নীরব জীবন, একাকীত্ব আর স্মৃতিভ্রষ্টতার অন্ধকার—এই ছিল নরওয়ের বাসিন্দা মারিয়ান রগস্টাডের বাস্তবতা। দীর্ঘদিন বিদেশে কাজ করার পর দেশে ফিরে তিনি ধীরে ধীরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন। কিন্তু জীবনে নতুন মোড় আসে যখন তিনি একটি খামারভিত্তিক সেবাকেন্দ্রে যোগ দেন। সেখানেই বাগানের কাজ, গাছপালা আর প্রাণীর সঙ্গ তাকে আবার ফিরিয়ে আনে জীবনের ছন্দে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাগান করা শুধু শখ নয়—এটি শরীর ও মনের জন্য এক শক্তিশালী উপকারী অভ্যাস। নিয়মিত মাটির কাজ করলে শরীর সচল থাকে, মন ভালো থাকে, আর মানসিক চাপ কমে যায়। এমনকি এটি স্মৃতিলোপের ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত বাগান করেন, তাদের চিন্তাশক্তি ও স্মৃতিশক্তি তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে। বয়স বাড়লেও তাদের মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। কারণ বাগান করার সময় মানুষ নতুন কিছু শেখে, সমস্যা সমাধান করে এবং সৃষ্টিশীল কাজে যুক্ত থাকে। যা মস্তিষ্ককে সচল রাখে।
আরও জানা গেছে, প্রতিদিন বাগানের কাজ করলে স্মৃতিভ্রষ্টতার ঝুঁকি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কমতে পারে। শুধু তাই নয়, হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো, শরীরের শক্তি বাড়ানো এবং হাড় মজবুত রাখতেও বাগান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞরা এটিকে প্রকৃতির চিকিৎসা বলছেন। প্রকৃতির মাঝে সময় কাটালে মনোযোগ বাড়ে, উদ্বেগ কমে এবং শরীর-মন দুটোই সুস্থ থাকে। এমনকি গাছপালা দেখা, পাখির ডাক শোনা বা মাটির গন্ধ নেওয়াও মানুষের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বাগানের আরেকটি বড় উপকার হলো, এটি মানুষকে একা থাকতে দেয় না। একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়, অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিশেষ করে যারা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এটি আরও বেশি উপকারী।
রগস্টাড এখন সপ্তাহে কয়েক দিন খামারে সময় কাটান। গাছ লাগান, প্রাণীদের যত্ন নেন—আর এই ছোট ছোট কাজেই খুঁজে পান সুখ। তিনি বলেন, ঘরে বসে থাকার চেয়ে প্রকৃতির মধ্যে থাকা অনেক ভালো।
বিশেষজ্ঞদের বার্তা তাই পরিষ্কার, দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন চাইলে, মাটির কাছাকাছি থাকুন। বাগান করুন, প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধুত্ব করুন। এখানেই লুকিয়ে আছে ভালো থাকার সহজ পথ।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
আরটিভি/জেএমএ



