ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

আলু বেশি খাচ্ছেন, দেখা দিতে পারে যেসব সমস্যা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

আলু ছাড়া বাঙালির রান্নাঘর যেন কল্পনাই করা যায় না। ভর্তা, ভাজি, তরকারি, বিরিয়ানি কিংবা নাশতা, প্রায় সব ধরনের খাবারেই আলুর ব্যবহার করতে আমরা ভালোবাসি। পুষ্টিগুণের দিক থেকেও আলু খারাপ নয়। এতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম এবং কিছু পরিমাণ খাদ্যআঁশ।

তবে যে কোনো খাবারের মতো আলুও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত আলু খাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করা আলু নিয়মিত খেলে কিছু মানুষের হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই পেটের সমস্যা রয়েছে, তাদের আরও সতর্ক থাকা উচিত।

একসঙ্গে বেশি আলু খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে

আলুতে প্রচুর স্টার্চ বা শর্করা থাকে। একবারে অনেক বেশি আলু খেলে তা হজম করতে শরীরের কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। ফলে কারও কারও ক্ষেত্রে পেট ভার লাগা, অস্বস্তি বা বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যদি খাবারের সঙ্গে সবজি ও প্রোটিনের পরিমাণ কম থাকে।

ভাজা আলু হতে পারে গ্যাসের কারণ

সেদ্ধ বা ভাপানো আলুর তুলনায় ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা আলু হজমে তুলনামূলক ভারী। এ ধরনের খাবারে তেলের পরিমাণ বেশি থাকায় অনেকের গ্যাস, পেট ফাঁপা বা বুকজ্বালার সমস্যা বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত ভাজা আলুর পরিবর্তে সেদ্ধ বা কম তেলে রান্না করা আলু খাওয়াই ভালো।

আরও পড়ুন

সবুজ বা অঙ্কুরিত আলু খাওয়া উচিত নয়

আলু যদি সবুজ হয়ে যায় বা তাতে অঙ্কুর গজায়, তাহলে সেটি না খাওয়াই নিরাপদ। এ ধরনের আলুতে সোলানাইন নামের একটি প্রাকৃতিক বিষাক্ত যৌগের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। বেশি পরিমাণে এটি শরীরে গেলে বমি, পেটব্যথা, ডায়রিয়া এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সবুজ বা অঙ্কুরিত অংশ কেটে ফেলাই যথেষ্ট নয়। এমন আলু পুরোপুরি ফেলে দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

যাদের আইবিএস আছে, তারা সতর্ক থাকুন

ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএসে আক্রান্ত অনেক মানুষের ক্ষেত্রে কিছু খাবার পেটের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। যদিও সাধারণ আলু কম ফডম্যাপ খাবারের তালিকায় রয়েছে, তবু একবারে বেশি পরিমাণে খেলে কিছু মানুষের গ্যাস, পেট ফাঁপা বা তলপেটে অস্বস্তি হতে পারে। তাই নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে পরিমাণ ঠিক করা উচিত।

অতিরিক্ত ভাজা আলু অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বাড়াতে পারে

আলুর চেয়ে বরং রান্নার ধরনই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তেল, ডালডা বা বারবার ব্যবহার করা তেলে ভাজা আলু নিয়মিত খেলে অনেকের অম্বল, টক ঢেকুর, বুকজ্বালা বা হজমের সমস্যা বাড়তে পারে।

অতিরিক্ত আলু খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে পারে

আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক বেশি। তাই একসঙ্গে বেশি আলু খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিস থাকলে আলুর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অন্য সবজি, ডাল ও প্রোটিনের সঙ্গে খাওয়াই ভালো।

কীভাবে আলু খেলে সমস্যা কম হবে?

পুষ্টিবিদদের পরামর্শ হলো-

একবারে খুব বেশি আলু না খাওয়া
ভাজা আলুর বদলে সেদ্ধ, ভাপানো বা কম তেলে রান্না করা আলু বেছে নেওয়া
আলুর সঙ্গে পর্যাপ্ত সবজি, ডাল বা প্রোটিন রাখা
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার ও পানি রাখা
সবুজ বা অঙ্কুরিত আলু কখনো না খাওয়া
আলু নিজে কোনো অস্বাস্থ্যকর খাবার নয়। বরং এটি একটি পুষ্টিকর সবজি। তবে অতিরিক্ত খাওয়া বা অস্বাস্থ্যকরভাবে রান্না করা আলু নিয়মিত খেলে হজমের সমস্যা, গ্যাস বা অম্বলের মতো অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

পরিমিত পরিমাণে এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করা আলু খেলে বেশিরভাগ মানুষই কোনো সমস্যা ছাড়াই এটি খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। তবে আলু খাওয়ার পর যদি নিয়মিত পেটব্যথা, গ্যাস বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র: টিভি ৯

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন।
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
আরও পড়ুন
‘বেশি লাভের আশায়’ রেখে কোল্ড স্টোরেজেই ১৫ হাজার বস্তা আলু পচে নষ্ট
আলু-পেঁয়াজ রপ্তানির সম্ভাবনা যাচাইয়ে শ্রীলঙ্কায় যাবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল
বেশি আলু খেলে কী গ্যাসের সমস্যা হয়
আলু বিক্রি বাড়াতে দোকানে নর্তকীর নাচ, ভিডিও ভাইরাল