ঈদ মানেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা, প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করা। কেউ বাসে, কেউ ট্রেনে আবার কেউ লঞ্চে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন আপনজনের কাছে। তবে এই আনন্দঘন যাত্রা অনেক সময় ছোটখাটো শারীরিক সমস্যার কারণে অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
দীর্ঘ ভ্রমণ, গরম আবহাওয়া, অনিয়মিত খাবার ও ভিড়ের কারণে যাত্রাপথে জ্বর, মাথাব্যথা, গ্যাস্ট্রিক, বমি বা পানিশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ঈদযাত্রার ব্যাগ গোছানোর সময় কাপড় ও উপহারের পাশাপাশি কিছু জরুরি ওষুধ রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সাকিয়া হক গণমাধ্যমকে বলেন, দীর্ঘ ভ্রমণে ক্লান্তি, পানিশূন্যতা, গ্যাস্ট্রিক, মাথাব্যথা ও ঠান্ডাজনিত সমস্যা খুব সাধারণ বিষয়। তাই ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাথমিক কিছু ওষুধ সঙ্গে রাখা জরুরি। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের মতে, যাত্রাপথে অনেক সময় কাছাকাছি ফার্মেসি পাওয়া যায় না। আবার রাতের বেলা বা যানজটে পড়লে তাৎক্ষণিক চিকিৎসাও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে থাকলে ছোট সমস্যাগুলো সহজেই সামাল দেওয়া যায়।
ঈদযাত্রায় যেসব ওষুধ রাখা জরুরি তার মধ্যে রয়েছে জ্বর ও ব্যথার ওষুধ, গ্যাস্ট্রিক বা অম্বল প্রতিরোধের ওষুধ, ডায়রিয়া ও বমির জন্য ওষুধ, ঠান্ডা-কাশির ওষুধ এবং নিয়মিত ব্যবহৃত ব্যক্তিগত ওষুধ।
এর পাশাপাশি একটি ছোট মেডিকেল কিট রাখা ভালো, যেখানে ব্যান্ডেজ, তুলা, অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম, থার্মোমিটার ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা যেতে পারে। এগুলো জরুরি মুহূর্তে বেশ কাজে আসে।
অন্যদিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মো. সাঈদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ঈদযাত্রায় অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করেন না, ফলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। তাই বিশুদ্ধ পানি পান, হালকা খাবার খাওয়া এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা নিয়মিত ওষুধ খান, তাদের আগেই সেগুলো গুছিয়ে নেওয়া উচিত।
শিশু ও বয়স্কদের জন্য বাড়তি সতর্কতার পরামর্শও দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। শিশুদের জন্য আলাদা করে জ্বর, বমি ও ডায়রিয়ার ওষুধ রাখা এবং বয়স্কদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রেসক্রিপশন ও ইনহেলার বা চিকিৎসা সরঞ্জাম সঙ্গে রাখা জরুরি।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, যাত্রাপথে অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
সচেতনতা আর সামান্য প্রস্তুতিই পারে ঈদের যাত্রাকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে।
আরটিভি/জেএমএ



