সত্যকে কখনও আড়াল করে রাখা যায় না: রিজভী

আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ , ০৩:২৯ পিএম


সত্যকে কখনও আড়াল করে রাখা যায় না: রিজভী
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সত্যকে কখনও আড়াল করে রাখা যায় না, দেশের প্রকৃত গুণী মানুষদের স্বীকৃতি অনেক সময় দেরিতে আসে, কিন্তু তাদের প্রতিভাকে কখনোই আড়াল করে রাখা যায় না।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয়তাবাদী চারু ও কারুশিল্প দলের উদ্যোগে এক সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

রিজভী বলেন, অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার দেশের একজন খ্যাতিমান চারুশিল্পী ও শিক্ষক হলেও গণমাধ্যমে তাকে সেইভাবে তুলে ধরা হয়নি। পত্রপত্রিকায় কিছু নির্দিষ্ট নামই বেশি আসে, ফলে অনেক গুণী মানুষ আড়ালেই থেকে যান। তবে যারা চিত্রশিল্প সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন, তারা ঠিকই তাকে চেনেন।

তিনি বলেন, কেউ বড় শিল্পী আর কেউ ছোট— এই বিতর্কে না গিয়েও বলা যায়, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার কোনো অংশে কম নন। কিন্তু আমাদের দেশে মিডিয়ার এক ধরনের পক্ষপাত আছে, যেখানে কিছু মানুষকে সামনে আনা হয়, আবার কিছু মানুষ স্বাভাবিকভাবেই আড়ালে পড়ে যান। তবে প্রতিভা প্রচারের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ থাকে না, তা একসময় নিজেই উদ্ভাসিত হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশে গুণী ব্যক্তিদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কে কোন দলের, কে কোন দেশের প্রতি অনুগত— এসব দিয়ে বিচার করা হয়। কিন্তু একজন মানুষের মেধা, অবদান ও সৃষ্টিশীলতাকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে প্রচারযন্ত্রগুলো সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখে না। ফলে ড. আব্দুস সাত্তারের মতো মানুষও আড়ালে চলে যান।

শিল্পী সঞ্জয় দে রিপনের ভূয়সী প্রশংসা করে রিজভী বলেন, তিনি বঞ্চিত গুণী মানুষদের নিয়ে কাজ করছেন এবং তাদের সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন।  

প্রখ্যাত শিল্পী এস এম সুলতানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এতো বড় মাপের শিল্পী হয়েও তাকে অনেক সময় প্রচারের বাইরে রাখা হয়েছিল। কিন্তু তার প্রতিভার কারণে মানুষ নিজেই তার কাছে ছুটে গেছে।

রিজভী আরও বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকেও একসময় অনেকেই স্বীকৃতি দিতে চাননি। কেউ কেউ তাকে বড় গলার কবি বলেছিলেন। কিন্তু আজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরেই তার নাম উচ্চারিত হয়। সত্যকে কখনো আড়াল করে রাখা যায় না।  

তিনি বলেন, ড. আব্দুস সাত্তারকে জাতীয় পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে সরকার দেরিতে হলেও সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইভাবে ড. সুকুমার বড়ুয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া যথার্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন

রিজভী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু বুদ্ধিজীবী ও গুণী মানুষ বিএনপির পাশে ছিলেন এবং নৈতিক সাহস জুগিয়েছেন।  

তিনি বলেন, আজকের দিনে শিক্ষকতা অনেকাংশে পেশাদার হয়ে গেলেও সত্যিকারের শিক্ষকরা এখনো ছাত্রদের স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে পথ দেখান। ড. সাত্তার ও সুকুমার বড়ুয়ার মতো মানুষরা তার উদাহরণ।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, শিল্প-সাহিত্য কিংবা জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে প্রকৃত মেধাবীদের কখনো দমিয়ে রাখা যায় না। যারা সত্যিকার অর্থে জাতিকে প্রতিনিধিত্ব করেন, তাদের অবদান একসময় ঠিকই স্বীকৃতি পায়।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া প্রমুখ।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission