শিশুদের হার্টে ছিদ্র কেন হয়, যেসব লক্ষণে হবেন সতর্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

রোববার, ২১ জুন ২০২৬ , ০৩:২৭ পিএম


শিশুদের হার্টে ছিদ্র কেন হয়, যেসব লক্ষণে হবেন সতর্ক
শিশুদের হার্টে ছিদ্র কেন হয়, যেসব লক্ষণে হবেন সতর্ক   । ছবি: সংগৃহীত

শিশুর জন্মের পর থেকেই যদি ঘন ঘন শ্বাসকষ্ট, কাশি, দুর্বলতা বা স্বাভাবিকের তুলনায় কম ওজন বৃদ্ধি দেখা যায়, তবে তা হতে পারে হৃদপিণ্ডে ছিদ্রের লক্ষণ। চিকিৎসকদের মতে, এটি মূলত একটি জন্মগত ত্রুটি, যা গর্ভাবস্থায় শিশুর হৃদপিণ্ডের বিকাশজনিত সমস্যার কারণে হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি এক হাজার শিশুর মধ্যে আট থেকে নয়জন হৃদপিণ্ডে ছিদ্র নিয়ে জন্মায়। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মানুষের হৃদপিণ্ডে চারটি প্রকোষ্ঠ থাকে। এগুলোকে আলাদা করে রাখা পর্দায় ছিদ্র থাকলে হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের মধ্যে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে না। ফলে বিশুদ্ধ ও দূষিত রক্ত একসঙ্গে মিশে যায়। এতে হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসা না হলে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় মায়ের রুবেলা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, অপুষ্টি, তামাক বা মাদক সেবন এবং কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ সেবনের কারণে শিশুর এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে কোনো সুস্পষ্ট কারণও পাওয়া যায় না।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

হৃদপিণ্ডে ছিদ্র থাকা শিশুদের মধ্যে সাধারণত কিছু লক্ষণ দেখা যায়। যেমন—

  • দ্রুত শ্বাস নেওয়া বা শ্বাসকষ্ট
  • ঘন ঘন কাশি ও নিউমোনিয়া
  • খেলাধুলা বা দৌড়ঝাঁপে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া
  • ক্ষুধামন্দা ও ঠিকমতো খেতে না পারা
  • ওজন ও শারীরিক বৃদ্ধি কম হওয়া
  • বুক ধড়ফড় করা
  • অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
  • পা বা পেট ফুলে যাওয়া

ছিদ্র বড় হলে শিশুর ঠোঁট ও জিহ্বা নীলচে হয়ে যেতে পারে, যা অক্সিজেনের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

কীভাবে শনাক্ত করা হয়?

হৃদপিণ্ডে ছিদ্র আছে কি না তা জানতে বুকের এক্স-রে, হৃদস্পন্দনের পরীক্ষা, হৃদযন্ত্রের আল্ট্রাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়।

চিকিৎসা আছে কি?

চিকিৎসকদের মতে, হৃদপিণ্ডে ছিদ্র ধরা পড়লে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ছোট আকারের অনেক ছিদ্র সময়ের সঙ্গে নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে ওষুধের মাধ্যমে জটিলতা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।

তবে মাঝারি বা বড় ছিদ্র হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে আধুনিক পদ্ধতিতে অনেক ক্ষেত্রেই বড় ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই চিকিৎসা সম্ভব। তবে ছিদ্রের অবস্থান জটিল হলে খোলা হৃদপিণ্ডের অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।

সময়মতো চিকিৎসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুরুতেই রোগ শনাক্ত করা গেলে অধিকাংশ শিশুই সম্পূর্ণ সুস্থ জীবনযাপন করতে পারে। কিন্তু চিকিৎসায় দেরি হলে হৃদপিণ্ড বড় হয়ে যাওয়া, হৃদযন্ত্রের ভালভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, ফুসফুসে উচ্চ রক্তচাপ, এমনকি হৃদরোগ ও মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহজনিত জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

তাই শিশুর মধ্যে অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া বা ওজন না বাড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সময়মতো চিকিৎসাই শিশুকে ফিরিয়ে দিতে পারে একটি স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবন।

সূত্র: বিবিসি 


আরটিভি/জেএমএ  

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission