ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

মদ্যপান না করেও মাতাল হওয়ার কারণ খুঁজে পেলেন গবেষকেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, অটোব্রুয়ারি সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ইথানল-উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়া এসচেরিচিয়া কোলাই-এর মাত্রা বেশি থাকে। ছবি সংগৃহীত

কল্পনা করুন এমন এক ব্যক্তির কথা, যিনি গত এক দশকে মদের দোকানেও পা রাখেননি। অথচ এক বাটি ভাত কিংবা আলুর চপ খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার কথা জড়িয়ে আসছে, চোখ লাল হয়ে যাচ্ছে এবং হাঁটাচলায় ভারসাম্য হারাচ্ছেন। চারপাশের মানুষ ভাবছে তিনি মদ্যপ, অথচ তিনি জানেন ই না তার রক্তে মিশে যাওয়া এই বিষের উৎস কোনো মদের বোতল নয়, বরং তার নিজের অন্ত্রেই তৈরি করছে! চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘অটো-ব্রুয়ারি সিনড্রোম’ নামক এই অদ্ভুত রোগটি যেন কোনো রহস্যজনক স্থান থেকে উঠে আসা এক বাস্তবতা হয়ে দাড়িয়েছিল চিকিৎসকদের কাছে।

উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে চিকিৎসকরা এমন রোগীর বর্ণনা দিলেও দীর্ঘকাল ধরে এর জন্য দায়ী করা হতো অন্ত্রের অতিরিক্ত ছত্রাক বা ফাঙ্গাসকে। ধারণা ছিল, ছত্রাক শর্করাকে গেঁজিয়ে মদ তৈরি করে। কিন্তু সম্প্রতি ‘নেচার মাইক্রোবায়োলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় গবেষণাটি এক ভিন্ন সত্য উন্মোচন করেছে। গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, এই রোগের মূল হোতা আসলে ব্যাকটেরিয়া, বিশেষ করে উচ্চমাত্রায় অ্যালকোহল তৈরি করতে সক্ষম ‘ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়া’ এবং ‘এশেরিকিয়া কোলাই’।

আরও পড়ুন

বেইজিংয়ের ক্যাপিটাল ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক্সের মাইক্রোবায়োলজিস্ট জিং ইউয়ান জানান, নতুন এই গবেষণাটি কয়েক দশকের পুরনো ‘ছত্রাক তত্ত্ব’ বাতিল করার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ হাজির করেছে। গবেষকদের মতে, এটি মূলত ব্যাকটেরিয়াজনিত ইথানল ফারমেন্টেশনের ফলাফল।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট বের্ন্ড শ্নাবল বলেন, এই রোগটি পরিবারগুলোর জন্য এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। এমনকি ডাক্তাররাও বিশ্বাস করেন না যখন রোগীরা বলেন যে তারা মদ্যপান করেননি। অনেক ক্ষেত্রে দিনের বেলা মাতাল থাকার অপবাদে রোগীরা চাকরি হারান। একজন তরুণীর কথা জানা যায়, যিনি সাধারণ গ্লুকোজ খাওয়ার পরই মাতাল হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্তের মতো পড়ে গিয়েছিলেন। চিকিৎসকরা যখন কড়া নজরদারিতে পরীক্ষা করেন, তখন দেখা যায় মদ্যপান ছাড়াই তাদের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা বিপদসীমা ছাড়িয়ে গেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সুস্থ মানুষের অন্ত্রে যে সামান্য অ্যালকোহল তৈরি হয় তা দেহ শোষণ করে নেয়। কিন্তু এই সিনড্রোমে আক্রান্তদের পেটে ব্যাকটেরিয়ার এমন এক ‘ককটেল’ তৈরি হয় যা লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করে, এমনকি লিভার সিরোসিস পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে। অদ্ভুত বিষয় হলো, আক্রান্তদের অন্ত্রে পাওয়া এই ব্যাকটেরিয়াগুলো কেবল মদই তৈরি করে না, বরং লিভারের অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যার জন্যও দায়ী।

বর্তমানে এই রোগে আক্রান্তদের অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের পাশাপাশি চিনি ও শর্করা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো অন্ত্রের অ্যালকোহল উৎপাদনকারী অণুজীবগুলোর খাদ্যের জোগান বন্ধ করা। তবে নতুন এই আবিষ্কারের ফলে এখন অন্ত্রের অণুজীবের বিপাক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে আরও কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে। বছরের পর বছর ধরে হঠাৎ মাতাল হওয়ার আতঙ্কে থাকা রোগীদের জন্য বিজ্ঞানের এই নতুন মোড় এক বড় স্বস্তি হয়ে উঠতে পারে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মানবসভ্যতার আগেই কি পৃথিবীতে এসেছিল ভিনগ্রহীরা? কৌতূহল জাগায় যেসব বৈজ্ঞানিক সূত্র
মানবসভ্যতা গড়ে ওঠার আগে পৃথিবীতে ভিনগ্রহীদের আগমনের কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি। তবে পৃথিবীর প্রাচীন নিদর্শন সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতা এবং অন্য নক্ষত্র থেকে সৌরজগতে বস্তু প্রবেশের ঘটনা এ সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণার সুযোগ রাখছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
মানবসভ্যতার আগেই কি পৃথিবীতে এসেছিল ভিনগ্রহীরা? কৌতূহল জাগায় যেসব বৈজ্ঞানিক সূত্র
বাংলাদেশের আকাশে চলতি মাসেই দেখা যাবে ৫ মহাজাগতিক দৃশ্য 
চলতি অক্টোবরে বাকি ১৩ দিনে দারুণ কিছু মহাজাগতিক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে বাংলাদেশের আকাশে।
বাংলাদেশের আকাশে চলতি মাসেই দেখা যাবে ৫ মহাজাগতিক দৃশ্য 
মহাকাশে প্রথম সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান, গবেষণায় নতুন মোড়
শ্বেত বামন নক্ষত্র নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে মানুষের চোখে সবুজ দেখায়, এমন একটি নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
মহাকাশে প্রথম সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান, গবেষণায় নতুন মোড়
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
আরও পড়ুন
মাগুরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু
টানা তৃতীয়বার বিশ্বসেরা ২% গবেষক তালিকায় বেরোবির ড. ফেরদৌস
নজরুলের দর্শন আধুনিক ভূ-রাজনৈতিক অবক্ষয়ের মহৌষধ: মার্কিন গবেষক
বাড়িতে প্রেমিককে নিয়ে মায়ের মদ্যপান, দেখে যে কান্ড ঘটালো ছেলে