রাজধানীর রাস্তায় যানজট যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। কিন্তু সেই ব্যস্ত সড়কে চলার সময় সবার চোখই থাকে ট্রাফিক সিগন্যালে থাকা লাল, হলুদ ও সবুজ বাতির দিকে। কখনও কি ভেবে দেখেছেন—কেন ঠিক এই তিনটি রঙই ব্যবহার করা হয়?
শুরুটা ছিল বিশৃঙ্খলা থেকে
বিশ শতকের শুরুতে শহরগুলোতে গাড়ির সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। একই রাস্তায় চলত ট্রেন, ঘোড়ার গাড়ি, বাইসাইকেল ও পথচারী। ফলে দুর্ঘটনাও বাড়তে থাকে। তখন রাস্তা নিয়ন্ত্রণ করতেন পুলিশ, হাতের ইশারায়। পরে প্রয়োজন পড়ে একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা।
কেন এই তিন রঙ ব্যবহার হয়-
লাল রঙ
লাল মানে বিপদ বা থামো। এটি মানুষের দৃষ্টি দ্রুত আকর্ষণ করে এবং সতর্ক সংকেত দেয়। দূর থেকেও সহজে দেখা যায় বলে এটি থামার সংকেত হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
সবুজ রঙ
সবুজ মানে চলতে পারো বা নিরাপদ। আগে সাদা আলো ব্যবহার হলেও পরে বিভ্রান্তি এড়াতে সবুজ রঙ চালু করা হয়। চোখও এই রঙ সহজে চিনতে পারে।
হলুদ রঙ
হলুদ মানে সতর্ক হও। এটি জানিয়ে দেয় যে সিগন্যাল শিগগিরই পরিবর্তন হবে। দুর্ঘটনা কমাতে এই সতর্ক সংকেত যুক্ত করা হয়।
ইতিহাসের শুরু কোথায়
১৮৬৮ সালে লন্ডনে প্রথম ট্রাফিক সিগন্যাল চালু হয়। তখন গ্যাস বাতি ও হাতের সংকেত ব্যবহার করা হতো। পরে ১৯১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রাফিক বাতি তৈরি হয়। এরপর ধীরে ধীরে আধুনিক তিন রঙের সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু হয়।
বর্তমান ট্রাফিক সিগন্যাল শুধু যান চলাচল নিয়ন্ত্রণই করে না, বরং দুর্ঘটনা কমিয়ে সড়ককে নিরাপদ রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরটিভি/জেএমএ




