জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকারের পক্ষে প্রথম বক্তব্য দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। একই সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি আন্দোলনেও জামায়াতের আর্থিক ও সাংগঠনিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী তার বক্তব্যে অতীতের ইতিহাস দিয়ে বর্তমান জামায়াতে ইসলামীকে বিচার না করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের হার প্রমাণ করে যে দেশের জনগণ দলটিকে পূর্ণ গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে। তার মতে, যেখানেই গণতন্ত্রের সংকট তৈরি হয়েছে, সেখানেই জামায়াতে ইসলামী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযম কেবল স্বাধিকারের পক্ষে কথা বলেননি, বরং শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিতে গঠিত ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন কমিটি’র সেক্রেটারির দায়িত্বও পালন করেছিলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্ত করতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছিল। সে সময় কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারি হিসেবে আবদুস সামাদ আজাদ দায়িত্ব পালন করেন বলেও তিনি তার বক্তব্যে দাবি করেন।
বিরোধী শিবিরের সমালোচনার জবাবে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আপনাদের দেওয়া কোনো তকমাই জনগণ বিশ্বাস করেনি।’ জামায়াতে ইসলামীকে জঙ্গি তকমা দেওয়ার যে চেষ্টা হয়েছিল, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তা নাকচ করে দিয়েছে এবং সংগঠনটি যে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পথে চলে, তার প্রমাণ মিলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন। শাহজাহান চৌধুরী জানান, সেই সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরাই তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র সংক্রান্ত বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রাষ্ট্রপতি শপথ ভঙ্গ করেছেন। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য জাতিকে বিভ্রান্ত করার শামিল। জামায়াত এমপির এই দীর্ঘ বক্তব্যে দলের অতীত ইতিহাসকে নতুনভাবে উপস্থাপনের পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণের রায়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
আরটিভি/এসআর



