হঠাৎ ভয় পেলে, খুব আবেগপ্রবণ হলে বা তীব্র ঠান্ডা লাগলে শরীরের লোম খাড়া হয়ে যায় বা দাঁড়িয়ে যায়। অনেকেই একে সাধারণ ঘটনা মনে করলেও এর পেছনে রয়েছে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বিজ্ঞান বলছে, এটি মানুষের শরীরের একটি স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়া, যা আমরা ইচ্ছা করলেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের লোম খাড়া হওয়ার ঘটনাকে বলা হয় লোম খাড়া হওয়া। এটি ঘটে স্নায়ুতন্ত্রের একটি বিশেষ অংশের নির্দেশে। তখন লোমের গোড়ার ক্ষুদ্র পেশি সংকুচিত হয়ে লোমগুলো সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়।
কেন খাড়া হয় বা দাঁড়িয়ে যায় শরীরের লোম?
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বৈশিষ্ট্য মানুষের বহু প্রাচীন পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে এসেছে। অতীতে শরীরের লোম খাড়া হলে মানুষ বা প্রাণীকে আকারে বড় দেখাত, যা শিকারি প্রাণীকে ভয় দেখাতে সাহায্য করত। আজও বিড়াল বা অন্য অনেক প্রাণীর শরীরে একই প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
বর্তমানে মূলত দুটি কারণে শরীরের লোম খাড়া হয়।
ঠান্ডা লাগলে
শীতের দিনে বা হঠাৎ তাপমাত্রা কমে গেলে শরীরের তাপ ধরে রাখার চেষ্টা করে মস্তিষ্ক। তখন স্নায়ুর মাধ্যমে লোমের গোড়ায় সংকেত পাঠানো হয়। এতে লোম খাড়া হয়ে শরীরের চারপাশে বাতাসের একটি পাতলা স্তর তৈরি হয়, যা কিছুটা তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
ভয় বা প্রবল আবেগে
ভয়, উদ্বেগ, উত্তেজনা কিংবা গভীর আবেগের মুহূর্তেও শরীরের লোম খাড়া হতে পারে। এ সময় শরীরে দ্রুত এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত হয়, যা স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করে এবং লোমের গোড়ার পেশি সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে শরীরে কাঁটা দেওয়ার মতো অনুভূতি হয়।
চুলের যত্নও জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, চুল ও শরীরের লোম শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, শরীরের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখা, সঠিক যত্ন নেওয়া এবং অস্বাভাবিক চুল পড়া শুরু হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তাদের মতে, অতিরিক্ত চুল পড়া বা টাকের সমস্যা দেখা দিলে শুরুতেই ব্যবস্থা নিলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। তাই সমস্যা দীর্ঘদিন ফেলে না রেখে প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়।
শরীরের লোম খাড়া হওয়া বা দাঁড়িয়ে যাওয়া তাই কোনো রহস্য নয়। এটি মানুষের শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া, যা ঠান্ডা কিংবা প্রবল আবেগের সময় নিজে থেকেই সক্রিয় হয়ে ওঠে।
আরটিভি/জেএমএ



