ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

আজ বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ০৯:১০ এএম
আজ বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস । বছবি: সংগৃহীত

আজ ১২ জুন বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বের কোটি কোটি শিশুকে শ্রমের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সুন্দর শৈশব নিশ্চিত করার আহ্বান নিয়ে প্রতি বছর দিবসটি পালন করা হয়। জাতিসংঘের এ বছরের প্রতিপাদ্য— ‘শিশুশ্রমকে লাল কার্ড দেখান, শিশুদের জন্য ন্যায্য সুযোগ, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কাজ।’

জাতিসংঘের শিশু তহবিল এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এখনও প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ শিশু শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত, যা তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশের জন্য বড় হুমকি। যদিও ২০০০ সালে শিশুশ্রমে যুক্ত শিশুর সংখ্যা ছিল প্রায় ২৪ কোটি ৬০ লাখ, তারপরও বর্তমান অগ্রগতির হার শিশুশ্রম নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছে সংস্থা দুটি।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, শিশুশ্রমের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র এখনো কৃষিখাত। বিশ্বের মোট শিশুশ্রমের ৬১ শতাংশ শিশু কৃষিকাজে নিয়োজিত। এছাড়া ২৭ শতাংশ শিশু বিভিন্ন সেবামূলক কাজে এবং ১৩ শতাংশ শিশু শিল্প খাতে কাজ করছে।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিশুশ্রম রয়েছে আফ্রিকার দেশগুলোতে। সেখানে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ শিশু শ্রমে জড়িত। অন্যদিকে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে গত কয়েক বছরে শিশুশ্রমের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

আরও পড়ুন

এদিকে বাংলাদেশে শিশুশ্রমের একটি বড় অংশ গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের ঘিরে। দেশে শিশু গৃহকর্মীদের ওপর নির্যাতন ও শোষণের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বিদ্যমান। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কনভেনশন অনুযায়ী গৃহকর্মকে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বাংলাদেশে এটি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের ২০২৪ সালের ‘ঢাকা শহরের শিশু গৃহকর্মীদের পরিস্থিতি’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া ৩৫২ জন শিশু গৃহকর্মীর মধ্যে প্রায় অর্ধেক কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে অতিরিক্ত কাজের চাপ, শারীরিক নির্যাতন, গালাগালি এবং যৌন নির্যাতনের ঘটনাও পাওয়া গেছে।

একই গবেষণায় দেখা যায়, অনেক শিশুকে প্রতিদিন ৯ থেকে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় কাজ করতে হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে তাদের মজুরি সরাসরি শিশুর হাতে না গিয়ে অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স রাইটস নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১৫ লাখ শিশু গৃহকর্মী বর্তমানে প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষার বাইরে রয়েছে। সংগঠনটির মতে, গৃহকর্মকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করায় এসব শিশু যথাযথ সুরক্ষা পাচ্ছে না।

গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, শিশু গৃহশ্রমকে শুধু ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হিসেবে চিহ্নিত করাই যথেষ্ট নয়, বরং এটি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং আইনের দুর্বল প্রয়োগ শিশুদের শ্রমে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুশ্রম বন্ধে শুধু আইন নয়, দরকার দরিদ্র পরিবারের জন্য সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা।

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান— প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ শৈশব, শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ শিশুর হাতে বইয়ের বদলে শ্রমের বোঝা তুলে দিলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুধু একটি শিশু নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
সকালের নাশতায় ভাত খাওয়ার অভ্যাস অনেক বাঙালিরই। কেউ আগের রাতের বেঁচে যাওয়া ভাত খান, আবার কেউ গরম ভাতের সঙ্গে ডিমভাজি কিংবা সবজি খেয়ে দিন শুরু করেন।
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে বয়সের তুলনায় দ্রুত দেখা দিতে পারে শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, ত্বকে বলিরেখা কিংবা ঘুমের সমস্যা।
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ায় না, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে হাড় মজবুত রাখতে লবঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লবঙ্গ একটি বহুল ব্যবহৃত মসলা। আস্ত কিংবা গুঁড়া দুইভাবেই এটি খাবারে ব্যবহার করা যায়। মাংসের পদ, গরম পানীয়, কেক ও বিস্কুটে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে লবঙ্গের ব্যবহার প্রচলিত। রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। লবঙ্গে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লবঙ্গ খেলে মানুষের হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস লবঙ্গ লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই চাপ কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। লবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউজেনল। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকায় লবঙ্গের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর নয় হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। লবঙ্গের সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও একে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের মাধ্যমে মানুষের হাড়ের স্বাস্থ্য কতটা উন্নত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু একটি মসলার ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আরটিভি/এসকে
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
সিঁদুর খেলার পর ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
দশমী মানেই দেবীবরণের আবেগ, মিষ্টিমুখ আর লাল সিঁদুরে রাঙা একরাশ আনন্দ।
সিঁদুর খেলার পর ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
চোখের নিচে কালি পড়ে কেন, কমানোর উপায় কী?
পড়াশোনা, পরীক্ষা কিংবা কাজের ব্যস্ততায় অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। এর প্রভাব পড়ে শরীর ও চেহারায়। বিশেষ করে চোখের নিচে কালচে দাগ, ফোলা ভাব কিংবা সূক্ষ্ম ভাঁজ দেখা দিতে পারে।
চোখের নিচে কালি পড়ে কেন, কমানোর উপায় কী?
আরও পড়ুন
শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে লাল কার্ড প্রদর্শন