ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

মহাকাশ থেকে আশ্চর্য ক্ষমতা নিয়ে ফিরল জীবাণু

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
একটি ত্রিডি (3D) ডিজিটাল গ্রাফিক- যেখানে একটি ফেজকে ব্যাকটেরিয়ার বিশাল এবং লোমশ পৃষ্ঠের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) থেকে পৃথিবীতে ফিরেছে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াভর্তি একটি বিশেষ গবেষণা বাক্স। বিজ্ঞানীদের দাবি, মহাকাশের পরিবেশে থাকা অবস্থায় এসব অণুজীবের মধ্যে এমন পরিবর্তন ঘটেছে, যা ভবিষ্যতে ওষুধ-প্রতিরোধী সংক্রমণ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয় এবং বায়োটেক প্রতিষ্ঠান রোডিয়াম সায়েন্টিফিকের গবেষকরা পরীক্ষার জন্য ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া ও তাদের প্রাকৃতিক শত্রু টি৭ ব্যাকটেরিওফেজ ভাইরাসকে মহাকাশে পাঠান। এ দুই অণুজীবের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই এক ধরনের ‘বিবর্তনীয় লড়াই’ চললেও, শূন্য মাধ্যাকর্ষণ বা মাইক্রোগ্র্যাভিটির পরিবেশে তাদের আচরণ আগে কখনো পরীক্ষা করা হয়নি। ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো এই ব্যতিক্রমী গবেষণা শুরু হয়।

গবেষণার অংশ হিসেবে মহাকাশ স্টেশনে টানা ২৫ দিন বিভিন্ন পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া ও ফেজ ভাইরাসকে ইনকিউবেট করা হয়। একই সময় পৃথিবীতেও সমান্তরালভাবে একই পরীক্ষা চালান গবেষকরা- যাতে দুই পরিবেশের পার্থক্য তুলনা করা যায়।

গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মহাকাশে ফেজ ও ব্যাকটেরিয়ার পারস্পরিক আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। সংক্রমণের গতি ধীর হয়ে আসে এবং তাদের বিবর্তনের পথ পৃথিবীর তুলনায় ভিন্ন রূপ নেয়।

মাইক্রোগ্র্যাভিটির প্রভাবে ব্যাকটেরিয়ার স্ট্রেস মোকাবিলা ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন জিনে পরিবর্তন দেখা যায়। পাশাপাশি তাদের পৃষ্ঠের প্রোটিনেও রূপান্তর ঘটে। শুরুতে ফেজ ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা কিছুটা কমে গেলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারাও অভিযোজন ঘটিয়ে নতুনভাবে ব্যাকটেরিয়ার গায়ে আটকে সংক্রমণ চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

আরও পড়ুন

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- মহাকাশে বিবর্তিত কিছু ফেজ ভাইরাস পৃথিবীতে মূত্রনালির সংক্রমণ (ইউটিআই) সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে বিশেষভাবে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে ইউটিআইয়ের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার ৯০ শতাংশের বেশি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। এ কারণে ফেজ থেরাপিকে বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গবেষকদের ভাষ্য, মহাকাশে সৃষ্ট এই জৈবিক অভিযোজন বিশ্লেষণ করে আমরা এমন ফেজ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি, যা পৃথিবীতে ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুর বিরুদ্ধে অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে।

এই গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী পিএলওএস বায়োলজি-তে প্রকাশিত হয়েছে। সূত্র: ইয়াহু

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
আরও পড়ুন
চাঁদে যাচ্ছে পাকিস্তানের চন্দ্রযান ‘জিন্নাহ-১’
মহাকাশে বাবা, সন্তানের জন্ম হবে পৃথিবীতে 
মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মহড়া, বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হচ্ছে নতুন মহাকাশ একাডেমি