কোরবানির পশুর যত্ন কীভাবে করবেন

আরর্টিভি নিউজ

রোববার, ১৭ মে ২০২৬ , ১০:৫৭ এএম


কোরবানির পশুর যত্ন কীভাবে করবেন
ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহা এলেই শহর-গ্রামজুড়ে শুরু হয় কোরবানির প্রস্তুতি। হাট থেকে পশু কেনা, বাড়িতে আনা এবং তাকে ঘিরে পরিবারের আনন্দ—সব মিলিয়ে উৎসবের এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়। অনেক শিশু তো কোরবানির পশুকে পরিবারের নতুন সদস্য হিসেবেও দেখে। কেউ নাম দেয়, কেউ আদর করে। কিন্তু এই আনন্দের মধ্যেও একটি জরুরি বিষয় প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে—কোরবানির পশুর প্রতি আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত।

ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী, কোরবানি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ত্যাগ, দয়া ও মানবিকতার এক মহান ইবাদত। তাই পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা নয়, বরং দয়া ও যত্ন প্রদর্শনই ইসলামের নির্দেশ।

হাট থেকে পশু আনার সময়ই যত্নের শুরু। অনেক সময় পশুকে দৌড় করিয়ে বা অস্বাভাবিকভাবে টেনে আনা হয়, যা পশুর জন্য কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভব হলে ধীরে হাঁটিয়ে বা নিরাপদ পরিবহনে পশু আনা উচিত। দীর্ঘ ভ্রমণ বা হাটের চাপের কারণে পশু ক্লান্ত ও আতঙ্কিত থাকতে পারে। তাই তাকে স্বস্তি দেওয়াই প্রথম কাজ।

বাড়িতে আনার পর পশুকে পরিষ্কার পানি খাওয়ানো, শরীর ধুয়ে দেওয়া এবং শান্ত পরিবেশে রাখা জরুরি। এতে তার ক্লান্তি কমে এবং স্বস্তি ফিরে আসে। তবে অতিরিক্ত খাবার বা জোর করে খাওয়ানো ঠিক নয়।

আরও পড়ুন

কোরবানির আগে অনেকেই পশুকে অস্বাভাবিকভাবে মোটা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ইসলামি দৃষ্টিতে এটি প্রয়োজন নয়। ঘাস, খড়, ভুসি ও স্বাভাবিক খাবারই যথেষ্ট। কোরবানি কোনো প্রদর্শনী নয়, বরং একটি ইবাদত।

পশুর থাকার জায়গাও পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে পশু রোগাক্রান্ত হতে পারে। তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।

ঈদের দিনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পশুর প্রতি কোমল আচরণ। পশুকে ভয় না দেখানো, ধাক্কাধাক্কি না করা এবং দ্রুত ও দক্ষভাবে জবাই সম্পন্ন করা ইসলামের নির্দেশনার অংশ।

এক পশুর সামনে অন্য পশু জবাই করা কিংবা ছুরি ধার করার কাজ পশুর সামনে করা অনুচিত। কারণ এতে পশুর মধ্যে ভয় ও মানসিক চাপ তৈরি হয়।

অনেক সময় জবাইয়ের পর তাড়াহুড়ো করে চামড়া ছাড়ানো শুরু করা হয়, যা ঠিক নয়। পশুর মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের অমানবিক আচরণ করা উচিত নয়।

অসুস্থ পশুর ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ না দিয়ে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কারণ সঠিক চিকিৎসাই পশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারে।

ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী, কোরবানির মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ, সংযম ও দয়া। পশুর প্রতি যত্ন নেওয়া, তাকে কষ্ট না দেওয়া এবং মানবিক আচরণ করাই এই ইবাদতের প্রকৃত রূপ।

ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তাতে দয়া ও মানবিকতার ছোঁয়া থাকে। তাই এবারের কোরবানিতে শুধু নিয়ম নয়, পশুর প্রতি ভালোবাসা ও যত্নই হোক সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি।


আরটিভি/জেএমএ 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission