আমরা সাধারণত জানি, চুলায় পানির পাত্রে বুদবুদ দেখা গেলেই বুঝতে হবে পানি ফুটতে শুরু করেছে। কিন্তু মাইক্রোওয়েভে পানি গরম করলে সেই বুদবুদ দেখা যায় না কেন? বিজ্ঞানীরা বলছেন, পানির স্ফুটনাঙ্কের এই রহস্য লুকিয়ে আছে পৃষ্ঠটান এবং বুদবুদ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ব্যয়-এর মধ্যে। সাধারণত স্টোভ বা চুলার মতো তাপ উৎসের ওপর পানি গরম করলে তাতে ক্ষুদ্র বুদ্বুদ তৈরি হয়, যা বড় হতে হতে স্ফুটনের সঙ্কেত দেয়। তবে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, পানি আসলে কাগজে লেখা তার স্ফুটনাঙ্ক (২১২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস)-এর চেয়েও অনেক বেশি তাপমাত্রায় ফুটতে শুরু করতে পারে। এই ঘটনাটি সুপারহিটিং নামে পরিচিত।
ভার্জিনিয়া টেকের ফ্লুইড ডাইনামিস্ট জোনাথন বোরিকো লাইভ সায়েন্সকে জানান, ২১২ ডিগ্রি ফারেনহাইট-এর উপরে পানির অণুগুলো তরল থাকার চেয়ে বাষ্প হিসেবে থাকতে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করে। কিন্তু পানি ফুটতে গেলে একটি বুদ্বুদ তৈরি করতে হয়, যার একটি শক্তি ব্যয় রয়েছে।
বুদবুদ হলো গ্যাস ও তরল দশার মধ্যে একটি ইন্টারফেস, যা পৃষ্ঠটানের কারণে সব সময় সঙ্কুচিত হতে চায়। একটি স্থিতিশীল বুদবুদের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ গ্যাস থাকতে হয়, যাতে বাষ্পে পরিণত হওয়ার কারণে সঞ্চিত রাসায়নিক স্থিতিশক্তি পৃষ্ঠটানজনিত শক্তি ব্যয়ের চেয়ে বেশি হয়।
ইতালির রোমের স্যাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটির গবেষক মিরকো গ্যালো বলেন, পানিকে ২১২ ডিগ্রি ফারেনহাইট-এর চেয়ে বেশি গরম না করেই স্ফুটন শুরু করার জন্য দ্রবীভূত গ্যাস, পানির মধ্যে থাকা অপদ্রব্য বা পাত্রের পৃষ্ঠতল নিউক্লিয়েশন পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। এই ধরনের অনিয়মিত জায়গা বুদবুদ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির বাধা কমিয়ে দেয়। এ কারণেই প্রথম বুদবুদগুলো সব সময় পাত্রের সীমানাতেই দেখা যায়।
অন্যদিকে, মাইক্রোওয়েভে অস্বাভাবিক গরম হওয়ার প্রক্রিয়ার কারণে বুদবুদ তৈরি হওয়া দমন হয়।
বোরিকো ব্যাখ্যা করেন, মাইক্রোওয়েভের তরঙ্গ পুরো পানির মধ্যে প্রবেশ করে অণুগুলোকে দ্রুত এবং সমানভাবে গরম করে তোলে। স্টোভের মতো নিচের দিকটা সবচেয়ে বেশি গরম হয় না। মাইক্রোওয়েভে সাধারণত মসৃণ পাত্র—যেমন কাঁচ—ব্যবহার করা হয়, যেখানে বুদবুদ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় হটস্পট বা অনিয়মিত পৃষ্ঠের অভাব থাকে।
এই কারণে মাইক্রোওয়েভে পানি ৩৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট (২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত সুপারহিট হতে পারে। সুপারহিট তরলে থাকা বিশাল পরিমাণ রাসায়নিক স্থিতিশক্তি পাত্রে একটু আঘাত লাগার সঙ্গে সঙ্গেই একটি বিশাল, বিস্ফোরক বুদবুদের আকারে মুক্তি পেতে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
আরটিভি/এআর




