এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারে যেভাবে সতর্ক থাকবেন

আরটিভি নিউজ

সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১০:৩৬ পিএম


এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারে যেভাবে সতর্ক থাকবেন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সব অঞ্চলই বন্ধ রয়েছে নতুন করে বাড়িতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া। তাই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে রান্নাসহ বিভিন্ন কাজে এখন এলপিজি সিলিন্ডারের গ্যাস ব্যবহার করা হয়। গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহারে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমেছে, অন্যদিকে বেড়েছে জীবনের ঝুঁকি।

বিজ্ঞাপন

এলপিজি কেনার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন-

১. অনুমোদিত ডিলার বা পরিবেশকের কাছ থেকেই এলপিজি সিলিন্ডার কিনুন।

বিজ্ঞাপন

২. অননুমোদিত দোকান থেকে নেওয়া সিলিন্ডার ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

৩. ডেলিভারির সময় সিলিন্ডারের সিল ও সেফটি ক্যাপ ঠিক আছে কি না দেখুন।

বিজ্ঞাপন

৪. সিল ভাঙা থাকলে সিলিন্ডার নেবেন না।

৫.সিলিন্ডারের গায়ে লেখা পরীক্ষার মেয়াদ (ডিএফটি) দেখে নিন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে সেই সিলিন্ডার ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।

বিজ্ঞাপন

৬. নতুন সিলিন্ডার লাগানোর সময় জয়েন্টে সাবানের ফেনা লাগিয়ে গ্যাস লিক হচ্ছে কি না পরীক্ষা করুন।

৭. কখনোই আগুন দিয়ে গ্যাস লিক পরীক্ষা করবেন না।

আরও পড়ুন

রান্নার সময় যেসব সতর্কতা জরুরি-

১. রান্নাঘরের জানালা-দরজা খোলা রাখুন, যেন বাতাস চলাচল করতে পারে।

২. চুলার কাছে প্লাস্টিক, কাগজ, কাপড় বা দাহ্য বস্তু রাখবেন না।

৩. রান্না করার সময় চুলা জ্বালিয়ে রেখে বাইরে চলে যাবেন না।

৪. সহজে আগুন ধরে, এমন ঢিলেঢালা পোশাক পরা এড়িয়ে চলুন।

৫. রান্না শেষে রেগুলেটরের নবটি অবশ্যই অফ করুন।

এলপিজি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ-
১. দীর্ঘদিন চুলা ব্যবহার না করলে রেগুলেটর খুলে সেফটি ক্যাপ লাগিয়ে রাখুন।

২. সিলিন্ডার সব সময় সোজা অবস্থায় ও খোলা জায়গায় রাখুন।

৩. চুলার পাইপ বা সুরক্ষা টিউব প্রতিবছর বদলানো ভালো অভ্যাস।

৪. সব সময় আইএসআই বা মানসম্পন্ন পাইপ, রেগুলেটর ও চুলা ব্যবহার করুন।

৫. সিলিন্ডার বা যন্ত্রাংশে নিজে কোনো ধরনের কাটাছেঁড়া বা মেরামতের চেষ্টা করবেন না।

জরুরি পরিস্থিতিতে কী করবেন?

# যদি গ্যাসের গন্ধ পান বা লিক সন্দেহ হয়—

# দ্রুত রেগুলেটর ও চুলার নব বন্ধ করুন।

# ভয় না পেয়ে সব দরজা-জানালা খুলে দিন, যেন বাতাস ঢোকে।

# ঘরের সব আগুন, মোমবাতি, কয়েল, আগরবাতি, ধূপ, চুলা নিভিয়ে ফেলুন।

# বিদ্যুতের সুইচ, ফ্যান, লাইট বা কোনো যন্ত্র স্পর্শ করবেন না।

# সম্ভব হলে বাইরে থেকে মেইন সুইচ বন্ধ করুন।

# ডিস্ট্রিবিউটর বা জরুরি সেবায় দ্রুত যোগাযোগ করুন।

মনে রাখবেন, এলপিজি বাতাসের চেয়ে ভারী, তাই এটি নিচে জমে থাকে। ভালোভাবে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

শেষ কথা
এলপিজি আমাদের জীবন সহজ করেছে, রান্নাবান্না করেছে দ্রুত। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি অবহেলা করলে সেই সুবিধাই বিপদ ডেকে আনতে পারে। সামান্য সচেতনতা, কয়েকটি সহজ অভ্যাস আর নিয়মিত তদারকিই পারে আপনার পরিবারকে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission