শিশুকে সিগারেটের ধোঁয়া থেকে দূরে রাখতে অনেকেই ঘরের ভেতরে ধূমপান করেন না। বরং বারান্দা, জানলার ধারে বা ঘরের বাইরে গিয়ে ধূমপান করার অভ্যাস তৈরি করেন। অনেকের ধারণা, এতে পরিবার বিশেষ করে শিশু, হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের রোগীরা নিরাপদ থাকবেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা—বারান্দায় ধূমপান করলেও ঘর পুরোপুরি নিরাপদ থাকে না।
কেন বারান্দার ধূমপানও নিরাপদ নয়
চিকিৎসকদের মতে, বাইরে ধূমপান করলেও সিগারেটের ধোঁয়ার ক্ষতিকর প্রভাব ঘরে ফিরে আসে। ধোঁয়ার সূক্ষ্ম কণা বাতাসে দীর্ঘ সময় ভেসে থাকে এবং ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে।
এছাড়া ধূমপানের বিষাক্ত কণা শুধু বাতাসেই থাকে না, তা লেগে থাকে ঘরের পর্দা, সোফা, বিছানা, দেয়াল, জামাকাপড় এমনকি ধূমপায়ীর চুল ও ত্বকেও। এই অবশিষ্ট বিষাক্ত কণাকেই বলা হয় পরবর্তী ধূমপানজনিত দূষণ।
শিশুরা যেহেতু ঘরের জিনিসপত্র স্পর্শ করে বারবার হাত মুখে দেয়, তাই তারা সহজেই এই বিষাক্ত উপাদানের সংস্পর্শে আসে।
জানালা খুললেও ঝুঁকি কমে না
বিশেষজ্ঞদের মতে, জানালা খুলে রাখা, এক্সহস্ট ফ্যান চালানো বা বারান্দায় দাঁড়িয়ে ধূমপান করলেও ধোঁয়ার ক্ষতি পুরোপুরি দূর হয় না।
অতি সূক্ষ্ম কণা দীর্ঘ সময় বাতাসে ভেসে থেকে ঘরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে শিশুরা পরোক্ষভাবে এই বিষাক্ত উপাদান শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করে।
শিশুদের জন্য বাড়তি বিপদ
পরোক্ষ ধূমপানের কারণে শিশুদের মধ্যে দেখা দিতে পারে—
- হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ট
- বারবার সর্দি-কাশি
- কানের সংক্রমণ
- ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা
চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের শরীর এখনও বিকাশের পর্যায়ে থাকায় ধোঁয়ার ক্ষতি তাদের উপর বেশি প্রভাব ফেলে।
গর্ভবতী ও বয়স্করাও ঝুঁকিতে
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শুধু শিশুই নয়—গর্ভবতী নারী, নবজাতক ও বয়স্করাও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
অল্প সময়ের সংস্পর্শেও হৃদরোগ ও শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা বাড়তে পারে।
কী করা উচিত
চিকিৎসকদের মতে, শিশুকে সত্যিকারের সুরক্ষা দিতে হলে বাড়িকে সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত রাখা জরুরি।
ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা বাড়ির বাইরে, দরজা-জানালা থেকে দূরে গিয়ে করা উচিত।
আরটিভি/জেএমএ



