রাতে ঘুমানোর সময় কেউ চিৎ হয়ে শুয়ে থাকেন, কেউ আবার পাশ ফিরে কাত হয়ে ঘুমান। কিন্তু শরীরের জন্য আসলে কোন ভঙ্গি বেশি ভালো?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, কোন ভঙ্গিতে ঘুমালে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে—এ নিয়ে বড় আকারের নির্দিষ্ট গবেষণা এখনো সীমিত।
ঘুমের ভঙ্গি নিয়ে গবেষণা কী বলছে?
বিভিন্ন ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ মানুষ পাশ ফিরে ঘুমান। এরপর আসে চিৎ হয়ে ঘুমানো এবং সবচেয়ে কম মানুষ উপুড় হয়ে ঘুমান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাশ ফিরে ঘুমানোর প্রবণতা বাড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা কম দেখা যায়।
কাত হয়ে ঘুমানোর উপকারিতা
গবেষণায় দেখা গেছে, পাশ ফিরে ঘুমালে কিছু উপকার পাওয়া যেতে পারে—
- নাক ডাকা কমে
- শ্বাস নিতে সুবিধা হয়
- স্লিপ অ্যাপনিয়ার ঝুঁকি কমে
- অনেক ক্ষেত্রে ঘুমের মান ভালো হয়
বিশেষ করে চিৎ হয়ে ঘুমালে শ্বাসনালিতে চাপ পড়ে, যার ফলে নাক ডাকার সমস্যা বাড়তে পারে।
চিৎ হয়ে ঘুমানো কি খারাপ?
চিৎ হয়ে ঘুমানো সবার জন্য খারাপ নয়, তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়তে পারে। যেমন—
- নাক ডাকা
- শ্বাসকষ্ট
- ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া
তবে এই ভঙ্গি মেরুদণ্ডকে তুলনামূলকভাবে সোজা রাখতে সাহায্য করে বলেও মত রয়েছে।
ঘুমের ভঙ্গি আর শরীরের ব্যথা
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ভুলভাবে পাশ ফিরে ঘুমালে ঘাড় ও পিঠে ব্যথা হতে পারে। আবার সঠিক ভঙ্গিতে কাত হয়ে ঘুমালে ব্যথা কমতেও পারে।
তবে এটি নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও আরামের ওপর।
অ্যাসিডিটি ও ঘুমের দিক
অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার সমস্যা থাকলে বাম পাশে ঘুমানো তুলনামূলকভাবে উপকারী হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।
উপুড় হয়ে ঘুমানো
উপুড় হয়ে ঘুমালে—
- মুখে চাপ পড়ে
- ঘাড় ও চোয়ালে ব্যথা হতে পারে
- ত্বকে বলিরেখা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে
তাই চিকিৎসকেরা সাধারণত এই ভঙ্গি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমানোর কোনো একক “সেরা ভঙ্গি” নেই। কারণ প্রতিটি মানুষের শরীর আলাদা। তবে সাধারণভাবে পাশ ফিরে ঘুমানোকে তুলনামূলকভাবে বেশি উপকারী ধরা হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—যে ভঙ্গিতে আপনি আরাম পান এবং ঘুম ভালো হয়, সেটাই আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো ভঙ্গি।
সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ




