ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

কীভাবে তৈরি হয় ঝিনুকের খোলস?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্রসৈকতে হাঁটতে গিয়ে প্রায়ই আমাদের চোখে পড়ে নানা রঙের অসংখ্য ঝিনুক ও শামুকের খোলস। কখনো সেগুলো রঙিন, কখনো ফ্যাকাসে সাদা, কখনো আবার ভাঙাচোরা। শিশুরা এগুলো কুড়িয়ে নেয় খেলনার মতো, বড়রা রাখে স্মারক হিসেবে। কিন্তু খুব কম মানুষই জানে এই ঝিনুকের খোলস আসলে কীভাবে তৈরি হয়, কোথা থেকে আসে?

ঝিনুকের খোলস মূলত এক ধরনের কঙ্কাল। মানুষ ও স্থলজ প্রাণীর কঙ্কাল থাকে শরীরের ভেতরে, কিন্তু ঝিনুক, শামুক, স্ক্যালপসহ সামুদ্রিক মোলাস্ক প্রাণীদের কঙ্কাল থাকে শরীরের বাইরে। একে বলা হয় বহিঃকঙ্কাল।

এই খোলস তাদের নরম দেহকে শিকারি প্রাণী, পরিবেশগত পরিবর্তন এবং ঢেউয়ের আঘাত থেকে রক্ষা করে। একই সঙ্গে এটি পেশি সংযুক্ত করার একটি শক্ত কাঠামো হিসেবেও কাজ করে। অনেক ঝিনুক এই খোলস ব্যবহার করেই চলাফেরা করে বা বালুর নিচে দ্রুত লুকিয়ে পড়ে।

ঝিনুকের খোলস তৈরির প্রক্রিয়াকে বলা হয় জৈব খনিজকরণ। সমুদ্রের পানি থেকে ঝিনুক ক্যালসিয়াম কার্বনেট সংগ্রহ করে ধীরে ধীরে শক্ত খোলস তৈরি করে। এই খনিজই চুনাপাথরের প্রধান উপাদান।

আরও পড়ুন

প্রতিটি প্রজাতির ঝিনুকের খোলসের গঠন আলাদা। কেউ গোলাকার, কেউ লম্বাটে, কেউ আবার ঢেউখেলানো নকশার। পৃথিবীতে বর্তমানে ৫০ হাজারেরও বেশি মোলাস্ক প্রজাতি রয়েছে, যার ফলে সমুদ্রসৈকতে খোলসের রঙ ও আকৃতির বিশাল বৈচিত্র্য দেখা যায়।

যখন ঝিনুক মারা যায়- তখন এর নরম দেহ পচে যায়, কিন্তু শক্ত খোলস রয়ে যায়। সাগরের ঢেউ ও স্রোতের টানে সেই খোলস ভেসে উঠে আসে তীরে। অনেক খোলস আবার সমুদ্রতলের পলির নিচে চাপা পড়ে থাকে। পরে হাজার হাজার বছর ধরে চাপ ও সময়ের প্রভাবে পলি শক্ত পাথরে রূপ নেয়, আর সেই খোলস পরিণত হয় জীবাশ্মে। বিজ্ঞানীদের মতে, সামুদ্রিক খোলসই পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি দেখা জীবাশ্মগুলোর একটি।

ঝিনুকের খোলস শুধু সৌন্দর্যের বস্তু নয় এগুলো ইতিহাসের দলিল। বিজ্ঞানীরা কার্বন ডেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে খোলসের বয়স নির্ধারণ করেন। খোলসে থাকা রেডিওকার্বনের পরিমাণ সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে কমে যায়। সেই হিসাব করেই জানা যায়- একটি খোলস শত বছরের পুরোনো নাকি হাজার বছরের।

গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক সমুদ্রসৈকতে পাওয়া ঝিনুকের খোলস কয়েক শতাব্দী এমনকি কয়েক হাজার বছর আগেরও হতে পারে।

ঝিনুকের খোলস আমাদের শুধু বয়স নয়, অতীতের পরিবেশের কথাও জানায়। খোলসের ভেতরের রাসায়নিক উপাদান বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন-তখন সমুদ্রের তাপমাত্রা কেমন ছিল, পানিতে লবণের মাত্রা কত ছিল, এমনকি জলবায়ু পরিবর্তনের চিহ্নও ধরা পড়ে।

সমুদ্রতীরে পড়ে থাকা একটি ছোট ঝিনুকের খোলসের ভেতর লুকিয়ে থাকে হাজার বছরের গল্প। এটি আমাদের শেখায় প্রকৃতির ধৈর্য, সময়ের শক্তি আর জীবনের বিস্ময়কর অভিযোজন ক্ষমতা।

পরেরবার সমুদ্রসৈকতে গেলে যখন একটি খোলস কুড়িয়ে নেবেন, মনে রাখবেন- আপনার হাতে ধরা সেই ছোট্ট বস্তুটি হয়ত বহন করছে পৃথিবীর বহু পুরোনো ইতিহাস।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
আরও পড়ুন
সমুদ্রসৈকত থেকে উদ্ধার হলো রহস্যজনক জুতো