হাঁটার সময় মোবাইল ফোনে চোখ আটকে রাখা এখন অনেকেরই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়ক পার হওয়ার সময়ও অনেকে মেসেজ, সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং বা ভিডিও দেখায় ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু এই ছোট্ট অসতর্কতাই বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক পারাপারের সময় সম্পূর্ণ মনোযোগ থাকা উচিত রাস্তার দিকেই। মোবাইলে ব্যস্ত থাকলে যানবাহনের গতি, সিগন্যাল, হর্ন বা আশপাশের বিপদের সংকেত অনেক সময় ঠিকভাবে বোঝা যায় না। এতে এক মুহূর্তের ভুলেই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনাতেও রাস্তা পার হওয়ার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এমনকি হেডফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহার করেও সড়ক পার হওয়াকে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে, কারণ এতে চারপাশের শব্দ শোনা যায় না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে “ডিজিটাল মনোযোগ বিচ্যুতি” সড়ক দুর্ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠছে। শুধু পথচারী নয়, অনেক সময় চালকেরাও মোবাইল ব্যবহারের কারণে মনোযোগ হারান। যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, মোবাইলে ব্যস্ত থাকলে মানুষের প্রতিক্রিয়া জানানোর গতি কমে যায় এবং হঠাৎ বিপদ এড়ানোর সক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ব্যস্ত রাস্তা, মোড় বা সিগন্যাল পার হওয়ার সময় ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শিশু ও কিশোরদের মধ্যে এই অভ্যাস আরও বেশি দেখা যাচ্ছে। যা ভবিষ্যতে সড়ক নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
তাদের পরামর্শ, সড়ক পার হওয়ার আগে দুই পাশ ভালোভাবে দেখে নেওয়া, দ্রুত কিন্তু সতর্কভাবে পার হওয়া এবং অবশ্যই মোবাইল ফোন পকেটে রাখা উচিত। জরুরি প্রয়োজনে রাস্তার এক পাশে দাঁড়িয়ে তারপর ফোন ব্যবহার করাই নিরাপদ।
নিরাপদ চলাচলের জন্য ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়েও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরটিভি/জেএমএ




