বর্ষা এলেই বাড়ে মশার উপদ্রব। আর মশার কামড়ের পর শুরু হয় অসহ্য চুলকানি, জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি। অনেকের ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা, আবার কারও ক্ষেত্রে কয়েক দিন পর্যন্ত এই সমস্যা থাকে। তবে কেন এমন হয়, আর কী করলে দ্রুত আরাম মিলতে পারে—জেনে রাখা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা কামড়ানোর সময় শুধু রক্তই খায় না, ত্বকের ভেতরে নিজের লালাও প্রবেশ করায়। এই লালায় থাকা কিছু উপাদানকে শরীর ক্ষতিকর হিসেবে শনাক্ত করে। তখন শরীর থেকে একটি বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ বের হয়, যার কারণে কামড়ের জায়গায় লালচে ভাব, ফোলাভাব, জ্বালা ও চুলকানি শুরু হয়।
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় এই চুলকানি আরও দীর্ঘ সময় স্থায়ী হতে পারে। ঘাম হলে অস্বস্তি আরও বেড়ে যায়। অনেকেই বারবার চুলকাতে থাকেন, এতে ত্বকের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।
চুলকানি কমানোর সহজ উপায়:
ঠান্ডা সেঁক দিন
পরিষ্কার কাপড়ে বরফ জড়িয়ে বা ঠান্ডা ভেজা কাপড় কয়েক মিনিট কামড়ের জায়গায় ধরে রাখুন। এতে ফোলাভাব ও চুলকানি অনেকটাই কমে যেতে পারে।
প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার করতে পারেন
ইউক্যালিপটাস, নারকেল, জলপাই বা পুদিনার তেল সাময়িকভাবে আরাম দিতে পারে। এসব তেল ত্বক আর্দ্র রাখার পাশাপাশি প্রদাহ কমাতেও সহায়তা করে।
চুলকানো থেকে বিরত থাকুন
বারবার চুলকালে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে এবং ফোলাভাব আরও বেশি হতে পারে।
মশার কামড় এড়াতে যা করবেন
মশার কামড় থেকে বাঁচতে ঘরের আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেবেন না। বিকেলের পর জানালা-দরজা বন্ধ রাখুন। নিয়মিত মশারি ব্যবহার করুন। বাইরে গেলে ফুলহাতা পোশাক পরুন এবং প্রয়োজন হলে মশা প্রতিরোধে ব্যবহৃত ক্রিম ব্যবহার করুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে ছোট ছোট সতর্কতাই সবচেয়ে কার্যকর। এতে যেমন মশার কামড় কমবে, তেমনি ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও অনেকটা কমানো সম্ভব।
আরটিভি/জেএমএ




