আজ একা মানুষকে হাসানোর দিন। প্রতি বছর ১১ জুলাই দিনটি পালন করা হয়। একাকীত্বে ভোগা, দুঃসময় পার করা কিংবা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিতেই এই বিশেষ দিনের প্রচলন।
বর্তমান সময়ে নানা কারণে অনেক মানুষ একাকীত্বে ভোগেন। কেউ অসুস্থতার কারণে, কেউ আর্থিক সংকটে, কেউ প্রিয়জন হারানোর কষ্টে, আবার কেউ ব্যক্তিগত কারণে নিজেকে গুটিয়ে নেন। এমন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সামান্য সময়, একটি ফোনকল কিংবা আন্তরিক খোঁজখবরই হতে পারে সবচেয়ে বড় উপহার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একাকীত্ব শুধু মানসিক কষ্টই বাড়ায় না, এটি শারীরিক সুস্থতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ানো এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এই দিনটি উপলক্ষে একাকী মানুষদের একটু ভালো রাখার জন্য কয়েকটি সহজ কাজ করা যেতে পারে। যেমন— তাদের সঙ্গে দেখা করা, ফোনে কথা বলা, একসঙ্গে সিনেমা দেখা, বই পড়ে শোনানো, পছন্দের খাবার রান্না করে দেওয়া, হাঁটতে নিয়ে যাওয়া কিংবা শুধু কিছু সময় গল্প করা। এমনকি একটি আন্তরিক শুভেচ্ছা কার্ড বা হাসির কোনো গল্পও তাদের মন ভালো করে দিতে পারে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, দুঃখ ভাগ করে নিলে তার ভার অনেকটাই কমে যায়। তাই যিনি একা আছেন, তাকে অনুভব করানো দরকার যে তিনি একা নন।
দিনটির ইতিহাসও মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট শহরের বাসিন্দা ফ্রান্সিস পেসেক এই দিনের প্রচলন করেন। নিজের জন্মদিন উপলক্ষে তিনি এমন একটি দিন চালু করতে চেয়েছিলেন, যা মানুষকে একাকী, অবহেলিত এবং বৃদ্ধাশ্রমে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে। তার পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ছিলেন শান্ত, দয়ালু এবং মানুষের প্রতি গভীর সহানুভূতিশীল একজন মানুষ।
একাকী মানুষকে হাসানোর দিনের মূল বার্তা একটাই—একটি ছোট্ট মানবিক উদ্যোগও কারও জীবনে বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে। তাই আজ একটু সময় বের করে খোঁজ নিন সেই মানুষটির, যিনি হয়তো আপনার একটি ফোনকল, একটি বার্তা কিংবা কয়েক মিনিটের সঙ্গের অপেক্ষায় আছেন।
আরটিভি/জেএমএ



