অফিস থেকে ফেরার পথে বা রাস্তার ধারে হালকা খিদে মেটাতে শিঙাড়া, কচুরি, জিলিপি কিংবা তেলেভাজার মতো মুখরোচক খাবার খাওয়া অনেকেরই অভ্যাস। কিন্তু এসব খাবার যদি খবরের কাগজের ঠোঙা বা কাগজের প্লেটে পরিবেশন করা হয়, তাহলে সেটাই হয়ে উঠতে পারে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি।
সম্প্রতি ভারতের খাদ্য সুরক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, খাবার প্যাকিং বা পরিবেশনের জন্য খবরের কাগজ ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা উচিত। কারণ সংবাদপত্রের কালিতে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান খাবারের সঙ্গে মিশে শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবাদপত্রের কালিতে সিসা, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতু ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক, দ্রাবক ও কৃত্রিম রং থাকে। বিশেষ করে গরম, তেলযুক্ত বা ভেজা খাবারের সংস্পর্শে এলে এই রাসায়নিকগুলো সহজেই খাবারে মিশে যায়।
এই ধরনের দূষিত খাবার নিয়মিত শরীরে প্রবেশ করলে ধীরে ধীরে সিসা ও অন্যান্য ভারী ধাতু শরীরে জমা হতে পারে। ফলে স্নায়ুতন্ত্র ও কিডনির কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বিষক্রিয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। কারণ ভারী ধাতু মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এই অভ্যাস চলতে থাকলে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরম খাবার যখন সংবাদপত্রের সংস্পর্শে আসে, তখন তাপ ও তেলের কারণে কালি থেকে রাসায়নিক সহজেই খাবারে মিশে যায়। তাই দেখতে যতই সাধারণ মনে হোক, এই অভ্যাসটি দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থার নির্দেশ অনুযায়ী, এখন থেকে রাস্তার হকার, রেস্তরাঁ ও ক্লাউড কিচেনসহ সব খাদ্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই ফুড-গ্রেড বা অনুমোদিত প্যাকেজিং সামগ্রী ব্যবহার করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য রাস্তার খাবার খাওয়ার সময় প্যাকেজিংয়ের বিষয়টি অবশ্যই খেয়াল রাখা জরুরি। সামান্য এই সচেতনতা বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ



