বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সেলিমা রহমান উন্নত চিকিৎসা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুরে গেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি যাত্রা করেন। দীর্ঘদিন জ্বর ও ফুসফুসে সংক্রমণে ভোগার পর বর্তমানে কিছুটা সুস্থবোধ করলেও চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি এই বিদেশ যাত্রার সিদ্ধান্ত নেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন তিনি সেলিমা রহমানের শারীরিক অবস্থার নিয়মিত খোঁজ নিয়েছেন।
শিরীন বলেন, "সেলেমা আপা এখন অনেকটাই সুস্থ। তবে শারীরিক কিছু জটিলতা ও চেকআপের প্রয়োজনে তিনি বৃহস্পতিবার সকালে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।"
সেলিমা রহমান গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন তিনি উচ্চ মাত্রার জ্বর, তীব্র শরীর ব্যথা এবং ফুসফুসে সংক্রমণে ভুগছিলেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তার পায়ের শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার জটিল রোগ 'ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস' (ডিভিটি) শনাক্ত করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছিল।
হাসপাতালের একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে টানা বেশ কয়েকদিন তার চিকিৎসা চলে। সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর সংক্রমণের মাত্রা কমে আসায় এবং রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আসায় তাকে সাধারণ কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, হাসপাতালে থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। তবে সঠিক চিকিৎসায় তিনি দ্রুত সংকটে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হন।
সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পর সেখানে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে সেলিমা রহমানের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা রয়েছে। মূলত ফুসফুসের সংক্রমণ পুরোপুরি সেরেছে কি না এবং ডিভিটি রোগের পরবর্তী ধাপের চিকিৎসা কী হবে, তা নির্ধারণ করবেন সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা।
আরটিভি/এআর




