ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রচণ্ড গরমে হিট স্ট্রোকের কতটা ঝুঁকিতে আপনি?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ১০:১২ এএম
ছবি: সংগৃহীত

প্রচণ্ড গরমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে মানবদেহ থেকে প্রচুর ঘাম ঝরে। এই ঘাম বাষ্পীভূত হয়ে দেহকে শীতল রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় কিংবা তীব্র তাপপ্রবাহে সময় শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে হিট স্ট্রোক হয়ে থাকে, যা একটি প্রাণঘাতী মেডিকেল ইমার্জেন্সি বা জরুরি অবস্থা।

মূলত, যখন মানব শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রাকৃতিক ক্ষমতা নষ্ট হয়ে শরীরের মূল বা স্বাভাবিক তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়ে যায়, তখন তাকে হিট স্ট্রোক বলে বিবেচনা করা হয়। এই অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসাসেবা না পেলে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুও ঘটতে পারে।

হিট স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণসমূহ হলো : শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হওয়া। ত্বক শুষ্ক, লালচে ও গরম হয়ে যাওয়া (ঘাম বন্ধ হওয়া)। অতিরিক্ত পিপাসা অথবা ঘেমে দুর্বল হয়ে পড়া। অতিরিক্ত মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা। বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া। দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন হওয়া। আক্রান্ত ব্যক্তির মানসিক আচরণে পরিবর্তন, প্রলাপ বকা, বিভ্রান্তি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। পেশিতে টান লাগা বা তীব্র ব্যথা অনুভব হওয়া।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি : মূলত শিশু এবং বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হন। কারণ তাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কম থাকে।

শ্রমজীবী মানুষ : যারা কড়া রোদে দীর্ঘক্ষণ কায়িক পরিশ্রম করেন (যেমন—দিনমজুর, কৃষক, রিকশাচালক, নির্মাণ শ্রমিক, ট্রাফিক পুলিশ)।

দীর্ঘস্থায়ী রোগী : যারা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন।

নির্দিষ্ট ওষুধ সেবনকারী: যারা মূত্রবর্ধক, অ্যাসপিরিন, অ্যান্টিহিস্টামিন বা বিটা-ব্লকার জাতীয় ওষুধ খাচ্ছেন।

এছাড়া, স্থূল বা অতিরিক্ত ওজনের অধিকারী ব্যক্তিরাও এতে আক্রান্ত হতে পারেন।

আরও পড়ুন

কেউ আক্রান্ত হলে জরুরি করণীয়

চিকিৎসকদের মতে, হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিক কিছু পদক্ষেপ নেওয়া অতি জরুরি।

১. রোগীকে দ্রুত কোনো ঠান্ডা, ছায়াযুক্ত বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

২. ভেজা কাপড় দিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির সারা শরীর মুছে দিন এবং ফ্যানের বাতাসে শরীর ঠান্ডা করার চেষ্টা করুন।

৩. রোগীর মাথায় ও ঘাড়ে বরফ বা ঠান্ডা পানির প্যাক দিন।

৪. আক্রান্ত ব্যক্তি যদি স্বাভাবিকভাবে গিলতে পারেন, তবে অল্প অল্প করে বিশুদ্ধ পানি বা স্যালাইন পান করান।

৫. রোগীর অবস্থা গুরুতর (অজ্ঞান, তীব্র বিভ্রান্তি বা খিঁচুনি) হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে কিংবা জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া দরকার।

প্রতিরোধের উপায়

তীব্র রোদে বা গরমে খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া থেকে (বিশেষ করে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত) বিরত থাকুন। পিপাসা লাগুক বা না লাগুক, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি, ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও খাবার স্যালাইন পান করুন। গরমে হালকা রঙের, ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরিধান করুন। বাইরে বের হলে রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা ও টুপি বা ক্যাপ ব্যবহার করুন।

এছাড়া, চা ও কফির মতো পানীয় এড়িয়ে চলুন কারণ এগুলো শরীরকে পানিশূন্য করে।

আরটিভি/এমএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নারী-পুরুষের শার্টের বোতাম বিপরীত দিকে থাকে কেন?
পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে আর নারীদের বাম দিকে কেন থাকে? এ বিষয়ে কি কখনো ভেবে দেখেছেন? এ বিষয়ে অবশ্য কেউই তেমন নিশ্চিত নন। তবে অনেক ইতিহাসবিদের ধারণা, পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে থাকার কারণ হলো পোশাকে অস্ত্র রাখার ব্যবস্থার মাধ্যমেই এ ঘটনার চল হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন ইতিহাসবিদ ড. ক্লো চ্যাপিন টাইমের সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে জানান, পুরুষের পোশাকের বোতাম ডান দিকে থাকার এই শৈলী সামরিক বাহিনী থেকে আসতে পারে। শার্টে বন্দুক লুকানো থাকলে এক্ষেত্রে হাত দ্রুত পৌঁছানো সহজ। বোতামগুলো ডানদিকে থাকলে ডান হাতটি শার্ট বা জ্যাকেটে আরও সহজভাবে ঢুকিয়ে বের করা যায়। আবার কিছু পণ্ডিত যুক্তি দেন, তরবারি রাখার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। এ জেন্টলম্যান’স ওয়ারড্রোবের পল কিয়ার্স গার্ডিয়ানকে জানান, বেশিরভাগ মানুষই তলোয়ার সব সময় বাম দিকে পরিধান করেন, যাতে এটি ডান হাতে ধরা যায় সহজেই।’ বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা জানিয়েছেন, পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে হওয়ার কারণ হলো অস্ত্র সম্পর্কিত। অর্থাৎ শার্টের বোতাম ডানপাশে হলে অস্ত্র বাম পাশে রাখলে ডান হাত দিয়ে তা সহজেই বের করা যায়। তাহলে নারীদের পোশাকের বোতাম বাম দিকে কেন? শার্ট ব্র্যান্ড এলিজাবেথ ও ক্লার্কের প্রতিষ্ঠাতা মেলানি মুরের মতে, ১৩ শতকে যখন বোতাম আবিষ্কৃত হয়েছিল, তখন ধনী নারীদের পোশাক বেশ ভারি হত। বিশেষ করে ওই সময় ধনী নারীরা দাসীর সাহায্য ছাড়া নিজেরা পোশাক পরতে পারতেন না। সেক্ষেত্রে পোশাকের বোতাম লাগানোর কাজও দাসীরাই সারতেন। এজন্য বাম পাশে বোতাম লাগানো হত, যাতে সেগুলো সহজেই লাগাতে পারেন দাসীরা। তখন থেকেই হয়তো এটি ধারণা প্রচলিত। আরেকটি তত্ত্ব হলো, বেশিরভাগ নারীই বাম হাতে বাচ্চাদের ধরেন। এক্ষেত্রে যাতে তাদের বুকের দুধ খাওয়ানো সহজ হয় এজনই শার্টের বোতাম বাম দিকে রাখা হয়। যাতে জরুরি মুহূর্তে তারা সহজেই বোতাম খুলতে পারেন। তবে অতীতের এই ধারণাকে এখন তোয়াক্কা করেন না বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সংস্থা। এখন নারীদের শার্টের বোতামও ডান দিকে রাখা হয়। সূত্র: ইনসাইডার/টাইম/গার্ডিয়ান আরটিভি/এসআর
নারী-পুরুষের শার্টের বোতাম বিপরীত দিকে থাকে কেন?
আজ স্বপ্ন দেখার দিন
স্বপ্ন মানুষকে শুধু ভবিষ্যতের কল্পনায় ডুবিয়ে রাখে না, বরং সেই স্বপ্ন পূরণের পথও দেখায়।
আজ স্বপ্ন দেখার দিন
ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত সিরামের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 
রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করছেন? সম্পর্কে আসতে পারে বিপদ
ফিটনেস, ত্বকের যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে শুরু করে সম্পর্ক—সব বিষয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের পরামর্শ পাওয়া যায়।
রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করছেন? সম্পর্কে আসতে পারে বিপদ
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস (PCOS) এখন অনেক নারীরই পরিচিত সমস্যা।
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি
আরও পড়ুন
ধান কাটতে গিয়ে হিট স্ট্রোকে কৃষকের মৃত্যু
প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখবে যেসব সবজি!  
পাম্পে তেল নিতে এসে হিট স্ট্রোকে ব্যবসায়ীর মৃত্যু
প্রচণ্ড গরমে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে যা করবেন