ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

অস্তিত্ব সংকটে অ্যান্টার্কটিকার পেঙ্গুইন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে অ্যান্টার্কটিকার পেঙ্গুইন। ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বরফাচ্ছাদিত অ্যান্টার্কটিকার জীববৈচিত্র্যকে চরম হুমকিতে ফেলেছে। আর এই তালিকায় প্রথম অবস্থানে আছে মহাদেশটির প্রধান আকর্ষণ পেঙ্গুইন।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নতুন এই গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু প্রজাতির পেঙ্গুইন তাদের প্রজনন সময়সূচি তিন সপ্তাহেরও বেশি এগিয়ে এনেছে যা তাদের টিকে থাকার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলের এ প্রাণীটি খুব শীঘ্রই বিলুপ্তির দিকে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।

আরও পড়ুন

এ গবেষণায় ২০১২ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পেঙ্গুইনের প্রজনন শুরুর সময় বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় অ্যাডেলি, চিনস্ট্র্যাপ ও জেন্টু এই তিন প্রজাতির পেঙ্গুইন অন্তর্ভুক্ত ছিল।

গবেষণার প্রধান লেখক ড. ইগনাসিও হুয়ারেজ মার্টিনেজ বলেন, প্রজননের সময় যদি তাদের শিকার পর্যাপ্তভাবে পাওয়া না যায়, তাহলে জীবনের প্রথম কয়েক সপ্তাহে ছানাদের জন্য খাবারের সংকট দেখা দেবে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, পেঙ্গুইনরা হয়ত কিছুটা সময়ের জন্য পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে, কিন্তু দীর্ঘদিন এভাবে টিকে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে জেন্টু পেঙ্গুইনের মধ্যে। গত এক দশকে তাদের প্রজনন সময় গড়ে ১৩ দিন এগিয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা ২৪ দিন পর্যন্তও এগিয়েছে।

গবেষকদের মতে, এটি কোনো পাখির-এমনকি সম্ভবত কোনো মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে দ্রুত সময়গত পরিবর্তন। অপর এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা সেখানে কার্বন দূষণের প্রমাণ পেয়েছেন। জীবাশ্ম জ্বালানির কালো ধোয়া দেখা গেছে। তাদের মতে, অ্যান্টার্কটিকায় সামান্যতম দূষণ সেখানকার বরফ গলাসহ অন্যান্য বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরটিভি/এমআই/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
আরও পড়ুন
অ্যান্টার্কটিকায় ২০০ বছরের পুরোনো দেহাবশেষ নিয়ে যা জানা গেল
বরফের গভীরে মিলল হারিয়ে যাওয়া এক ‘পৃথিবী’!