ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

গর্ভাবস্থায় কী খাবেন, কী এড়াবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
গর্ভাবস্থায় কী খাবেন, কী এড়াবেন? সুস্থ মা ও শিশুর জন্য জরুরি খাদ্যতালিকা । ছবি: সংগৃহীত

গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর একটি। এ সময় মায়ের প্রতিটি খাবার শিশুর বেড়ে ওঠা ও সুস্থ বিকাশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই বিশেষ কোনো খাদ্যতালিকা অনুসরণ করার প্রয়োজন না হলেও প্রতিদিন সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া খুবই জরুরি। এতে মা ও গর্ভের শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত হয়।

অনেকেই মনে করেন, গর্ভাবস্থায় দুইজনের জন্য খেতে হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণা সঠিক নয়। যমজ বা তিনটি সন্তান গর্ভে থাকলেও অতিরিক্ত খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিন নিয়মিত স্বাস্থ্যকর সকালের নাশতা খেলে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে।

প্রতিদিন ফল ও শাকসবজি রাখুন

প্রতিদিন অন্তত পাঁচ ভাগ বিভিন্ন ধরনের ফল ও শাকসবজি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এগুলো শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও আঁশের জোগান দেয়। পাশাপাশি হজম ভালো রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও সাহায্য করে। তাজা ফল ও শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া উচিত।

শর্করা জাতীয় খাবারও জরুরি

রুটি, ভাত, আলু, ওটস, ভুট্টা, পাস্তা ও অন্যান্য শর্করা জাতীয় খাবার শরীরের শক্তির প্রধান উৎস। সম্ভব হলে সাদা চাল বা পরিশোধিত খাবারের বদলে আঁশসমৃদ্ধ খাবার বেছে নেওয়া ভালো। যেমন লাল চাল, আটার রুটি বা খোসাসহ আলু।

আরও পড়ুন

প্রতিদিন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান

প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় ডাল, শিমজাতীয় খাবার, মাছ, ডিম, মুরগির মাংস, বাদাম ও চর্বিহীন মাংস রাখুন। মাংস ভালোভাবে সিদ্ধ বা রান্না করে খেতে হবে। কাঁচা বা আধাসেদ্ধ মাংস খাওয়া উচিত নয়।

সপ্তাহে মাছ রাখুন

সপ্তাহে অন্তত দুইবার মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর মধ্যে একবার তৈলাক্ত মাছ রাখা ভালো। তবে গর্ভাবস্থায় তৈলাক্ত মাছ সপ্তাহে দুইবারের বেশি না খাওয়াই নিরাপদ। কিছু বড় সামুদ্রিক মাছ এ সময় এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দেওয়া হয়।

ডিম ও দুধজাতীয় খাবারের গুরুত্ব

ডিম, দুধ, দই ও পনির শরীরে ক্যালসিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি সরবরাহ করে। তবে কাঁচা বা আধাসেদ্ধ ডিম না খাওয়াই ভালো। দুধজাতীয় খাবারের ক্ষেত্রে কম চর্বিযুক্ত খাবার বেছে নেওয়া উপকারী।

চর্বি ও চিনিযুক্ত খাবার কম খান

মিষ্টি, কোমল পানীয়, চকলেট, বিস্কুট, কেক, আইসক্রিম, ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব কম খাওয়া উচিত। এসব খাবার অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি, দাঁতের ক্ষতি এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ক্ষুধা লাগলে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন

মূল খাবারের মাঝখানে ক্ষুধা লাগলে ফল, দই, সবজির স্যুপ, অল্প পরিমাণ বাদাম, দুধ, আটার রুটি, আলু বা ডালের মতো স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে পারেন। এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে।

খাবার তৈরিতে সতর্ক থাকুন

গর্ভাবস্থায় খাবার তৈরির সময় পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফল, শাকসবজি ও সালাদ ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে। কাঁচা মাংস, মাছ বা ডিম ব্যবহারের পর হাত, ছুরি, কাটার বোর্ড ও রান্নার সব সরঞ্জাম পরিষ্কার করতে হবে। সব ধরনের খাবার ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া উচিত।

ফলিক অম্ল খাওয়া জরুরি

শুধু খাবার থেকে সব পুষ্টি পাওয়া সম্ভব হলেও গর্ভাবস্থায় ফলিক অম্লের ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এটি গর্ভের শিশুর সুস্থ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সুস্থ গর্ভাবস্থার মূলমন্ত্র

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ফল ও শাকসবজি, নিয়মিত প্রোটিন, পরিমিত মাছ, দুধজাতীয় খাবার এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মা ও গর্ভের শিশুকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি অতিরিক্ত চর্বি ও চিনিযুক্ত খাবার কম খাওয়া এবং নিরাপদভাবে খাবার প্রস্তুত করার অভ্যাস গড়ে তোলাও সমান জরুরি।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
‘নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার’
স্বাস্থ্যখাতে বড় উদ্যোগ, আসছে রোবটিক সার্জারি ব্যবস্থা
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ক্যানসার হাসপাতালগুলোতে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী