ভারতের সবাই ‘হিন্দু’: আরএসএস প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫ , ০৪:১১ পিএম


ভারতের সবাই ‘হিন্দু’: আরএসএস প্রধান
আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগওয়াত। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে বসবাসকারী সব নাগরিক বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে ‘হিন্দু’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগওয়াত। 

বিজ্ঞাপন

রোববার (৯ নভেম্বর) বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন জনসভায় আরএসএস এবং ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ নীতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি। 

নিজ বক্তব্যে ভারতের এ রাজনৈতিক নেতা বলেন, মুসলিম বা খ্রিস্টান, যেকোনোও ধর্মের ব্যক্তি আরএসএসে যোগ দিতে পারেন, তবে তাদের আলাদা পরিচয়কে ছেড়ে দিয়ে ‘হিন্দু’ হিসাবে আসতে হবে। 

বিজ্ঞাপন

ভাগওয়াত এ সময় ‘হিন্দু’ শব্দটিকে সংজ্ঞায়িত করেছেন ‘ভারত মাতার সন্তান’ হিসাবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্মের মানুষ, মুসলিম বা খ্রিস্টান, যেকোনো ধর্মের মানুষ, আলাদা পরিচয় না রেখে আসতে পারে। তাদের বিশেষত্বকে স্বাগত জানানো হয়, তবে শাখায় (আরএসএসের কনগ্রিগেশন) আসার সময় তারা ভারত মাতার সন্তান হিসাবে আসবেন, এই হিন্দু সমাজের সদস্য হিসাবে।   

আরএসএসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে, তারা ‘হিন্দু’ শব্দটিকে সংস্কৃতিক ও জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করে, ধর্মগত সীমাবদ্ধতা কমিয়ে দিয়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সবাইকে এতে অন্তর্ভুক্ত করে। এই সংজ্ঞা তাদের হিন্দু রাষ্ট্রের ধারণাকে প্রচার করার সময় সংখ্যালঘু বিরোধিতা থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

বিজ্ঞাপন

ভাগওয়াত বলেন, মুসলিম ও খ্রিস্টানদের তাদের বিভিন্ন শাখায় আসতে দেখা যায়, তবে তারা আলাদা পরিচয়ে গণ্য হন না এবং কখনো তাদের ধর্মের পরিচয় জিজ্ঞেস করা হয় না। সংখ্যালঘুদের সঙ্গে আস্থা গড়ে তোলার জন্য সংস্থা আউটরিচ প্রোগ্রাম চালায়, তবে বিশেষ কোনো সুবিধা দেয় না।   

তিনি আরও বলেন, সংস্থা কাউকে বিশেষ কিছু দেয় না, প্রত্যেকে নিজের দায়িত্ব পালন করবে। সংস্থা শুধু শাখার কাজ ও মানুষ তৈরি করার কাজ করে।

বিজ্ঞাপন

আরএসএস প্রধান তার বক্তৃতায় বলেন, ভারতে কোনো ‘অহিন্দু’ নেই। সমস্ত মুসলিম ও খ্রিস্টান একই পূর্বপুরুষের বংশধর। হয়তো তারা তা জানে না বা ভুলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। প্রতিটি হিন্দুর বোঝা উচিত যে হিন্দু হওয়া মানে ভারতে দায়িত্বশীল হওয়া। 

সংস্থার নারী শাখা- সেবিকা ভারতীর কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আরএসএসের নীতির মধ্যে পরিবর্তন সম্ভব, তবে মূলনীতি—‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হওয়া—কখনো পরিবর্তন হবে না। 

সংগঠন কেন ভাঙওয়া (সফরন) পতাকা ব্যবহার করে, সেই প্রশ্নে ভাগওয়াত বলেন, আরএসএস ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তখন জাতীয় পতাকা ১৯৩৩ সালে নির্ধারিত হয়। পতাকা কমিটি ভাঙওয়া পতাকা সুপারিশ করেছিল। আমরা সব সময় ত্রিকোণকে সম্মান করেছি।

আরএসএসের রাজনৈতিক সমর্থন নিয়ে ভাগওয়াট বলেন, সংস্থা নীতি সমর্থন করে, রাজনীতি নয়। তিনি উল্লেখ করেন, আরএসএস বিজেপিকে সমর্থন করেছে কারণ দলটি অযোধ্যায় রাম মন্দিরের দাবিকে সমর্থন করেছিল।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission