আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততায় ঘরের এক কোণে জমে থাকা পুরোনো খবরের কাগজ, আলমারির ঠাসাঠাসি জামাকাপড় কিংবা রান্নাঘরের অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিকের কৌটাগুলো অনেক সময় আমাদের অলক্ষ্যেই মনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।
মনোবিদ ও গবেষকদের মতে, অগোছালো ঘর কেবল সৌন্দর্যের হানি ঘটায় না, বরং এটি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, এলোমেলো পরিবেশে বসবাস করলে শরীরে ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা মানুষকে দ্রুত ক্লান্ত ও অস্থির করে তোলে।
মূলত ঘর গোছানো মানে কেবল আসবাবপত্র সাজানো নয়, এটি এক ধরনের মানসিক পরিচর্যাও বটে।
মানুষের অগোছালো স্বভাব বা ‘ক্লাটার’ জমে ওঠার পেছনে কাজ করে গভীর মনস্তাত্ত্বিক কারণ। অনেক সময় স্মৃতির টানে আমরা পুরোনো জিনিস ফেলতে পারি না, আবার অনেক সময় ‘ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে’ এমন অনিশ্চিত ভাবনা থেকে অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমিয়ে রাখি।
এছাড়া উদ্বেগ বা এডিএইচডির মতো মানসিক সমস্যার কারণেও অনেকের পক্ষে ঘর গোছানো কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এই জমাটবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়ও বাতলে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, একবারে পুরো ঘর পরিষ্কার করতে না গিয়ে প্রতিদিন মাত্র ১৫-২০ মিনিট সময় নিয়ে ছোট কোনো অংশ গোছানোর অভ্যাস করা উচিত। জিনিসপত্রগুলোকে ‘রাখব’, ‘দান করব’ কিংবা ‘ফেলে দেব’—এমন কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নিলে গোছানোর কাজ সহজ হয়।
বর্তমান যুগে কেবল ঘরের কোণ নয়, ডিজিটাল ডিভাইসের অগোছালো ফাইল ও অপ্রয়োজনীয় ই-মেইলও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই শারীরিক পরিবেশের পাশাপাশি ফোনের গ্যালারি বা কম্পিউটারের ফাইল নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, কোনো জিনিসের চেয়ে সেই জিনিসের সঙ্গে জড়িত স্মৃতিটিই আসল, যা মনের ভেতরেই বেঁচে থাকে।
তাই অপ্রয়োজনীয় বস্তু ত্যাগ করে ঘরকে পরিপাটি রাখা মানে নিজের মনকে প্রশান্ত রাখা। ঘর যত হালকা ও খোলামেলা হবে, কাজের মনোযোগ এবং মানসিক স্বস্তি ততটাই বৃদ্ধি পাবে। সূত্র: ভেরি ওয়েল মাইন্ড।
আরটিভি/এএইচ




