আলু বেশি খাচ্ছেন, দেখা দিতে পারে যেসব সমস্যা

আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ , ০৪:৫১ পিএম


আলু বেশি খাচ্ছেন, দেখা দিতে পারে এসব সমস্যা
ছবি : সংগৃহীত

আলু ছাড়া বাঙালির রান্নাঘর যেন কল্পনাই করা যায় না। ভর্তা, ভাজি, তরকারি, বিরিয়ানি কিংবা নাশতা, প্রায় সব ধরনের খাবারেই আলুর ব্যবহার করতে আমরা ভালোবাসি। পুষ্টিগুণের দিক থেকেও আলু খারাপ নয়। এতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম এবং কিছু পরিমাণ খাদ্যআঁশ।

তবে যে কোনো খাবারের মতো আলুও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত আলু খাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করা আলু নিয়মিত খেলে কিছু মানুষের হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই পেটের সমস্যা রয়েছে, তাদের আরও সতর্ক থাকা উচিত।

একসঙ্গে বেশি আলু খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে

আলুতে প্রচুর স্টার্চ বা শর্করা থাকে। একবারে অনেক বেশি আলু খেলে তা হজম করতে শরীরের কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। ফলে কারও কারও ক্ষেত্রে পেট ভার লাগা, অস্বস্তি বা বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যদি খাবারের সঙ্গে সবজি ও প্রোটিনের পরিমাণ কম থাকে।

ভাজা আলু হতে পারে গ্যাসের কারণ

সেদ্ধ বা ভাপানো আলুর তুলনায় ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা আলু হজমে তুলনামূলক ভারী। এ ধরনের খাবারে তেলের পরিমাণ বেশি থাকায় অনেকের গ্যাস, পেট ফাঁপা বা বুকজ্বালার সমস্যা বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত ভাজা আলুর পরিবর্তে সেদ্ধ বা কম তেলে রান্না করা আলু খাওয়াই ভালো।

আরও পড়ুন

সবুজ বা অঙ্কুরিত আলু খাওয়া উচিত নয়

আলু যদি সবুজ হয়ে যায় বা তাতে অঙ্কুর গজায়, তাহলে সেটি না খাওয়াই নিরাপদ। এ ধরনের আলুতে সোলানাইন নামের একটি প্রাকৃতিক বিষাক্ত যৌগের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। বেশি পরিমাণে এটি শরীরে গেলে বমি, পেটব্যথা, ডায়রিয়া এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সবুজ বা অঙ্কুরিত অংশ কেটে ফেলাই যথেষ্ট নয়। এমন আলু পুরোপুরি ফেলে দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

যাদের আইবিএস আছে, তারা সতর্ক থাকুন

ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএসে আক্রান্ত অনেক মানুষের ক্ষেত্রে কিছু খাবার পেটের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। যদিও সাধারণ আলু কম ফডম্যাপ খাবারের তালিকায় রয়েছে, তবু একবারে বেশি পরিমাণে খেলে কিছু মানুষের গ্যাস, পেট ফাঁপা বা তলপেটে অস্বস্তি হতে পারে। তাই নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে পরিমাণ ঠিক করা উচিত।

অতিরিক্ত ভাজা আলু অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বাড়াতে পারে

আলুর চেয়ে বরং রান্নার ধরনই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তেল, ডালডা বা বারবার ব্যবহার করা তেলে ভাজা আলু নিয়মিত খেলে অনেকের অম্বল, টক ঢেকুর, বুকজ্বালা বা হজমের সমস্যা বাড়তে পারে।

অতিরিক্ত আলু খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে পারে

আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক বেশি। তাই একসঙ্গে বেশি আলু খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিস থাকলে আলুর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অন্য সবজি, ডাল ও প্রোটিনের সঙ্গে খাওয়াই ভালো।

কীভাবে আলু খেলে সমস্যা কম হবে?

পুষ্টিবিদদের পরামর্শ হলো-

একবারে খুব বেশি আলু না খাওয়া
ভাজা আলুর বদলে সেদ্ধ, ভাপানো বা কম তেলে রান্না করা আলু বেছে নেওয়া
আলুর সঙ্গে পর্যাপ্ত সবজি, ডাল বা প্রোটিন রাখা
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার ও পানি রাখা
সবুজ বা অঙ্কুরিত আলু কখনো না খাওয়া
আলু নিজে কোনো অস্বাস্থ্যকর খাবার নয়। বরং এটি একটি পুষ্টিকর সবজি। তবে অতিরিক্ত খাওয়া বা অস্বাস্থ্যকরভাবে রান্না করা আলু নিয়মিত খেলে হজমের সমস্যা, গ্যাস বা অম্বলের মতো অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

পরিমিত পরিমাণে এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করা আলু খেলে বেশিরভাগ মানুষই কোনো সমস্যা ছাড়াই এটি খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। তবে আলু খাওয়ার পর যদি নিয়মিত পেটব্যথা, গ্যাস বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র: টিভি ৯

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission