গর্ভধারণে ব্যর্থতা থাইরয়েডের সমস্যার জন্যও হতে পারে

আরটিভি নিউজ 

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ , ০৬:৪৪ পিএম


গর্ভধারণে ব্যর্থতা থাইরয়েডের সমস্যার জন্যও হতে পারে
ছবি: সংগৃহীত

গর্ভধারণের চেষ্টা করেও সফল হচ্ছেন না? আপনার থাইরয়েড হতে পারে এই ব্যর্থতার কারণ। এই ছোট গ্রন্থিটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত হয়। কিন্তু প্রজনন স্বাস্থ্যে এটি একটি বড় ভূমিকা পালন করে। অনিয়মিত মাসিক, বারবার গর্ভপাত বা বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় ব্যর্থতার মতো সমস্যায় ভোগা অনেক নারীই বুঝতে পারেন না যে এর কারণ তাদের থাইরয়েড হতে পারে।

থাইরয়েডের সমস্যা কি সত্যিই প্রজনন ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে?

হ্যাঁ, অবশ্যই। গর্ভধারণে সমস্যার অন্যতম সাধারণ এবং উপেক্ষিত কারণগুলোর মধ্যে থাইরয়েডের সমস্যা অন্যতম। থাইরয়েড গ্রন্থিটি ছোট। প্রজাপতির মতো আকৃতির। ঠিক ঘাড়ে অবস্থিত। কিন্তু এটি মেটাবলিজম, শক্তি, ওজন, মেজাজ এবং প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ করে। সবকিছু সুষ্ঠুভাবে কাজ করার জন্য, সমস্ত হরমোনের একটি নিখুঁত ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে থাইরয়েড হরমোন একটি প্রধান ভূমিকা পালন করে। এর মাত্রা খুব বেশি বা খুব কম হলে সেই ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এবং এর ফলে প্রজনন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

‘জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল মেডিসিন রিসার্চ’-এর ২০২৫ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, বিশ্বজুড়ে সন্তান ধারণের চেষ্টাকারী দম্পতিদের মধ্যে প্রায় ১৫-২০% বন্ধ্যাত্বে ভোগেন। থাইরয়েডের সমস্যাকে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা বন্ধ্যা দম্পতিদের মধ্যে ৫-১০% ক্ষেত্রে দেখা যায়। এটি দেখায় যে, থাইরয়েডের স্বাস্থ্য উপেক্ষিত হলেও, প্রজনন ক্ষমতার সমস্যায় এর ভূমিকা রয়েছে। যে কারণে কোনো দম্পতি গর্ভধারণে সমস্যার সম্মুখীন হলে ডাক্তাররা শুরুতেই থাইরয়েডের মাত্রা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।

নিষ্ক্রিয় থাইরয়েড কীভাবে প্রজনন ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে?

গর্ভধারণের চেষ্টাকারী মহিলাদের মধ্যে হাইপোথাইরয়েডিজম সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা। থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা কম হলে ডিম্বস্ফোটন অনিয়মিত হতে পারে বা নিয়মিত নাও হতে পারে। ডিম্বস্ফোটন নেই মানে গর্ভধারণও নেই। ব্যাপারটা এমনই সহজ।

আরও পড়ুন

এই লক্ষণগুলো খেয়াল করুন:

* অনিয়মিত মাসিক, অতিরিক্ত রক্তপাত, মাসিক চক্র দেরিতে শুরু হওয়া

* গর্ভপাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি

* ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, চুল পড়া

* কোষ্ঠকাঠিন্য, শুষ্ক ত্বক

* অস্বাভাবিক ঠান্ডা লাগা

* অনেক নারীর ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। ঠিক একারণেই পরীক্ষা করানোটা এত গুরুত্বপূর্ণ।

অতিসক্রিয় থাইরয়েড কীভাবে প্রজনন ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে?

হাইপারথাইরয়েডিজম তার নিজস্ব সমস্যা তৈরি করে। নারীদের অনিয়মিত বা স্বল্প মাসিক, ডিম্বস্ফোটনে অসুবিধা এবং গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে। গর্ভপাতের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

যে লক্ষণগুলো খেয়াল রাখতে হবে:

* ভালোভাবে খাওয়া-দাওয়া করা সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া
* বুক ধড়ফড় করা এবং উদ্বেগ

* অতিরিক্ত ঘাম, কাঁপুনি

* অস্বাভাবিক গরম লাগা

* থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ খুব কম বা খুব বেশি হওয়া। উভয় ক্ষেত্রেই প্রজনন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গর্ভধারণের পরেও কি থাইরয়েডের স্বাস্থ্য গুরুত্বপূর্ণ?

হ্যাঁ, অবশ্যই। থাইরয়েডের সমস্যার চিকিৎসা না করালে তা গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে গর্ভপাত, সময়ের আগে প্রসব এবং শিশুর উচ্চ রক্তচাপ বা শারীরিক বৃদ্ধির সমস্যার মতো জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ কারণেই যেসব রোগী বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় ভুগছেন, যাদের বারবার গর্ভপাত হচ্ছে বা যাদের আইভিএফ (IVF) চক্র ব্যর্থ হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে থাইরয়েড পরীক্ষা করাই সাধারণত তার প্রথম পদক্ষেপ।

পরীক্ষা এবং চিকিৎসা কি সহজ?

রোগ নির্ণয় করা সহজ। চিকিৎসাও ঠিক ততটাই সহজসাধ্য। ওষুধ এবং জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে মাত্রা ঠিক হয়ে গেলে, অনেক নারীই আবার নিয়মিত ডিম্বস্ফোটন শুরু করেন। তাদের গর্ভধারণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এমনকী থাইরয়েডের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণে এলে আইইউআই (IUI) এবং আইভিএফ (IVF)-এর ফলাফলও ভালো হয়।

আরটিভি/এমএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission