লাল টুকটুকে ডালিম বা বেদেনা বা আনার শুধু সুস্বাদু ফলই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। কম ক্যালরি ও কম চর্বিযুক্ত এই ফলে রয়েছে প্রচুর আঁশ, ভিটামিন, খনিজ এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাই নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে ডালিম খেলে শরীরের নানা উপকার মিলতে পারে।
পুষ্টিগুণে ভরপুর
ডালিমে রয়েছে আঁশ, ভিটামিন সি, ফলিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। এসব উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
কোষকে সুরক্ষা দেয়
ডালিমে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এতে দীর্ঘমেয়াদি নানা রোগের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি শরীর সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রদাহ কমাতে সহায়ক
দীর্ঘদিনের প্রদাহ থেকে হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ডালিমে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে
গবেষণায় দেখা গেছে, ডালিমের কিছু উপাদান ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ধীর করতে এবং প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
হৃদ্যন্ত্র ভালো রাখতে সহায়ক
ডালিমের উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে, রক্তনালিতে চর্বি জমা কমাতে এবং বুকের ব্যথার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। ফলে হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতায় এটি উপকারী হতে পারে।
কিডনির জন্যও উপকারী হতে পারে
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ডালিমের নির্যাস কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এটি শরীরে কিছু খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
ডালিমে থাকা কিছু উপাদান মুখের ক্ষতিকর জীবাণুর বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এতে মুখের দুর্গন্ধ ও দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকিও কমতে পারে।
শরীরচর্চার সক্ষমতা বাড়াতে পারে
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ডালিম শরীরচর্চার সময় দীর্ঘক্ষণ কর্মক্ষম থাকতে এবং ব্যায়ামের পর দ্রুত স্বাভাবিক হতে সহায়তা করতে পারে।
মস্তিষ্কের জন্যও উপকারী
ডালিমের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের কোষকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি বয়সজনিত স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
হজমশক্তি ভালো রাখে
ডালিমে থাকা প্রচুর আঁশ অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর বৃদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করে। এতে হজম ভালো থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকিও কমতে পারে।
প্রতিদিন খাওয়া যাবে?
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ডালিম বা ডালিমের রস খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে, ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে উপকার মিলতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ বা নিয়মিত ওষুধ সেবনকারীদের প্রতিদিন ডালিম খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
যাদের সতর্ক থাকতে হবে
ডালিম উচ্চ রক্তচাপের কিছু ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করতে পারে। এছাড়া এতে প্রাকৃতিক শর্করা ও পটাশিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। তাই কিডনি রোগী, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি বা নিয়মিত ওষুধ গ্রহণকারীদের চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ডালিম খাওয়াই নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডালিম কোনো রোগের ওষুধ নয়। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে ডালিম খেলে শরীর সুস্থ রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: হেলথলাইন
আরটিভি/জেএমএ




