সবুজ আর নীলের মিশেলে মনোমুগ্ধকর চীনামাটির দেশ

ভ্রমণ ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ , ০৯:০৫ পিএম


সবুজ আর নীলের মিশেলে মনোমুগ্ধকর চীনামাটির দেশ
ছবি : সংগৃহীত

অপরুপ পাহাড়ি সৌন্দর্যে ঘেরা মেঘালয় পাদদেশ নেত্রকোণার সীমান্ত উপজেলা কলমাকান্দা। দৃষ্টিনন্দন অবারিত সবুজের হাতছানি, কলকল, ছলছল করে বয়ে চলা মিষ্টি পানির ঝরনা, সোমেশ্বরী নদী, বৃক্ষরাজি, উঁচু নিচু পাহাড়ের গাঁ বেয়ে এঁকেবেঁকে চলা বন্ধুর পথ। এইতো পাহাড়। সবুজ পাহাড়, বৈচিত্র্যময় পাহাড়। বাংলাদেশ একটি অনন্য সুন্দর দেশ। যেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অনেক দর্শনীয় স্থান। এমনি একটি স্থান হলো নেত্রকোনা জেলার বিরিশিরি। বিরিশিশির মূল আকর্ষণ হলো বাংলাদেশের একমাত্র চীনামাটির পাহাড়। দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর ও এর আশপাশের এলাকায় আছে চিনামাটির খনি। এটি এক দিকে যেমন দর্শনীয় স্থান, পাশাপাশি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কোলঘেঁষা সীমান্তবর্তী এলাকা। চিনামাটির পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে সেখানে ভিড় জমায় পর্যটকরা।

যাদের ঘুরে বেড়ানোর জন্য হাতে একদিনের বেশি সময় নেই তারা একদিনে সবুজ আর নীলের মিশেলে হ্রদ দেখতে সোজা চলে যেতে পারেন চীনামাটির দেশ বিরিশির বিজয়পুরে। পাহাড়, নদী আর সবুজ নীলের মিশেলে হ্রদটি আপনার সকল ক্লান্তিকে ভুলিয়ে দিবে।

রহস্য হলো নীল পানির হ্রদ আর তার বুক চিরে জেগে ওঠা সাদা রঙের কয়েকটি পাহাড়, মানে চীনা মাটির পাহাড়; যা বাংলাদেশে অদ্বিতীয়। বিশাল উঁচু পাহাড়ের পাদদেশে স্বচ্ছ নীলচে পানির ছোট হ্রদ ও তার পাশে জেগে ওঠা সাদা মাটির পাহাড় এবং পাশে থাকা গ্রামীণ অপরূপ দৃশ্য; যা অতি সহজে মানব হৃদয়ে আনন্দের জোয়ার তোলে। তবে শুধু তাই নয়, নীল পানির হ্রদের পাশে পাহাড়ের ঢালে মনমাতানো সবুজের সমাহার। নীল পানির হ্রদ আর সবুজ ছোট ছোট আগাছা দিয়ে সাদা পাহাড় ঘেরা। তবে শুধু সাদা পাহাড় বললে ভুল হবে। কারণ, সেখানে দেখা মেলে লাল, লালচে, ধূসর ও গোলাপি রঙের পাহাড়েরও। সত্যি বলতে, বিভিন্ন রঙের পাথর দিয়ে গড়ে ওঠা এই পাহাড় বেশ মনোমুগ্ধকর।

সবাই বিরিশিরি যায় মূলত চুনাপাথরের লেক এবং গোলাপি পাহাড় দেখতে। এই জায়গাটার নাম সুসং দুর্গাপুর। ধুলোর ঢিবি পেরিয়ে, পাহাড় থেকে নেমে আসা কাচের মতো পরিষ্কার সুন্দর পানির সোমেশ্বরী নদী পার হয়ে, তপ্ত রোদ গায়ে মেখে টলটলে আকাশিরঙা লেকের পানির দেখা মিলবে এখানে। এই পানিতে কোনো মাছ বা অন্য কোনো জৈব প্রাণী নেই, এর দেয়াল ঘেঁষে উঠে গেছে পাহাড়, এই পাহাড়টি লেকের পানিকে আরও মনোহর করে তুলেছে।

বিরিশিরিতে আরও যেখানে ঘুরবেন

চিনামাটির পাহাড় আর সোমেশ্বরী নদীর সৌন্দর্য ছাড়াও বিরিশিরিতে আরও কয়েকটি দর্শনীয় স্থান আছে। রাণীখং গির্জা, কমলা রাণীর দীঘি এবং সোমেশ্বরী নদী, পাহাড়ি কালচারাল একাডেমি, তেভাগা আন্দোলনের কিংবদন্তি কমরেড মনি সিংহের স্মৃতিভাস্কর, সেন্ট যোসেফের গির্জা। এ ছাড়াও রাণীখং গির্জার পাহাড় চূড়া থেকে বিরিশিরির সৌন্দর্য যেন সবটুকু উপভোগ করা যায়। বিরিশিরি ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই কমলা রানী দীঘি। সেখান থেকেও ঢুঁ মেরে আসতে পারেন।

যেভাবে যাবেন 

ঢাকার মহাখালী বাস স্টেশন থেকে সরাসরি দুর্গাপুর যাওয়ার বাস ছাড়ে। ৫-৭ ঘন্টার মধ্যেই আপনি পৌঁছে যাবেন অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর বিরিশিরিতে। বাস সুখনগরী পর্যন্ত যাবে। সেখান থেকে নৌকায় ছোট নদী পার হতে হবে।

ওপার থেকে রিকশা, টেম্পু ,বাস বা মোটর সাইকেলে দূর্গাপুর যাওয়া যায়। এ ছাড়াও মোটর সাইকেলে ২ জন যাওয়া যাবে।

তারপর বিরিশিরি বাজার থেকে ব্যাটারি রিকশা ভাড়া করে চিনামাটির পাহাড়সহ আরও কয়েকটি দর্শনীয় স্থান ঘুরে আসতে পারেন। ৫-৬ ঘণ্টার মধ্যেই উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি, রাণীখং চার্চ,সোমেশ্বরী নদী, গারো পল্লী, কমলা বাগান ও চীনামাটির পাহাড় ঘোরা হয়ে যাবে।

থাকা ও খাওয়ার স্থান

দুর্গাপুরে থাকার জন্য ভালো ব্যবস্থা হলো ইয়ুথ মেন খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বা ওয়াইএমসিএ-এর রেস্ট হাউজ ও কালচারাল অ্যাকাডেমি। এ ছাড়াও দুর্গাপুরে সাধারণ মানের কিছু হোটেল আছে। স্বর্ণা গেস্ট হাউজ, হোটেল সুসং, হোটেল গুলশান ইত্যাদি। এগুলোর ভাড়া খুব একটা বেশি না। অল্প খরচেই থাকতে পারবেন। এ ছাড়াও দুর্গাপুরে আরও কিছু মধ্যম মানের হোটেল আছে। এসব হোটেলে থাকার ব্যবস্থা আছে। যে রেস্ট হাউজে থাকবেন সেখানেই খাবারের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। এ ছাড়াও বিভিন্ন মধ্যমানের রেস্টুরেন্টে ভাত, ডাল থেকে শুরু করে সব ধরনের মাছ আর মাংস খেতে পারবেন বিরিশিরিতে।

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission