রাতে এক গ্লাস গরম দুধে এক চামচ মধু খান, দেখুন জাদু!

আরটিভি নিউজ

রোববার, ২১ জুন ২০২৬ , ০৪:৩২ পিএম


রাতে এক গ্লাস গরম দুধে এক চামচ মধু খান, দেখুন জাদু!
ছবি: সংগৃহীত

সুস্থ ও ফিট থাকার জন্য আমরা কত রকমের দামি সাপ্লিমেন্ট কিংবা হেলথ ড্রিংকস কিনে থাকি। কিন্তু আমাদের রান্নাঘরেই এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা সঠিকভাবে মিশিয়ে খেলে যে কোনো দামি ওষুধের চেয়েও বেশি কাজ করে থাকে। তেমনই একটি প্রাচীন ও অত্যন্ত কার্যকরী কম্বিনেশন হচ্ছে— গরম দুধ ও মধু।
 
আয়ুর্বেদ শাস্ত্র থেকে শুরু করে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান— উভয় ক্ষেত্রেই এ মিশ্রণটিকে একটি ‘অমৃত’ বা জাদুকরী পানীয় হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে।

দুধকে বলা হয়— সুষম আহার, যা ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের খনি। অন্যদিকে খাঁটি মধু হচ্ছে— প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদানের ভাণ্ডার।

প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে আপনার শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি একাধিক শারীরিক জটিলতা নিমেষে দূর হয়ে যাবে। প্রকৃতির দেওয়া এ দুই উপাদানের নিয়মিত সেবন আপনাকে সারা দিন রাখবে চনমনে, সতেজ ও রোগমুক্ত। তাই কৃত্রিম কেমিক্যালযুক্ত এনার্জি ড্রিংকস বাদ দিয়ে আজ রাত থেকেই হোক এক গ্লাস হালকা গরম দুধে এক চামচ মধু মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস। এবং সুস্থ জীবনের দিকে এক পা এগিয়ে যাওয়া।

দুধ ও মধুর এই যুগলবন্দি আপনার শরীরে প্রবেশ করার পর পুষ্টির শোষণ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিন এ অভ্যাস বজায় রাখলে যে ইতিবাচক প্রভাব চোখে পড়বে, তা বলাই বাহুল্য। 

চলুন জেনে নেওয়া যাক, দুধ ও মধুর এই যুগলবন্দি আপনার শরীরে কতটা প্রভাব ফেলে—

আরও পড়ুন

অনিদ্রা দূর ও গভীর ঘুম

যারা রাতে বালিশে মাথা দিয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা এপাশ-ওপাশ করেন বা ইনসোমনিয়ার সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এই পানীয় ওষুধের মতো কাজ করে থাকে। দুধে রয়েছে ‘ট্রিপটোফ্যান’ নামক একটি অ্যামিনো অ্যাসিড, যা আপনার মস্তিষ্কে গিয়ে ‘সেবোটোনিন’ এবং পরে ‘মেলাটোনিন’ বা ঘুমের হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে। মধুর গ্লুকোজ এ ট্রিপটোফ্যানকে খুব দ্রুত মস্তিষ্কে পৌঁছাতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে তাকে। ফলে মন শান্ত হয় এবং নিমেষের মধ্যে গভীর ও আরামের ঘুম আসে। 

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

ঋতু পরিবর্তনের সময় ঠান্ডা লাগা, সর্দি-কাশি কিংবা গলার খুসখুসে ভাব দূর করতে দুধ-মধুর মিশ্রণ অনন্য। মধুর মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা গলার ভেতরের সংক্রমণ দূর করে থাকে। আর গরম দুধ আপনার শরীরের ক্লান্তি দূর করে শক্তি জোগায়। নিয়মিত এটি খেলে শরীরের শ্বেত রক্তকণিকার কার্যক্ষমতা বাড়ে। ফলে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের আক্রমণ সহজে আপনার শরীরকে কাবু করতে পারে না।

হজমশক্তি উন্নত ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

মধু হচ্ছে একটি চমৎকার ‘প্রিবায়োটিক’ যা পাকস্থলীতে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে। অন্যদিকে গরম দুধ আমাদের পরিপাকতন্ত্র বা বাওয়েল মুভমেন্টকে সচল রাখে। রাতে এ মিশ্রণটি খেয়ে ঘুমালে সকালে পেট পরিষ্কার হয় এবং গ্যাস, অ্যাসিডিটি ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো ক্রনিক সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে।

হাড়ের গঠন শক্ত ও জয়েন্টের ব্যথা কমায়

দুধে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, যা হাড় মজবুত রাখার জন্য প্রধান উপাদান। কিন্তু অনেক সময় শরীর এ ক্যালসিয়াম পুরোপুরি শোষণ করতে পারে না। আর মধুর মধ্যে থাকা বিশেষ পুষ্টিগুণ রক্তে ক্যালসিয়াম শোষণের হার বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে বয়সজনিত কারণে হাড়ের ক্ষয়, হাঁটুর ব্যথা বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়

দুধ ও মধুর মিশ্রণ ভেতর থেকে আপনার শরীরকে ডিটক্সিফাই বা বিষমুক্ত করতে সাহায্য করে। ফলে রক্তের পরিচ্ছন্নতা বাড়ে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকে। ত্বকের কালচে ভাব দূর হয়ে এক প্রাকৃতিক জেল্লা বা গ্লো ফিরে আসে। এ ছাড়া চুলের গোড়াতেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছায়। ফলে চুল পড়া বন্ধ হয়।

তবে দুধ ও মধু খাওয়ার সময় একটি বিষয় সবসময় মনে রাখবেন। ফুটন্ত বা অতিরিক্ত গরম দুধে কখনো মধু মেশাবেন না। কারণ অতিরিক্ত তাপে মধুর ওষধি গুণাগুণ ও এনজাইমগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সবসময় দুধ ফুটিয়ে নেওয়ার পর তা হালকা কুসুম কুসুম গরম অবস্থায় তাতে মধু মেশাবেন। তা না হলে মঙ্গলের বদলে অমঙ্গলই দেখা দেবে। 

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission