তীব্র গরমে অতিরিক্ত ঘাম এখন অনেকেরই নিত্য সমস্যা। বিশেষ করে আন্ডার আর্ম বা বগলে (অ্যাক্সিলা) ঘাম জমে দুর্গন্ধ, চুলকানি, জ্বালাভাব কিংবা ছোট ছোট র্যাশের মতো সমস্যাও দেখা দেয়। অনেকেই নিয়মিত গোসল করলেও ঠিকভাবে পরিষ্কার না করার কারণে অস্বস্তি থেকেই যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্ডার আর্মের ত্বক শরীরের অন্য অংশের তুলনায় বেশি নরম ও সংবেদনশীল হওয়ায় এর যত্নেও প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সাবান ব্যবহার করলেই আন্ডার আর্ম পরিষ্কার হয় না। এই অংশের ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে মৃদু ও কোমল উপাদানযুক্ত পরিষ্কারক ব্যবহার করা জরুরি। অতিরিক্ত ক্ষার বা কড়া রাসায়নিকযুক্ত সাবান ত্বককে শুষ্ক ও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোসলের সময় আন্ডার আর্ম খুব ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। অনেক সময় সাবান বা সুগন্ধি প্রসাধনীর অংশ ত্বকে লেগে থাকে, যা পরে র্যাশ বা চুলকানির কারণ হতে পারে। তাই পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে ত্বক শুকনো রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া অনেকেই আন্ডার আর্ম পরিষ্কার করতে শক্ত ঝাঁঝরি বা খসখসে কাপড় ব্যবহার করেন। এতে ত্বকে জ্বালাভাব ও লালচে দাগ তৈরি হতে পারে। চিকিৎসকদের পরামর্শ, এই অংশ পরিষ্কার করতে নরম কাপড় ব্যবহার করাই নিরাপদ। যদি জ্বালা বা অস্বস্তি হয়, তাহলে ঠান্ডা পানি বা ঘৃতকুমারীর জেল ব্যবহার করলে কিছুটা আরাম মিলতে পারে।
গোসলের পরপরই সুগন্ধি বা ঘামরোধক প্রসাধনী ব্যবহার করাও ঠিক নয়। কারণ ভেজা ত্বকে এসব ব্যবহার করলে ত্বকে জ্বালাভাব বা অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়ে। তাই গোসলের পরে শরীর ভালোভাবে মুছে শুকনো করে নেওয়ার পরই এসব ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
অনেকেই আন্ডার আর্মের লোম পরিষ্কার করেন। সে ক্ষেত্রে লোম তোলার পর সঙ্গে সঙ্গে কোনো প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ তখন ত্বক বেশি সংবেদনশীল থাকে। আবার যারা লোম পরিষ্কার করেন না, তাদের নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ ঘাম ও জীবাণু জমে দুর্গন্ধ বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমে শরীরের এই অংশ পরিষ্কার ও শুকনো রাখতে পারলে দুর্গন্ধ, র্যাশ ও অস্বস্তির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই প্রতিদিনের গোসলের সময় সামান্য সচেতনতাই দিতে পারে স্বস্তি।
আরটিভি/জেএমএ



