যেভাবে এসছে টেডি ডে

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন

সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ , ০৪:২৯ পিএম


যেভাবে এসছে টেডি ডে
হ্যাপি টেডি ডে

ভালবাসার উপহার হিসেবে দারুণ জনপ্রিয় টেডি বিয়ার। টেডি বিয়ার কে না ভালবাসেন? প্রেম নিবেদন থেকে শুরু করে মান-অভিমান ভাঙাতে টেডি বিয়ারের জুরি নেই। শিশুদের খুব পছন্দ টেডি বিয়ার। ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে গোটা বিশ্ব জুড়ে সেই সপ্তাহের মধ্যে ১০ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে বেছে নেয়া হয়েছে ‘টেডি ডে’ হিসেবে। প্রেমিক-প্রেমিকাকে উপহার দিলে যেমন উষ্ণতা বা়ড়ে সম্পর্কে, তেমনই উপহার হিসেবে শিশুদেরও দারুণ পছন্দ টেডি বিয়ার। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই সফট টয়-এর জন্মের পিছনে রয়েছে এক দারুণ গল্প। 

বিজ্ঞাপন

যেভাবে এলো টেডি ডে 

বিজ্ঞাপন

১৯০২ সালের নভেম্বর মাসে মিসিসিপিতে শিকারে বেরিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্ট। মিসিসিপি ও লুসিয়ানিয়ার সীমান্ত সমস্যা নিয়ে তখন জর্জরিত তিনি। অনেকক্ষণ খুঁজেও সে দিন ভালো শিকার পাননি রুজভেল্ট। প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে তার সঙ্গীসাথীরা ধরে আনেন এক লুসিয়ানিয়া কালো ভল্লুক ছানা। 

কিন্তু গাছের গুঁড়িতে বেঁধে রাখা ভাল্লুক ছানার উপর গুলি চালাতে মন চায়নি রুজভেল্টের। সেই সময়ে শিকার নিয়ে গোটা বিশ্বে এতো কড়া আইন ছিল না। ছোট্ট ছানাটিকে ছেড়ে দেন তিনি। সামাজিকভাবেও শিকার ছিল এক বীরত্ব প্রদর্শনের খেলা। কিন্তু প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্টের এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গী গোটা সমাজকে নাড়া দেয়। পরের দিন সেই সময়ের সংবাদ মাধ্যমগুলোতে উঠে আসে এই মানবিকতার কাহিনী। প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্টের এই কাহিনী কার্টুন হিসেবে গোটা আমেরিকায় ছড়িয়ে পরে।

বিজ্ঞাপন

‘ড্রইং দ্য লাইন ইন মিসিসিপি’ কার্টুনে এই গল্প তুলে ধরেন ওয়াশিংটন স্টার কার্টুনিস্ট ক্লিফর্ড বেরিম্যান। ছবিতে তিনি আঁকেন টেডি রুজভেল্ট রাইফেল হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তার পিছনে পুঁচকে এক ভাল্লুক ছানা।

বিজ্ঞাপন

সেই কার্টুন দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আমেরিকার খেলনা কোম্পানি ‘আইডিয়াল নভেলটি অ্যান্ড টয় কোম্পানি’-এর মালিক মরিস মিকটম এবং তার স্ত্রী  প্রথম তৈরি করেন টেডি বিয়ার। তবে তা বিক্রি করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না তাদের। দোকানের জানলার পাশে সাজিয়ে রাখেন টেডি। পাশে বেরিম্যানের আঁকা কার্টুনের কপি।

তাকে অবাক করে ক্রেতারা দোকানে ঢুকেই কিনতে চান টেডি। মিচম ছুটে যান রুজভেল্টের কাছে। তার ও তার স্ত্রীর বানানো বিয়ার বিক্রির অনুমতি চান। জন্ম হয় টেডি বিয়ারের। ১৯০৩ সালে তৈরি হয় আইডিয়াল টয় কোম্পানি।

তারপর থেকে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে টেডি বিয়ার। আদুরে এই পুতুলটি শুধু উপহার হিসেবে ব্যবহার হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ‘টেডি বিয়ার, মিউজিয়াম পর্যন্ত তৈরি হয়েছে। টেডি বিয়ার নিয়ে তৈরি হয়েছে অনেক বই এবং চলচ্চিত্র।

চেহারায় প্রাথমিক সময়ের থেকে অনেক বদল হয়েছে টেডি বিয়ারের, বদল হয়েছে আকারে এবং রঙে। তবুও একশ বছরের অধিক সময় ধরে মানুষের মনে নিজের জায়গা ধরে রেখেছে টেডি বিয়ার। একদিকে শিশুদের প্রিয় হিসেবে অন্য দিকে ভালবাসার মানুষকে উপহার দেয়ার সামগ্রী হিসেবে ক্রমান্বয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই পুতুলটি।
 
ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের ‘টেডি ডে’-তে মনের মানুষটিকে টেডি বিয়ার উপহার দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ইতিহাসটিও জানিয়ে দেবেন। 

এস/এসজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission