হলুদ বেশি খেলে কি লিভারের ক্ষতি হয়, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

রোববার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫ , ০১:০০ পিএম


হলুদ বেশি খেলে কি লিভারের ক্ষতি হয়, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
ছবি: সংগৃহীত

রান্নার পরিচিত উপাদান হলুদ শুধু স্বাদ কিংবা রঙের জন্যই নয়, চিকিৎসাগত গুণের কারণেও জনপ্রিয়। এর সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন প্রদাহ কমানো, লিভারকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ফ্রি-র‌্যাডিকেল প্রতিরোধে কার্যকর বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। তবে প্রশ্ন হচ্ছে হলুদ বেশি খেলেই কি লিভারের আরও বেশি উপকার হয়? বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, উত্তরটি হচ্ছে না। বরং অতিরিক্ত গ্রহণ করলে উল্টো লিভারের জন্য ঝুঁকি বাড়তে পারে।

হলুদ লিভারের উপকারে যেভাবে কাজ করে

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত হলে হলুদ দারুণ উপকারী। কারণ—

১. প্রদাহ কমায়

কারকিউমিন প্রদাহজনিত কোষের কার্যকলাপ কমিয়ে লিভারের উপর চাপ হ্রাস করে। নাইট্রিক অক্সাইড কমিয়ে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

২. ফ্রি-র‌্যাডিকেল থেকে কোষ সুরক্ষা

লিভারে জমা হওয়া ফ্রি-র‌্যাডিকেল কোষের ক্ষতি করে। কারকিউমিন শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে লিভার কোষ রক্ষা করে।

৩. স্কার টিস্যু গঠন কমায়

এটি হেপাটিক স্টেলেট সেলের অতিরিক্ত কার্যকারিতা কমায়, যা লিভারের ফাইব্রোসিস বা দাগ তৈরির জন্য দায়ী। ফলে স্কারিংয়ের ঝুঁকি কমে।

চিকিৎসকদের মতে হলুদ খাওয়া কতটা নিরাপদ?

.রান্নার স্বাভাবিক হলুদ গুঁড়া নিরাপদ

.সাধারণ হলুদে কারকিউমিন থাকে মাত্র ৩–৫%।

ধীরে শোষিত হওয়ায় শরীর সহজেই গ্রহণ করে।

.ভেজালমুক্ত হলুদ ব্যবহার করা জরুরি।

হলুদ সাপ্লিমেন্টে ঝুঁকি বেশি

.সাপ্লিমেন্টে কারকিউমিনের মাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকে।

.কালো মরিচ (পিপারিন) মিশে থাকলে শোষণ ক্ষমতা ২০ গুণ বেড়ে যায়—এই অতিরিক্ত শোষণ লিভারের উপর চাপ ফেলতে পারে।

.তাই চিকিৎসক ছাড়া সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ।

যখন হলুদ খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে:

১. উচ্চমাত্রার কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট:

অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেশি ডোজ নিলে ড্রাগ-ইনডিউসড লিভার ইনজুরি দেখা দিতে পারে।

২. ল্যাকটোজ ইনটলারেন্টদের জন্য হলুদ দুধ:

দুধ হজম না হলে হলুদ দুধ পেটের সমস্যা বাড়াতে পারে।

৩. চিকিৎসা নয়, সহায়ক মসলা:

হলুদ প্রদাহ কমায় ঠিকই, কিন্তু একে চিকিৎসার বিকল্প ভাবা ভুল। অতিরিক্ত গ্রহণ করলে উল্টো লিভারের ক্ষতি হতে পারে।

৪. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট নয়

.নিজে নিজে সাপ্লিমেন্ট কেনা ঝুঁকিপূর্ণ।

.রক্ত পরীক্ষা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ছাড়া নেওয়া উচিত নয়।

.হলুদ অতিরিক্ত খাওয়ার সতর্ক সংকেত

অতিরিক্ত হলে শরীর যে লক্ষণগুলো দেখায়:

.চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া

.প্রস্রাব গাঢ় রঙের হওয়া

.মল খুব হালকা রঙের দেখা যাওয়া

.বমিভাব

.অস্বাভাবিক ক্লান্তি

.এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সতর্কতা ও পরামর্শ

.রান্নায় স্বাভাবিক পরিমাণে হলুদ ব্যবহার করুন।

.কাঁচা হলুদ খেলে পানির সঙ্গে বা পাতলা করে নিন।

.দীর্ঘমেয়াদে খেলে সামান্য গোলমরিচ বা আদার সঙ্গে মেশানো যেতে পারে।

.হলুদ সাপ্লিমেন্ট শুধুই চিকিৎসকের পরামর্শে।

আরও পড়ুন

হলুদ উপকারী মসলা, তবে “বেশি হলুদ মানেই বেশি স্বাস্থ্য” এই ধারণা ভুল। পরিমিত পরিমাণে হলুদ লিভারের জন্য উপকারী হলেও অতিরিক্ত বা সাপ্লিমেন্টের অপব্যবহার করলে লিভারের ক্ষতি হতে পারে। তাই সতর্কতা ছাড়া সাপ্লিমেন্ট বা অস্বাভাবিক পরিমাণে হলুদ সেবন এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আরটিভি/এসকে 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission