ফাইবার শরীরের জন্য অপরিহার্য একটি পুষ্টি উপাদান, যা হজম প্রক্রিয়াকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ফাইবারের ঘাটতি পূরণে আজকাল বেশিরভাগ মানুষ ইসবগুল এবং চিয়া সিড গ্রহণ করেন। দুটোই প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ উৎস হলেও, তাদের কাজ এবং পুষ্টিগুণে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য।
ফাইবারের ধরন ও কাজের ভিন্নতা:
ইসবগুল (সাইলিয়াম হাস্ক): দ্রবণীয় ফাইবারের প্রধান উৎস, যা পানি শোষণ করে জেলির মতো হয়ে পেটে গিয়ে মল নরম করে দ্রুত শরীর থেকে বের করে দেয়। এটি কোলেস্টেরল ও রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
চিয়া সিড: প্রতি ১০০ গ্রামে ৩০-৪০ গ্রাম ফাইবার থাকলেও তার ৮৫-৯০ শতাংশ অদ্রবণীয় ফাইবার, যা মল তৈরিতে সাহায্য করে এবং দ্রুত মল নিষ্কাশনে কার্যকর।
কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমে প্রভাব: ইসবগুল মলকে নরম করে দ্রুত মলত্যাগ নিশ্চিত করে, তাই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ভালো। চিয়া সিড মলত্যাগ নিয়মিত রাখতে সাহায্য করলেও অতিরিক্ত গ্রহণে কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে।
রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: ইসবগুল এলডিএল কোলেস্টেরল কমাতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কার্যকর। বিশেষ করে যারা উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাদের জন্য। চিয়া সিড লিপিড প্রোফাইল উন্নত করতে সক্ষম এবং গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণেও কিছুটা সহায়ক, তবে এটির প্রভাব খাওয়ার পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: দুটোই পেট দীর্ঘসময় ভরে রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাবার কম খাওয়ার মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
পুষ্টিগুণের তুলনা: ইসবগুল কম ক্যালোরি এবং বিশেষ করে ফাইবার ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর। চিয়া সিড ফাইবার ছাড়াও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ।
রক্তচাপ ও শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং কোলেস্টেরল কমানো প্রধান লক্ষ্য হলে ইসবগুল সেরা। অন্যদিকে, ওজন কমানো, ত্বক উজ্জ্বল রাখা ও পেট ফাঁপার সমস্যা কমাতে চিয়া সিড উপযুক্ত বিকল্প।
সুতরাং, আপনার শরীরের প্রয়োজন ও লক্ষ্য অনুযায়ী সঠিক ফাইবারের উৎস নির্বাচন করাই সবচেয়ে ভালো।
আরটিভি/এসকে




