শুরুটা ছিল ১৯৮১ সালের ৩০ মে থেকে, যখন চট্টগ্রামে সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ঢাকার সেনানিবাসে দুই ছোট ছেলেকে নিয়ে তখন শান্ত, নিরিবিলি জীবন কাটাচ্ছিলেন বেগম জিয়া; রাজনীতি তার জীবনের অংশ ছিল না। কিন্তু স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু এবং বিএনপি নেতৃত্বের সংকট তাকে অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সামনে নিয়ে আসে।
ধীরে ধীরে সাধারণ সদস্য থেকে ভাইস–চেয়ারম্যান, তারপর চেয়ারপারসন—একজন নীরব গৃহবধূর জাতীয় দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে ওঠার এই যাত্রা মানুষের মনে গভীর ছাপ রেখে দেয়। এরপর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের কঠিন সময়; সামরিক শাসন, দমন-পীড়ন, গ্রেফতার—সবকিছুর মুখোমুখি হয়ে তিনি রাজপথের প্রথম সারির হয়ে যোদ্বা হয়ে ওঠেন। বহুবার আটক হয়েও পিছু না হটা—এটাই মানুষের কাছে তার প্রতি আবেগের।
১৯৯১ সালে দেশ যখন গণতন্ত্রে ফিরে আসে, তখন প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। যুদ্ধোত্তর অস্থির বাংলাদেশে সংসদ, প্রশাসন, দল—সব সামলে তিনি শিক্ষা খাতে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ার সুযোগসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেন, যা বহু পরিবার আজও মনে রেখেছে।
এরপর আসে মামলা, গ্রেফতার, দীর্ঘ কারাবাস—আর ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাত, ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু। এই ট্র্যাজেডি তাকে অনেকের চোখে পরিণত করে শুধু নেত্রী নয়, সহ্য করে যাওয়া এক মায়ের প্রতীকে। এত বিপর্যয়ের পরও বিএনপি ভেঙে না পড়া—অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটা তার ব্যক্তিগত প্রভাবেরই শক্ত প্রমাণ।
তিন প্রজন্ম তাকে তিনভাবে দেখে—কারও কাছে তিনি আন্দোলনের প্রতীক, কারও কাছে শিক্ষার সংস্কারক, আর এক প্রজন্মের কাছে দীর্ঘ শোক বয়ে চলা সহনশীল মা। কিন্তু একটি জায়গায় সবাই একমত, তিনি বাংলাদেশের রাজনীতির ঐতিহাসিক মুখগুলোর অন্যতম। যাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটা যুগ, একটা ধারার পুরো স্মৃতি।
তাই তার মৃত্যুর খবর ছড়াতেই থমকে গেছে গোটা দেশ। সোশ্যাল মিডিয়া ভরে ওঠে পুরোনো স্মৃতি, উদ্বেগ আর দোয়ার বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনীতিক নন; তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক বিশাল অধ্যায়। যে অধ্যায়কে ধারণ করবে আগামীর প্রজন্ম।
আরটিভি/এআর




