ঘরের সাজসজ্জায় বিছানার চাদর গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। শোবার ঘরে ঢুকলেই চোখে পড়ে বিছানার চাদর। তাই এটি হওয়া উচিত রুচিসম্মত ও ঘরের পরিবেশের সঙ্গে মানানসই। সঠিক রং ও ডিজাইনের চাদর শুধু ঘরের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, আরামদায়ক পরিবেশও তৈরি করে।
ডিজাইনারদের মতে, বিছানার চাদর নির্বাচনের সময় ঘরের আকার, দেয়ালের রং, আলোর ব্যবস্থা এবং আসবাবের ধরন বিবেচনা করা জরুরি। প্রশান্তিময় ঘুমের জন্য নীল, হালকা সবুজ, সাদা বা প্যাস্টেল শেডের চাদর বেশ উপযোগী। এসব রং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক এবং ঘরে শান্ত পরিবেশ তৈরি করে।
ঘরের আকার অনুযায়ী চাদরের রং ও ডিজাইন নির্বাচন করাও গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ঘরের ক্ষেত্রে হালকা বা উজ্জ্বল রঙের চাদর ব্যবহার করলে ঘরটি বড় ও ছিমছাম দেখায়। মাঝারি আকারের ঘরে জ্যামিতিক মোটিফ বা মাঝারি ডিজাইনের চাদর ভালো মানায়। আর বড় ঘরের জন্য বড় মোটিফ বা গাঢ় রঙের চাদর ব্যবহার করলে ঘরটি বেশি সাজানো ও পরিপূর্ণ মনে হয়।
চাদর নির্বাচনে দেয়ালের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখাও জরুরি। হালকা রঙের দেয়ালের সঙ্গে গাঢ় চাদর এবং গাঢ় রঙের দেয়ালের সঙ্গে হালকা চাদর ব্যবহার করলে ঘরের সৌন্দর্য বাড়ে। পাশাপাশি ঘরের পর্দা ও আসবাবের রঙের সঙ্গে মিল থাকলেও পুরো ঘরটি আরও আকর্ষণীয় দেখায়।
ডিজাইনারদের মতে, আসবাব যদি কাঠের বা বার্নিশ রঙের হয়, তাহলে প্রায় সব ধরনের চাদর ব্যবহার করা যায়। তবে আসবাব যদি সাদা বা কালো রঙের হয়, তাহলে মানানসই রং ও প্যাটার্নের চাদর বেছে নেওয়া ভালো। এছাড়া চাদর ও পর্দার রঙের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।
ঋতু অনুযায়ী চাদরের রং নির্বাচন করাও একটি ভালো অভ্যাস। গরমকালে সাদা, আকাশি বা হালকা গোলাপি রঙের মতো শীতল শেড আরাম দেয়। অন্যদিকে শীতকালে চেরি, কফি বা গাঢ় নীলের মতো উষ্ণ রং ব্যবহার করলে ঘরে আরামদায়ক অনুভূতি তৈরি হয়।
বাজারে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন ও দামের চাদর পাওয়া যায়। ঢাকার নিউমার্কেট, বিভিন্ন লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ও অনলাইন দোকানে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে প্রায় ১০–১২ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যের চাদর পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই এখন ঘরের পর্দার সঙ্গে মিলিয়ে চাদর ব্যবহার করতে পছন্দ করেন।
তাই চাদর কেনার আগে ঘরের আলোতে সেটির রং কেমন দেখায় তা দেখে নেওয়া ভালো। এতে ঘরের সাজের সঙ্গে মানানসই চাদর বেছে নেওয়া সহজ হয়।
আরটিভি/জেএমএ/এমএইচজে



