তীব্র গরমে হঠাৎ রাস্তায় কেউ মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া, শরীর অস্বাভাবিক গরম হয়ে যাওয়া বা অচেতন হয়ে যাওয়ার ঘটনা এখন প্রায়ই দেখা যাচ্ছে। এসবই হতে পারে হিট স্ট্রোকের লক্ষণ। যা সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ব্যক্তির চেয়ে আশপাশের মানুষের দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপই সবচেয়ে জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, হিট স্ট্রোক তখনই হয় যখন শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে নিজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এতে মস্তিষ্কসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রথম কাজ হলো আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত রোদ থেকে সরিয়ে ছায়াযুক্ত বা ঠান্ডা জায়গায় নেওয়া। সম্ভব হলে ফ্যানের নিচে বা খোলা বাতাসে রাখা উচিত। যাতে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে।
এরপর শরীরের অতিরিক্ত কাপড় খুলে দিতে হবে বা ঢিলেঢালা করে দিতে হবে। এতে শরীর সহজে ঠান্ডা হতে পারে।
পরে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে, বিশেষ করে কপাল, ঘাড়, বগল ও কুঁচকির মতো জায়গায় ঠান্ডা পানি দিলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। পাশাপাশি ঠান্ডা পানি ছিটানো বা বাতাস করাও সাহায্য করে।
যদি আক্রান্ত ব্যক্তি সচেতন থাকেন, তাহলে অল্প অল্প করে পানি বা লবণ-পানির মিশ্রণ খাওয়ানো যেতে পারে। তবে অচেতন বা আধা-অচেতন অবস্থায় মুখে কিছুই দেওয়া যাবে না। কারণ এতে শ্বাসনালীতে পানি ঢুকে বিপদ বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বরফ বা ঠান্ডা পানির বোতল কাপড়ে মুড়ে শরীরে ধরলেও তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে। তবে সবচেয়ে জরুরি হলো দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া এবং দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া।
হিট স্ট্রোকের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে, অতিরিক্ত শরীর গরম হয়ে যাওয়া, ত্বক শুষ্ক ও লালচে হয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি, বমি ভাব এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, এসব লক্ষণ দেখা মাত্রই দেরি না করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ দ্রুত পদক্ষেপই পারে একটি জীবন বাঁচাতে।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
আরটিভি/জেএমএ



