পাকিস্তানে শপিংমলে ভয়াবহ আগুন, এক দোকানেই পুড়ে মরলেন ৩০ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৮:৫১ এএম


পাকিস্তানে শপিং কমপ্লেক্সে ভয়াবহ আগুন, এক দোকানেই পুড়ে মরলেন ৩০ জন
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের করাচির শহরের অন্যতম ব্যস্ত শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৬১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এখন পর্যন্ত। এর মধ্যে একটি দোকান থেকেই উদ্ধার হয়েছে ৩০ জনের দগ্ধ মরদেহ। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের পরিচয় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ১৭ জানুয়ারি লাগা এ আগুনের ঘটনায় এখনও নিখোঁজ আছেন ৪০ জনের বেশি মানুষ। খবর দ্য ডনের।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন করাচির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদ রাজা। 

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, গুল প্লাজার দ্বিতীয় তলায় দুবাই ক্রোকারিজ নামের একটি দোকান থেকে ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। বাকিদের পরিচয় উদ্ধারে কাজ শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন

তিনি আরও জানান, এই ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধারের মাধ্যমে গুল প্লাজায় মোট মৃতের সংখ্যা ৬১ জনে পৌঁছালো। এখনও ৪০ জনের বেশি নিখোঁজ আছেন।

বিজ্ঞাপন

গত ১৭ জানুয়ারি (শনিবার) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে করাচির অন্যতম বড় শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায়। প্লাজার বেসমেন্টে প্রথম আগুন লাগে এবং তারপর অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে পুরো শপিং কমপ্লেক্সে ছড়িয়ে পড়ে তা। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সূত্রপাত হয়েছে আগুনের। সেই আগুনের মাত্রা এত বেশি ছিল যে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ২৪ ঘণ্টা সময় লেগেছে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে।

১৯৮০ সালে তৈরি হওয়া এই ৫ তলা শপিং কমপ্লেক্সটির আয়তন একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড় এবং ১ হাজার ২ শতাধিক দোকান আছে এখানে। আগুনে এসব দোকানের অধিকাংশই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী, ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশসূত্রে জানা গেছে, এর আগে করাচিতে এত বড় আকারের অগ্নিকাণ্ড দেখা যায়নি। হতাহত এবং নিখোঁজের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে গুল প্লাজা কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

করাচি ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গুল প্লাজায় মোট ফটক বা গেইটের সংখ্যা ২৬টি, কিন্তু চলাচলের জন্য ২টি বাদে বাকি সবগুলো গেইট সবসময় বন্ধ থাকতো। আগুন লাগার সময়েও ফটকগুলো আর খোলা হয়নি। ফলে শত শত মানুষ শপিং কমপ্লেক্সটিতে আটকা পড়ে গিয়েছিলেন। এছাড়া মার্কেটের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রগুলোও নষ্ট ছিল বলে জানা গেছে।

বুধবারের ব্রিফিংয়ে উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদ রাজা বলেন, প্রাথমিক আনুসন্ধানে আমরা জানতে পেরেছি যে আগুন থেকে বাঁচার জন্য দোকানটির শাটার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু, পড়ে এটিই তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিহতদের মধ্যে দোকানের মালিক ও কর্মচারীরাও আছেন।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission