আত্মীয়ের সঙ্গে বিয়ে কি নিরাপদ, গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ০১ জুন ২০২৬ , ১১:৫৬ এএম


আত্মীয়ের সঙ্গে বিয়ে কি নিরাপদ, গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

চাচাতো, খালাতো বা নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে বিশ্বের অনেক সমাজেই দীর্ঘদিনের প্রচলিত একটি রীতি। পরিবার ও সংস্কৃতির বন্ধন ধরে রাখা, সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা কিংবা পারিবারিক সম্পদ সংরক্ষণের মতো নানা কারণে এখনও অনেক জায়গায় এ ধরনের বিয়ে দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক এক দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা আবারও সামনে এনেছে প্রশ্ন আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কতটা নিরাপদ?

যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফর্ড শহরে পরিচালিত ‘বর্ন ইন ব্র্যাডফর্ড’ নামের গবেষণায় দেখা গেছে, ফার্স্ট কাজিন অর্থাৎ চাচাতো বা খালাতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ের ফলে সন্তানদের কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বাড়তে পারে।

গবেষণার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মা ও বাবার শরীরে থাকা ত্রুটিপূর্ণ জিন সন্তানদের মধ্যে একসঙ্গে এলে কিছু বংশগত রোগ প্রকাশ পেতে পারে। আত্মীয়দের মধ্যে একই ধরনের জিন বহনের সম্ভাবনা বেশি থাকায় সেই ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, সাধারণ দম্পতির ক্ষেত্রে সন্তানদের বংশগত রোগের ঝুঁকি যেখানে প্রায় ৩ শতাংশ, সেখানে ফার্স্ট কাজিন দম্পতির ক্ষেত্রে তা প্রায় ৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

গবেষণায় ১৩ হাজারের বেশি শিশুকে দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে দেখা গেছে, সন্তানদের মধ্যে ভাষা বিকাশে কিছু সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে, বিকাশের নির্দিষ্ট মাইলফলক অর্জনের হার কিছুটা কম ছিল ও চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রবণতাও তুলনামূলক বেশি ছিল।

তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এর অর্থ এই নয় যে আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে হলেই সব সন্তান অসুস্থ হবে। বহু পরিবারে সম্পূর্ণ সুস্থ সন্তানও জন্ম নিচ্ছে।

গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে শুধু রক্তের সম্পর্ক নয়, একই সম্প্রদায় বা একই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন বিয়ে হলে নির্দিষ্ট কিছু জিন বেশি ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিজ্ঞানীরা একে এন্ডোগামি বলে থাকেন। ফলে রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও কিছু জিনগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। 

ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নরওয়েকাজিনদের মধ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সুইডেনেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে যুক্তরাজ্য এখন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার বদলে জেনেটিক কাউন্সেলিং ও সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত ও সামাজিক কিন্তু ভবিষ্যৎ সন্তানের সম্ভাব্য জেনেটিক ঝুঁকি সম্পর্কে আগে থেকেই জানা ও প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা জেনেটিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে দায়িত্বশীল পথ।

সামাজিক বাস্তবতা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই আলোচনায় একটি বিষয় স্পষ্ট আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে শুধু পারিবারিক সিদ্ধান্ত নয়, এর সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যও জড়িয়ে থাকতে পারে।


সূত্র: বিবিসি 

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission