চিনি ছাড়লেই মিলবে শরীরে বড় উপকার! 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ , ০৮:৫৭ এএম


চিনি ছাড়লেই মিলবে শরীরে বড় উপকার! 
ছবি: সংগৃহীত

আমাদের দৈনন্দিন খাবারের অনেক অংশেই লুকিয়ে থাকে চিনি। শুধু মিষ্টি বা চকলেটেই নয়, রুটি, এমনকি অনেক প্রস্তুত খাবারেও থাকে বাড়তি চিনি। ফলে না বুঝেই প্রতিদিন আমরা অনেক বেশি চিনি খেয়ে ফেলি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন মানুষের প্রতিদিন খুব সীমিত পরিমাণ চিনি খাওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে অনেকেই তার চেয়ে অনেক বেশি চিনি খেয়ে ফেলেন। এর ফলে দাঁতের ক্ষয়, স্থূলতা, প্রদাহ, ডায়াবেটিসসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। এমনকি অতিরিক্ত চিনি মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতার সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে।

এই বাস্তবতা যাচাই করতে ছয় সপ্তাহের জন্য একেবারে চিনি ছাড়া থাকার সিদ্ধান্ত নেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য প্রতিবেদক এবং ব্রেডউইনার্স ২০২৫ ও দ্য মাদারহুড কমপ্লেক্স বইয়ের লেখিকা মেলিসা হোগেনবুম। তিনি সব ধরনের বাড়তি চিনি, মধু ও ফলের রস বাদ দেন। তবে গোটা ফলের স্বাভাবিক কার্বোহাইড্রেট খাওয়া চালিয়ে যান।

শুরুতে কঠিন পরীক্ষা

প্রথম কয়েক দিন ছিল বেশ কঠিন। মিষ্টি খাবারের জন্য তীব্র ইচ্ছা হচ্ছিল। সামাজিক আড্ডা বা অনুষ্ঠানে মিষ্টি দেখলে নিজেকে সামলানোও সহজ ছিল না। কারণ চিনি খেলে আমাদের মস্তিষ্কে আনন্দের অনুভূতি তৈরি হয়। ফলে শরীর বারবার সেই স্বাদ চাইতে থাকে। এ কারণেই অনেকের কাছে চিনি ছাড়া থাকা প্রায় নেশা ছাড়ার মতো কঠিন মনে হয়।

শরীরে দেখা দিল পরিবর্তন

কয়েক দিন পর থেকেই কিছু পরিবর্তন ধরা পড়তে শুরু করে। দুপুরের পর যে ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব আসত, তা ধীরে ধীরে কমে যায়। শরীরের শক্তিও স্থির থাকতে শুরু করে। প্রায় তিন সপ্তাহ পরে মিষ্টি খাবারের প্রতি আগ্রহ অনেকটাই কমে যায়। তখন ক্ষুধা পেলে বাদাম, জলপাই বা ফলের মতো স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনি কম খেলে শরীরের চর্বি ও রক্তচাপ কমতে পারে। শরীরের ইনসুলিনের কার্যকারিতাও উন্নত হয়। একই সঙ্গে রক্তে চর্বির মাত্রা কমে এবং শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়া আবার ঠিক হতে শুরু করে।

স্বাদের অনুভূতিও বদলে যায়

চিনি বাদ দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর স্বাদের অনুভূতিও বদলে যেতে পারে। তখন ফলের মতো স্বাভাবিক মিষ্টি খাবারও অনেক বেশি মিষ্টি মনে হয়। ফলে আগের মতো অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারের প্রয়োজন পড়ে না।

আবার চিনি খেলে কী হলো

ছয় সপ্তাহ পরে আবার একটু মিষ্টি খাবার খাওয়ার চেষ্টা করা হলে দেখা যায়, সেটি আগের মতো আর ভালো লাগছে না। বরং খুব বেশি মিষ্টি মনে হয়। খাওয়ার কিছুক্ষণ পর শরীরে ক্লান্তি ও ঘুম ঘুম ভাবও আসে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা বলেন, চিনি পুরোপুরি বন্ধ করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে পরিমিত খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। বাড়তি চিনি কমিয়ে দিলে শরীর ধীরে ধীরে সুস্থ অভ্যাসে ফিরে আসে।

সব মিলিয়ে, কয়েক সপ্তাহ চিনি কম খেলে শরীরের শক্তি, স্বাদ ও খাদ্যাভ্যাস। এসবকিছুতেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

 

সূত্র: বিবিসি

আরটিভি/জেএমএ

 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission