ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

গর্ভধারণে ব্যর্থতা থাইরয়েডের সমস্যার জন্যও হতে পারে

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

গর্ভধারণের চেষ্টা করেও সফল হচ্ছেন না? আপনার থাইরয়েড হতে পারে এই ব্যর্থতার কারণ। এই ছোট গ্রন্থিটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত হয়। কিন্তু প্রজনন স্বাস্থ্যে এটি একটি বড় ভূমিকা পালন করে। অনিয়মিত মাসিক, বারবার গর্ভপাত বা বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় ব্যর্থতার মতো সমস্যায় ভোগা অনেক নারীই বুঝতে পারেন না যে এর কারণ তাদের থাইরয়েড হতে পারে।

থাইরয়েডের সমস্যা কি সত্যিই প্রজনন ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে?

হ্যাঁ, অবশ্যই। গর্ভধারণে সমস্যার অন্যতম সাধারণ এবং উপেক্ষিত কারণগুলোর মধ্যে থাইরয়েডের সমস্যা অন্যতম। থাইরয়েড গ্রন্থিটি ছোট। প্রজাপতির মতো আকৃতির। ঠিক ঘাড়ে অবস্থিত। কিন্তু এটি মেটাবলিজম, শক্তি, ওজন, মেজাজ এবং প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ করে। সবকিছু সুষ্ঠুভাবে কাজ করার জন্য, সমস্ত হরমোনের একটি নিখুঁত ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে থাইরয়েড হরমোন একটি প্রধান ভূমিকা পালন করে। এর মাত্রা খুব বেশি বা খুব কম হলে সেই ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এবং এর ফলে প্রজনন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

‘জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল মেডিসিন রিসার্চ’-এর ২০২৫ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, বিশ্বজুড়ে সন্তান ধারণের চেষ্টাকারী দম্পতিদের মধ্যে প্রায় ১৫-২০% বন্ধ্যাত্বে ভোগেন। থাইরয়েডের সমস্যাকে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা বন্ধ্যা দম্পতিদের মধ্যে ৫-১০% ক্ষেত্রে দেখা যায়। এটি দেখায় যে, থাইরয়েডের স্বাস্থ্য উপেক্ষিত হলেও, প্রজনন ক্ষমতার সমস্যায় এর ভূমিকা রয়েছে। যে কারণে কোনো দম্পতি গর্ভধারণে সমস্যার সম্মুখীন হলে ডাক্তাররা শুরুতেই থাইরয়েডের মাত্রা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।

নিষ্ক্রিয় থাইরয়েড কীভাবে প্রজনন ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে?

গর্ভধারণের চেষ্টাকারী মহিলাদের মধ্যে হাইপোথাইরয়েডিজম সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা। থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা কম হলে ডিম্বস্ফোটন অনিয়মিত হতে পারে বা নিয়মিত নাও হতে পারে। ডিম্বস্ফোটন নেই মানে গর্ভধারণও নেই। ব্যাপারটা এমনই সহজ।

আরও পড়ুন

এই লক্ষণগুলো খেয়াল করুন:

* অনিয়মিত মাসিক, অতিরিক্ত রক্তপাত, মাসিক চক্র দেরিতে শুরু হওয়া

* গর্ভপাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি

* ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, চুল পড়া

* কোষ্ঠকাঠিন্য, শুষ্ক ত্বক

* অস্বাভাবিক ঠান্ডা লাগা

* অনেক নারীর ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। ঠিক একারণেই পরীক্ষা করানোটা এত গুরুত্বপূর্ণ।

অতিসক্রিয় থাইরয়েড কীভাবে প্রজনন ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে?

হাইপারথাইরয়েডিজম তার নিজস্ব সমস্যা তৈরি করে। নারীদের অনিয়মিত বা স্বল্প মাসিক, ডিম্বস্ফোটনে অসুবিধা এবং গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে। গর্ভপাতের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

যে লক্ষণগুলো খেয়াল রাখতে হবে:

* ভালোভাবে খাওয়া-দাওয়া করা সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া
* বুক ধড়ফড় করা এবং উদ্বেগ

* অতিরিক্ত ঘাম, কাঁপুনি

* অস্বাভাবিক গরম লাগা

* থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ খুব কম বা খুব বেশি হওয়া। উভয় ক্ষেত্রেই প্রজনন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গর্ভধারণের পরেও কি থাইরয়েডের স্বাস্থ্য গুরুত্বপূর্ণ?

হ্যাঁ, অবশ্যই। থাইরয়েডের সমস্যার চিকিৎসা না করালে তা গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে গর্ভপাত, সময়ের আগে প্রসব এবং শিশুর উচ্চ রক্তচাপ বা শারীরিক বৃদ্ধির সমস্যার মতো জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ কারণেই যেসব রোগী বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় ভুগছেন, যাদের বারবার গর্ভপাত হচ্ছে বা যাদের আইভিএফ (IVF) চক্র ব্যর্থ হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে থাইরয়েড পরীক্ষা করাই সাধারণত তার প্রথম পদক্ষেপ।

পরীক্ষা এবং চিকিৎসা কি সহজ?

রোগ নির্ণয় করা সহজ। চিকিৎসাও ঠিক ততটাই সহজসাধ্য। ওষুধ এবং জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে মাত্রা ঠিক হয়ে গেলে, অনেক নারীই আবার নিয়মিত ডিম্বস্ফোটন শুরু করেন। তাদের গর্ভধারণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এমনকী থাইরয়েডের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণে এলে আইইউআই (IUI) এবং আইভিএফ (IVF)-এর ফলাফলও ভালো হয়।

আরটিভি/এমএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
পাকিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্কেরই আছে মানসিক সমস্যা, বলছে গবেষণা
গর্ভাবস্থায় ‘ভুলে যাওয়া সমস্যার’ রহস্য খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা 
জেনে নিন পুরুষের ৩ গোপন রোগ ও চিকিৎসা
গ্রামীণ জনপদে বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক সমস্যা