সুস্থ দেহ ও সতেজ মনের জন্য দিনের আলো বা সূর্যের আলোর গুরুত্ব অপরিসীম।
সম্প্রতি ব্রিটেনে পরিচালিত এক চিকিৎসা গবেষণায় উঠে এসেছে যে, দিনের আলোয় নিয়মিত সময় কাটালে কেবল শারীরিক স্বাস্থ্যই নয়, বরং মানুষের মস্তিষ্কের কার্যকারিতাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণায় দেখা গেছে, সূর্যের আলো মানুষের মস্তিষ্কের একাধিক অংশে গঠনমূলক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। মানুষের মস্তিষ্কের ওপর আলোর প্রভাব নিয়ে করা এটিই প্রথম বিস্তারিত বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের কব্জিতে বিশেষ ট্র্যাকার পরিয়ে তাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’-এর ওপর দিনের আলোর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এতে দেখা গেছে, যারা দিনের আলোয় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন, তাদের দিনের বেলা ঘুম ঘুম ভাব বা আলস্য অনেকাংশে কমে যায়। এছাড়া উজ্জ্বল আলোতে মানুষের কোনো বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর গতি প্রায় ৭ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় এবং মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা অনেক বেশি স্থিতিশীল হয়।
গবেষকরা দ্রুত ঘুমানো ও ভোরে ওঠা ব্যক্তি এবং যারা রাত জাগেন—এই দুই শ্রেণির মানুষের ওপর তুলনামূলক গবেষণা চালিয়েছেন।
ফলাফলে দেখা গেছে, যারা ভোরে ওঠেন এবং সকালের আলোতে থাকেন, তারা মানসিকভাবে অনেক বেশি সতর্ক ও কর্মক্ষম থাকেন।
আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘কমিউনিকেশনস সাইকোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, চোখের পেছনে থাকা আলো-সংবেদনশীল টিস্যু সূর্যের আলোতে সক্রিয় হয়ে ওঠার কারণেই মস্তিষ্কের ওপর এমন ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুফল পাওয়ার জন্য দিনের নির্দিষ্ট কোনো সময়ের প্রয়োজন নেই; দিনের যেকোনো সময় সূর্যের আলোতে হাঁটাহাঁটি বা অবস্থান করলেই এই উপকার পাওয়া সম্ভব।
মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যক্তির সামগ্রিক স্বাস্থ্য যেমন উন্নত হয়, তেমনি কর্মক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই সুস্থ ও সজাগ থাকতে নিয়মিত দিনের আলোয় সময় কাটানোকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হিসেবে গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। তথ্যসূত্র: জিও নিউজ।
আরটিভি/এএইচ




