বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বরফাচ্ছাদিত অ্যান্টার্কটিকার জীববৈচিত্র্যকে চরম হুমকিতে ফেলেছে। আর এই তালিকায় প্রথম অবস্থানে আছে মহাদেশটির প্রধান আকর্ষণ পেঙ্গুইন।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নতুন এই গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু প্রজাতির পেঙ্গুইন তাদের প্রজনন সময়সূচি তিন সপ্তাহেরও বেশি এগিয়ে এনেছে যা তাদের টিকে থাকার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলের এ প্রাণীটি খুব শীঘ্রই বিলুপ্তির দিকে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।
এ গবেষণায় ২০১২ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পেঙ্গুইনের প্রজনন শুরুর সময় বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় অ্যাডেলি, চিনস্ট্র্যাপ ও জেন্টু এই তিন প্রজাতির পেঙ্গুইন অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গবেষণার প্রধান লেখক ড. ইগনাসিও হুয়ারেজ মার্টিনেজ বলেন, প্রজননের সময় যদি তাদের শিকার পর্যাপ্তভাবে পাওয়া না যায়, তাহলে জীবনের প্রথম কয়েক সপ্তাহে ছানাদের জন্য খাবারের সংকট দেখা দেবে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পেঙ্গুইনরা হয়ত কিছুটা সময়ের জন্য পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে, কিন্তু দীর্ঘদিন এভাবে টিকে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে জেন্টু পেঙ্গুইনের মধ্যে। গত এক দশকে তাদের প্রজনন সময় গড়ে ১৩ দিন এগিয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা ২৪ দিন পর্যন্তও এগিয়েছে।
গবেষকদের মতে, এটি কোনো পাখির-এমনকি সম্ভবত কোনো মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে দ্রুত সময়গত পরিবর্তন। অপর এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা সেখানে কার্বন দূষণের প্রমাণ পেয়েছেন। জীবাশ্ম জ্বালানির কালো ধোয়া দেখা গেছে। তাদের মতে, অ্যান্টার্কটিকায় সামান্যতম দূষণ সেখানকার বরফ গলাসহ অন্যান্য বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরটিভি/এমআই/এসআর




