একসময় অনেকেই ভাবতেন, ধূমপানের চেয়ে ভ্যাপিং নাকি কম ক্ষতিকর। কেউ কেউ সিগারেট ছাড়ার উপায় হিসেবেও ভ্যাপ ব্যবহার শুরু করেছিলেন। তবে নতুন এক গবেষণা এবার সেই ধারণাতেই বড় ধাক্কা দিল। গবেষকদের দাবি, ভ্যাপ বা ই-সিগারেট ফুসফুস ও মুখগহ্বরের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে হওয়া এই গবেষণায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন ক্যানসার গবেষক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকেরা। তাদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক কিছু তথ্য।
গবেষণায় দেখা গেছে, ভ্যাপ থেকে বের হওয়া কিছু রাসায়নিক উপাদান শরীরের কোষের ক্ষতি করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বিষাক্ত রাসায়নিক, ভারী ধাতু ও ক্ষতিকর কণা, যা ফুসফুস ও মুখের কোষে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ভ্যাপ ব্যবহারকারীদের শরীরে ডিএনএর ক্ষতি, প্রদাহ এবং কোষের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রাণীর ওপর পরীক্ষাতেও ফুসফুসে টিউমার তৈরির ইঙ্গিত মিলেছে।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো, তরুণদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে ভ্যাপের ব্যবহার। বিভিন্ন স্বাদের ধোঁয়া, আকর্ষণীয় নকশা ও সহজলভ্যতার কারণে অনেক কিশোর-তরুণ এতে আসক্ত হয়ে পড়ছে।
গবেষকরা আরও বলছেন, অনেকেই সিগারেট ছাড়ার জন্য ভ্যাপ ব্যবহার শুরু করলেও পরে দুইটিই একসঙ্গে চালিয়ে যান। এতে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। একই সঙ্গে ধূমপান ও ভ্যাপ ব্যবহার করলে ফুসফুসের ক্ষতির আশঙ্কা কয়েকগুণ বাড়তে পারে।
তবে গবেষকেরা এটাও জানিয়েছেন, ভ্যাপিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পুরোপুরি বুঝতে আরও সময় লাগবে। কারণ এটি তুলনামূলক নতুন অভ্যাস। কিন্তু এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যই যথেষ্ট সতর্ক হওয়ার জন্য।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ভ্যাপিং শুরু না করাই সবচেয়ে নিরাপদ। যারা ধূমপান ছাড়তে চান, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। পাশাপাশি কিশোর-তরুণদেরও ভ্যাপের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি।
স্বল্প সময়ের আনন্দ বা আধুনিকতার নামে নেওয়া একটি অভ্যাস ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে—নতুন এই গবেষণা সেই সতর্কবার্তাই দিচ্ছে।
আরটিভি/জেএমএ




