য অর্থ দাবি, অন্তরঙ্গ ছবি ও দেখা করার ব্যবস্থা করতে অনবরত মেসেজ পাঠান।

কিছু পুরুষ ক্রমাগত শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দিতে থাকে এবং বোঝানোর চেষ্টা করে, এটাই গর্ভধারণের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকর উপায় হবে।

ওই দলে একজন নারীকে পোস্টে সতর্ক করতে দেখা গিয়েছে, যেখানে তিনি লিখেছেন, নর্থ ওয়েলসের এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি শুক্রাণু নিয়েছিলেন। তবে পরে জানতে পারেন যে ওই ব্যক্তি একজন দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী।

‘হিউম্যান ফার্টিলাইজেশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজি অথরিটি’ বা এইচএফইএ বলেছে, তাদের লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোম্পানির বাইরে যে কোনো ধরনের শুক্রাণু দানই অনিয়ন্ত্রিত ও যুক্তরাজ্যের আইন অনুসারে তা ফৌজদারি অপরাধ।

সাউথ ওয়েলসের তিয়ানা ও তার স্ত্রী নিকিও এ অনিয়ন্ত্রিত প্রজনন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকেছিলেন। তারা বলেছেন, এনএইচএস থেকে সরকারি অর্থায়নের সুযোগ পাওয়ার যোগ্য তারা ছিলেন না, আর বেসরকারিভাবে এ চিকিৎসা করানো তাদের জন্য ব্যয়বহুল।

তিয়ানা বলেছেন, ‘এখানে আপনি এমন কিছু অদ্ভুত মানুষের মুখোমুখি হবেন যারা সম্পূর্ণ ভুল ও অনৈতিক উদ্দেশ্যে এসব কাজ করছে।’

এ দম্পতি কৃত্রিম প্রজনন খুঁজছিলেন তবে তারা বলেছেন, পুরুষেরা প্রায়শই সবচেয়ে ভালো উপায় হিসেবে সরাসরি শারীরিক সম্পর্কের পরামর্শ দিতেন।

তিয়ানা ও নিকি শেষ পর্যন্ত ‘কো-প্যারেন্টিং’ নামের ওয়েবসাইটে এমন একজন দাতার সন্ধান পান যাকে তাদের নিরাপদ মনে হয়েছে। পরবর্তীতে তারা একটি চুক্তি করেন, যাতে যোগাযোগ ও অভিভাবকের অধিকার সংক্রান্ত পরিকল্পনার বিষয়ে সব পক্ষই স্পষ্ট ধারণা পায়।

তবে, এমনটা কোনো আইনি চুক্তি নয়। তিয়ানা বলেছেন, ভবিষ্যতে এমন একটা সম্ভাবনা থেকেই যায়, দাতা ভবিষ্যতে এসে সন্তানের ওপর নিজের দাবি করে আমাদের আদালতের মুখোমুখি করতে পারেন। তবে আমি মনে করি এমনটা বন্ধের জন্য আমরা সম্ভাব্য সবকিছুই করে রেখেছি এবং আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি তিনি আমাদের সঙ্গে এমন করবেন না।

এ অনিয়ন্ত্রিত দাতারা বিভিন্ন উপায়ে তাদের সেবা দিয়ে থাকে; যার মধ্যে কেউ কেউ সরাসরি শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়, আবার কেউ কেউ কৃত্রিম প্রজননের জন্য বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে উড়ে যাওয়ার যাতায়াত খরচ দাবি করে বসে।

২৫ বছর বয়সী ড্যানিয়েল বায়েন থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। তবে, কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে শুক্রাণু দান করতে ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে তিনি যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন। তার দাবি, এ সফরের ফলে চারটি শিশুর জন্ম হয়েছে।

বিবিসি তিন দিন ধরে ড্যানিয়েলের তথ্যচিত্র ধারণ করেছে। ড্যানিয়েল তার অনলাইন ভিডিওগুলোতে নিজেকে একাধারে ‘সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া দাতা’ ও ‘অলাভজনক’ উদ্দেশ্যে কাজ করা ব্যক্তি হিসেবে দাবি করেছেন।

তবে, তার ভাষ্য, যুক্তরাজ্যের গ্রাহকদের কাছ থেকে তিনি কেবল যাতায়াত খরচই চেয়েছেন। তবে অন্য জায়গায় ডোনেশনের জন্য তাকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত অফার করা হয়েছিল বলে দাবি করেন ড্যানিয়েল।

যাদের খরচ করার মতো অর্থ আছে, তাদের এই দুর্বলতার সুযোগ নেওয়ার বিষয়ে বিবিসির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, অন্য লোকে কী ভাবল তা নিয়ে আমি সত্যিই পরোয়া করি না। আমি যাদের সঙ্গে কাজ করি, সেসব শিশু ও পরিবারের জন্য কোনটা সবচেয়ে ভালো আমি কেবল সেটাই ভাবি।

নিজেকে একজন ‘ওপেন ডোনার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ড্যানিয়েল বলেছেন, অবশ্যই, আপনার স্বাস্থ্য ও এসডিআই বা যৌনবাহিত রোগ পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে মিথ্যা বলা উচিত নয়। তবে আপনি কোথায় কাজ করেন, কী করেন বা গ্রহীতাদের মামলা করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য না দেওয়াটা একদম ঠিক আছে। যেমন ধরুন আপনার পুরো নাম বা ঠিকানা।

ড্যানিয়েলের দাবি, যুক্তরাজ্যে শুক্রাণু দেওয়ার সময় তিনি কোনো আইন ভঙ্গ করেননি।

যুক্তরাজ্যের লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিভিন্ন ক্লিনিক এইচএফইএ-এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে বিশেষ এক পেইজ তৈরি করেছে, যেখানে মানুষ এ সংক্রান্ত আইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন।

এইচএফইএ বলেছে, তারা বেশ কয়েকজন অতি-সক্রিয় অনিয়ন্ত্রিত দাতাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। মানুষের ব্যবহারের জন্য ডিম্বাণু বা শুক্রাণু ‘ব্যবহার, সংরক্ষণ, সংগ্রহ, পরীক্ষা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিতরণ’ করা সম্পূর্ণ অবৈধ, যদি না এসব কাজ এইচএফই-এর লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোনো ক্লিনিকে হয়।

এইচএফইএ-এর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর ক্লেয়ার এটিংহাউসেন বলেছেন, আইন একেবারে স্পষ্ট যে, এইচএফইএ-এর লাইসেন্স ছাড়া আপনি শুক্রাণু প্রক্রিয়াজাত বা বিতরণ করতে পারবেন না। ডাকযোগে পাঠিয়ে সে আসলে এ আইনটিই লঙ্ঘন করছেন ড্যানিয়েল।

এর জবাবে অ্যালবন বলেছেন, এসব নিয়ম তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ তার ধারণা, ব্যক্তিগতভাবে শুক্রাণু দান করা, যার মধ্যে এর জন্য চার্জ করাও অন্তর্ভুক্ত তা সম্পূর্ণ আইনি ও বৈধ। তিনি কোনো অসহায় বা দুর্বল নারীর জন্য ‘সরাসরি কোনো হুমকি’ নন।

এটিংহাউসেন বলেছেন, ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটা ‘আইন ভাঙার এ প্রক্রিয়াটিকে সহজতর করে তুলছে’। মার্চে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের একটি সিলেক্ট কমিটিতেও তিনি এ বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন।

এইচএফইএ বলেছে, তারা এ বিষয়ে সরাসরি মেটার সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে। তবে বাস্তবতার নিরিখে এটিংহাউসেন বলেছেন, এ ধরনের সামাজিক মাধ্যম দলগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলে এ অনৈতিক চর্চাটি হয়ত অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হবে।

তিনি নারীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার ভাষ্য, এসব দাতার মধ্যে কেউ কেউ কেবল ন্যাচারাল ইনসেমিনেশন বা সরাসরি শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে শুক্রাণু দানের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, যা কিছু ক্ষেত্রে নারীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তাদের শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য বা প্ররোচিত করার শামিল।

ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটা বলেছে, তারা ‘তাদের সঙ্গে শেয়ার করা যে কোনো গ্রুপ বা পোস্ট পর্যালোচনা করবে এবং তাদের নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে এমন কনটেন্ট সরিয়ে দেবে’। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর জন্য আমাদের নির্দিষ্ট রিপোর্টিং প্রক্রিয়া রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা এমন কনটেন্ট চিহ্নিত করতে পারে, যা হয়ত আমাদের পলিসি ভাঙছে না তবে স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করছে। এ বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছি।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজ চালিয়ে ব্রিটেনে আটক ভারতীয় নাবিক
রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেল পরিবহনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে একটি জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাজ্য।
রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজ চালিয়ে ব্রিটেনে আটক ভারতীয় নাবিক
ইউরোপজুড়ে একের পর এক বিমানে বোমার হুমকি, বাধাগ্রস্ত ৩০ ফ্লাইট
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একের পর এক বিমানে বোমা হামলার ভুয়া হুমকিতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ইউরোপজুড়ে একের পর এক বিমানে বোমার হুমকি, বাধাগ্রস্ত ৩০ ফ্লাইট
বৈঠকে পুতিনের হাতে খামেনির গোপন চিঠি তুলে দিলেন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি।
বৈঠকে পুতিনের হাতে খামেনির গোপন চিঠি তুলে দিলেন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান
ফ্রান্সে বিক্ষোভে উত্তাল রাজপথ: গ্রেপ্তার ৪৪৮, আহত ৫৩ পুলিশ
বেতন বাড়ানো ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও ধর্মঘট হয়েছে।
ফ্রান্সে বিক্ষোভে উত্তাল রাজপথ: গ্রেপ্তার ৪৪৮, আহত ৫৩ পুলিশ
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া
ইরানের কাছে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা বিক্রিতে সম্মতি দিয়েছে রাশিয়া। হেলিকপ্টার থেকে পরিচালিত এসব লঞ্চারের মাধ্যমে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীও এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের উৎপাদনসংক্রান্ত নথিতে ‘এপিইউ-এল’ মডেলের ৯০টি লঞ্চার রপ্তানির আদেশের তথ্য রয়েছে। সেখানে ক্রেতার নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ‘কে-১০’ সাংকেতিক পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে।  রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের নথিতে এই সংকেত দিয়ে ইরানকে বোঝানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। তবে এসব সরঞ্জাম ইতোমধ্যে ইরানের কাছে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লঞ্চারগুলো রাশিয়ার এমআই-২৮ মডেলের আক্রমণকারী হেলিকপ্টারে স্থাপন করা যায়। প্রতিটি লঞ্চারে দুটি করে ‘এলএমইউআর’ নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে। আকাশে উড্ডয়নের সময়ও এসব ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পরিবর্তন করা যায়। ফলে চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সুযোগ তৈরি হয়। এফটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে মস্কো। ‘সি৪৩০এল’ নামের একটি গোপন প্রকল্পের আওতায় রুশ প্রকৌশলীরা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এর আগে ইরানের কাছ থেকে শাহেদ ড্রোন সংগ্রহ করেছিল রাশিয়া। পাশাপাশি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতেও সহযোগিতা করছে মস্কো। বিশ্লেষকদের ধারণা, সামরিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রভাবশালী শক্তির সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই ক্রেমলিনের অন্যতম লক্ষ্য।  এ কারণে রুশ সামরিক সহায়তায় ইরানের সক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা আঞ্চলিক সংঘাতের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আরটিভি/এসআর  
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া
আরও পড়ুন
নারীর ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব বিকাশে সমান সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের
ভুয়া তথ্যে করোনার ১৮ মিলিয়ন ডলারের অনুদান লুট, অভিযুক্ত মার্কিন নারী 
বিশ্বজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে বাড়ছে গর্ভকালীন জটিলতা, ঝুঁকিতে মা-শিশু
ইতিহাস গড়েও নেভি সিলের কঠিন পরীক্ষায় টিকলেন না দুই নারী