জমির পর্চা কেন গুরুত্বপূর্ণ? অনলাইনে খুঁজবেন যেভাবে

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ , ০১:২১ পিএম


জমির পর্চা কেন গুরুত্বপূর্ণ? অনলাইনে খুঁজবেন যেভাবে
ছবি: সংগৃহীত

জমির কাগজপত্র অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যা প্রয়োজনের সময় হাতের নাগালে না পেলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তে হয়। জমির মালিকানা যাচাই, কেনাবেচা বা কোনো আইনি প্রয়োজনে জমির দলিলের মতো এর ‘পর্চা’ও গুরুত্বপূর্ণ। যা আগে খুঁজে পাওয়া কষ্টসাধ্য থাকলেও এখন অনলাইনে সহজেই পাওয়া যায়।

জমির গুরুত্বপূর্ণ নথি পর্চা কী, এটি কীভাবে খুঁজে পাওয়া যায়, কী কী তথ্য প্রয়োজন হয় এবং নথিটি কেন গুরুত্বপূর্ণ―এ ব্যাপারে দেশের একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাহলে প্রতিবেদন অনুযায়ী জমির পর্চার ব্যাপারে জেনে নেওয়া যাক-

জমির পর্চা কী:
জমির পর্চা হচ্ছে খতিয়ানের প্রাথমিক বা খসড়া কপি, এটি অফিশিয়াল কাগজ হিসেবে জমির বর্তমান মালিক বা দখলদারের প্রমাণপত্র।। কোনো কারণে জমির ক্রয়-বিক্রয়, ব্যাংক ঋণ নেয়া, নামজারি বা মিউটেশন এবং জমি সংক্রান্ত জটিলতায় আদালতে প্রমাণ হিসেবে কাগজটি গুরুত্বপূর্ণ। পর্চা ছাড়া জমির মালিকানা আইনিভাবে দুর্বল থাকে।

অনলাইনে জমির পর্চা খোঁজার উপায়:
তথ্য-প্রযুক্তির এই সময় বাসা-বাড়িতে বসে সহজেই অনলাইনে জমির পর্চা খুঁজে পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট মৌজা, খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর দিয়ে তথ্য অনুসন্ধান করা যায়। অনলাইনে আবেদন করে নির্ধারিত ফি প্রদানের পর পর্চার কপি সংগ্রহ করা যায়। যা ডাকযোগেও পাওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন

ই-পর্চা ওয়েবসাইটে পর্চা খোঁজার উপায়:
এ জন্য প্রথমে ই-পর্চা (ePorcha) ওয়েবসাইটে যেতে হবে। তারপর বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজা নির্বাচন করুন। এবার খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়ে সার্চ অপশন ব্যবহার করুন। সঠিক তথ্য দেয়া হলে সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ান স্ক্রিনে দেখাবে, আর সেখানেই বিস্তারিত সব দেখা যাবে।

অনলাইনে পর্চা পেতে যেসব তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন:
অনলাইনে জমির পর্চা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা, খতিয়ান বা দাগ নম্বর এবং মালিকের নাম জানতে হবে। একইসঙ্গে আবেদনকারীর পরিচয় (যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র), একটি সচল ফোন নম্বর ও অনলাইন ফি প্রদানের ব্যবস্থা থাকা চাই। প্রয়োজনীয় সব তথ্য সঠিকভাবে দেয়া হলে সহজেই পর্চা পাওয়া যায়।

অনলাইনে পর্চার সার্টিফাইড কপি যেভাবে আবেদন ও সংগ্রহ করা যায়:
এজন্য প্রথমেই অনলাইনে সংশ্লিষ্ট খতিয়ান খুঁজে বের করার প্রয়োজন হয়। তারপর নির্ধারিত ফি প্রদানের পর আবেদন করতে হয়। আবেদন সম্পন্ন হলে তবেই সার্টিফাইড কপি অনলাইনে ডাউনলোড করা যায় কিংবা ডাকযোগে আবেদনকারীর ঠিকানায় পৌঁছে যায়। আর এই কপি আইনি কাজে গ্রহণযোগ্য।

পর্চা ও খতিয়ানের মধ্যে পার্থক্য:
খতিয়ান হচ্ছে জমির পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড (রেকর্ড অব রাইটস), এতে মালিকানা, দাগ নম্বর, জমির শ্রেণি, অংশ ও খাজনার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য থাকে। বিপরীতে পর্চা হচ্ছে ওই খতিয়ানের একটি কপি, যা সাধারণত তথ্য যাচাই বা প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অর্থাৎ―খতিয়ান হচ্ছে মূল নথি বা কাগজ এবং পর্চা হচ্ছে সেটির ব্যবহারযোগ্য কপি বা কাগজ। আর উভয় কপিই জমির মালিকানা প্রমাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission