চাকরির জন্য সিভি বা জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করে পাঠানোর পর দীর্ঘদিন কোনো উত্তর না পাওয়া এখন অনেকের পরিচিত অভিজ্ঞতা। অনেকেই তখন ভাবেন, হয়তো পড়াশোনা বা অভিজ্ঞতা যথেষ্ট নয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যা সব সময় যোগ্যতায় নয়; অনেক সময় সিভি তৈরির কিছু সাধারণ ভুলের কারণেও ইন্টারভিউয়ের ডাক আসে না।
সব চাকরির জন্য একই সিভি ব্যবহার
অনেক চাকরিপ্রার্থী একটি সিভি তৈরি করে সব প্রতিষ্ঠানে পাঠান। কিন্তু নিয়োগদাতারা সাধারণত খোঁজেন, আবেদনকারী তাদের নির্দিষ্ট পদের জন্য কতটা উপযুক্ত। তাই চাকরির ধরন অনুযায়ী সিভির জরুরি অংশগুলো কিছুটা পরিবর্তন করা প্রয়োজন।
শুধু দায়িত্ব, অর্জনের কথা নেই
সিভিতে কী কী কাজ করেছেন তা লেখা থাকলেও সেই কাজের ফলাফল উল্লেখ থাকে না অনেক সময়। যেমন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকলে কতজন নতুন অনুসারী যুক্ত হয়েছে, কোনো প্রচারণা সফল হয়েছে কি না—এসব তথ্য যোগ করলে সিভি আরও শক্তিশালী হয়।
অতিরিক্ত তথ্যের ভিড়ে মূল বিষয় হারিয়ে যায়
স্কুলজীবনের পুরস্কার, পুরোনো প্রশিক্ষণ বা অপ্রাসঙ্গিক তথ্য যোগ করতে গিয়ে সিভি অনেক বড় হয়ে যায়। ফলে নিয়োগদাতার চোখে প্রথমে পড়ার কথা ছিল যে তথ্য, সেটিই আড়ালে চলে যায়। সংক্ষিপ্ত ও প্রাসঙ্গিক তথ্য রাখাই ভালো।
সাম্প্রতিক কাজ বা দক্ষতার অভাব
কয়েক বছর ধরে নতুন কোনো প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বা কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলে নিয়োগদাতার মনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, গণমাধ্যম বা করপোরেট খাতে নিজেকে নিয়মিত হালনাগাদ রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
যোগ্যতার সঙ্গে মিল নেই এমন পদে আবেদন
অভিজ্ঞতা কম থাকা সত্ত্বেও বেশি অভিজ্ঞতা চাওয়া পদে আবেদন করলে ইন্টারভিউ কল পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। তাই যত বেশি সম্ভব আবেদন পাঠানোর চেয়ে নিজের দক্ষতার সঙ্গে মিল আছে এমন পদ বেছে আবেদন করা বেশি কার্যকর।
ছোট ভুলেই বড় ক্ষতি
ভুল ফোন নম্বর, পুরোনো ই-মেইল ঠিকানা, কাজ না করা পোর্টফোলিও লিংক বা বানান ভুল—এসব কারণে সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে। সিভি পাঠানোর আগে কয়েকবার দেখে নেওয়া এবং সম্ভব হলে অন্য কাউকে দিয়ে পড়িয়ে নেওয়া ভালো।
শুধু আবেদন করলেই হয় না
চাকরি খোঁজা শুধু সিভি পাঠানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রশিক্ষণ, সেমিনার, ইন্টার্নশিপ ও পেশাগত যোগাযোগের মাধ্যমেও অনেক সুযোগ পাওয়া যায়, যা সব সময় বিজ্ঞাপনে আসে না।
প্রতিযোগিতাও একটি বড় কারণ
একটি চাকরির জন্য শত শত আবেদন জমা পড়া এখন খুবই সাধারণ ঘটনা। তাই ইন্টারভিউ কল না পাওয়া মানেই যে সিভি খারাপ, এমন নয়। অনেক সময় একই পদের জন্য বহু যোগ্য প্রার্থী আবেদন করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট কিছু পরিবর্তন, লক্ষ্যভিত্তিক আবেদন এবং নিজের অর্জনগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারলে ইন্টারভিউ কল পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। তাই হতাশ না হয়ে সিভি নতুন করে যাচাই করাই হতে পারে পরবর্তী সুযোগের চাবিকাঠি।
আরটিভি/জেএমএ




