কোরবানির পশু কিনতে সাধারণত হাটে যেতে হয় এবং পশু কেনার পর হাটের ইজারাদার বা কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত হাসিল দিতে হয়। তবে অনেক সময় হাসিল আদায়কারীরা বলে থাকেন, ‘হাসিল না দিলে কোরবানি হবে না।’ এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়।
ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোরবানি শুদ্ধ হওয়ার সঙ্গে হাটের হাসিল দেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। কোরবানির জন্য মূল বিষয় হলো পশুটি হালাল উপার্জনের টাকায় ক্রয় করা হয়েছে কি না। যদি বৈধ উপার্জনের অর্থে পশু কেনা হয়, তাহলে হাসিল দেওয়া না দিলেও কোরবানি আদায় হয়ে যাবে।
তবে হাসিলকে হাট কর্তৃপক্ষের প্রাপ্য বা হক হিসেবে উল্লেখ করেছেন আলেমরা। কারণ এটি মূলত হাটের সুবিধা ব্যবহারের বিনিময়ে নেওয়া ভাড়া। তাই বাজার থেকে পশু কিনলে নির্ধারিত হাসিল পরিশোধ করা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
এ বিষয়ে হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন প্রত্যেক হকদারকে অবশ্যই তার হক বুঝিয়ে দেওয়া হবে। সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮২
ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক আল-কাউসার এ প্রকাশিত এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, হাসিল হাটের ভাড়া। এটি হাট কর্তৃপক্ষের হক, যা হাটের সুবিধা গ্রহণের বিনিময়ে নেওয়া হয়। তাই এ টাকা পরিশোধ করা জরুরি। হাসিল না দিলে হাট কর্তৃপক্ষের হক নষ্ট করার গুনাহ হবে। তবে এর কারণে কোরবানি নাজায়েজ হবে না।
অর্থাৎ, কেউ যদি হাসিল না দিয়েও কোরবানি করেন, তাহলে তার কোরবানি আদায় হয়ে যাবে। তবে হাট কর্তৃপক্ষের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ না করলে তিনি গুনাহগার হবেন বলে মত দিয়েছেন ইসলামি বিশেষজ্ঞরা।
আরটিভি/এসকে



