হোটেলের ঘরে ঢুকেই বিছানায় এক জোড়া সুন্দর করে মোড়ানো তোয়ালের রাজহাঁস দেখলে কার না মন ভালো হয়। কাগজের জাপানি শিল্প ‘অরিগামি’র অনুপ্রেরণায় তৈরি এই বিশেষ কারুকার্যকে বলা হয় ‘টাওয়েল অরিগামি’।প্রথম দর্শনেই অতিথিদের চমকে দেওয়া এবং স্বাগত জানানোর এক অদ্ভুত কৌশল এটি।
এই সুন্দর ঐতিহ্যের নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর মনস্তত্ত্ব। তোয়ালের এই রাজহাঁস নিমেষের মধ্যে ঘরের পরিবেশকে রাজকীয় ও আকর্ষণীয় করে তোলে।
অতিথিও বোঝেন, তার আরামের জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষ বাড়তি যত্ন নিয়েছে। তাছাড়া, রাজহাঁস হলো ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততার প্রতীক। দুটি হাঁস যখন মুখোমুখি গলা মিলিয়ে বসে একটি নিখুঁত ‘হার্ট’-এর আকার নেয়, তখন ঘরের রোমান্টিক আবহ বহুগুণ বেড়ে যায়।
সেই কারণেই মূলত হানিমুন বা কাপল ট্রিপে এই দৃশ্য বেশি চোখে পড়ে।
জানা যায়, কার্নিভাল ক্রুজ লাইনের এক ক্রু মেম্বার প্রথম তোয়ালে দিয়ে এমন বিভিন্ন প্রাণীর অবয়ব তৈরি শুরু করেছিলেন।
পরে এই ভাবনা বিশ্বজুড়ে এতটাই জনপ্রিয় হয় যে, বিলাসবহুল হোটেলগুলি একে নিজেদের সিগনেচার স্টাইল বানিয়ে ফেলে। বর্তমানে এটি হাউসকিপিং কর্মীদের দক্ষতার অন্যতম বড় মাপকাঠি।
যান্ত্রিকতার বাইরে গিয়ে মানুষের হাতে তৈরী ছোঁয়া অতিথির মনে গভীর প্রভাব ফেলে, যা হোটেলের প্রতি তাদের বিশ্বস্ততা বাড়ায়। আজকের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের যুগে এটি হোটেলের জন্য চমৎকার এক ‘ফ্রি মার্কেটিং টুল’। ঘরে ঢুকেই ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন অতিথিরা, ফলে বিনা খরচেই দুর্দান্ত ব্র্যান্ডিং হয়ে যায় হোটেলের।
অনেকেই ভাবেন এই হাঁস তৈরিতে হয়তো আঠা বা তার ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আসল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে হাউসকিপিং কর্মীদের দক্ষতায়। নিখুঁতভাবে ইস্ত্রি করা একদম তাজা ও নরম তোয়ালেকে বিশেষ টেকনিকে ভাঁজ করেই এই রূপ দেওয়া হয়। এর জন্য কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণও নিতে হয়।
পরের বার হোটেলে গিয়ে বিছানায় এমন রাজহাঁস দেখলে বুঝবেন, ওটা কেবলই তোয়ালে নয়। ওটি আসলে হোটেল ইন্ডাস্ট্রির আতিথেয়তার নিজস্ব ভাষা, যার উদ্দেশ্য আপনার সফরটিকে আজীবন স্মরণীয় করে রাখা।
আরটিভি/এসএস




