ফিট থাকতে, ওজন কমাতে কিংবা পেশি গঠনের লক্ষ্য নিয়ে আজকাল অনেকেই প্রোটিন পাউডারের দিকে ঝুঁকছেন। শুধু খেলোয়াড় বা বডিবিল্ডার নয়, সাধারণ মানুষও দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এটি যুক্ত করছেন। বাজারে নানা ধরনের প্রোটিন পাউডার সহজলভ্য হওয়ায় ব্যবহারও বেড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে না খেলে এই সাপ্লিমেন্ট উপকারের বদলে শরীরের ক্ষতির কারণও হতে পারে।
প্রোটিন পাউডার তখনই কার্যকর হয়, যখন এটি সঠিক মাত্রায় এবং সঠিক নিয়মে গ্রহণ করা হয়। ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, দৈনিক কায়িক পরিশ্রম এবং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী এর ব্যবহার নির্ভর করে। ভুলভাবে গ্রহণ করলে হজমের সমস্যা, পেটফাঁপা, গ্যাসট্রিকসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
প্রোটিন পাউডার খাওয়ার সময় যে ৪টি ভুল সবচেয়ে বেশি হয়—
১. অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ
অনেকেই শুরুতেই বেশি পরিমাণ প্রোটিন গ্রহণ করেন। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি নিলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমে যেতে পারে। ফলে ওজন বেড়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেটফাঁপার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
২. খাবারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার
প্রোটিন শেককে অনেকে পুরো খাবারের বিকল্প মনে করেন। এতে প্রোটিন মিললেও শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বি থেকে বঞ্চিত হয়।
৩. পরিমাণ না মেনে চলা
যত বেশি, তত ভালো—এই ধারণা ভুল। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর একবারে প্রায় ২৫ থেকে ৪০ গ্রাম প্রোটিন ব্যবহার করতে পারে। এর বেশি অংশ শক্তি বা চর্বি হিসেবে জমা হয়, যা ওজন বাড়াতে পারে।
৪. ভুল মানের পণ্য বেছে নেওয়া
অনেক প্রোটিন পাউডারে কৃত্রিম মিষ্টি, প্রিজারভেটিভ ও নানা অ্যাডিটিভ থাকে, যা হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই মান যাচাই না করে পণ্য কিনলে উপকারের বদলে ক্ষতির ঝুঁকি থাকে।
কেনার আগে কী দেখবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রোটিন পাউডার কেনার আগে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই যাচাই করা উচিত—
প্রোটিনের উৎস কী, প্রতি স্কুপে কত গ্রাম প্রোটিন আছে (সাধারণত ২০–২৫ গ্রাম থাকা ভালো), এবং এতে চিনি বা কৃত্রিম উপাদান আছে কি না। ফ্লেভারযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলা ভালো।
এছাড়া প্যাকেটে থাকা সার্টিফিকেশন যেমন আন্তর্জাতিক মান পরীক্ষার অনুমোদন আছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়া জরুরি।
সঠিক নিয়মে ও পরিমিতভাবে ব্যবহার করলে প্রোটিন পাউডার শরীর গঠনে সহায়ক হতে পারে। তবে অজ্ঞতা বা ভুল অভ্যাসই এটিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত করতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ



